রাজশাহীর বিখ্যাম্বর ফল আমের মৌসুম হোক কিংবা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার তাড়া, ঢাকা থেকে রাজশাহী যাত্রীদের অন্যতম পছন্দের পরিবহন মধুমতি এক্সপ্রেস। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি দূর করে এই ট্রেন যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয় আরামে ও নিরাপদে। কিন্তু আপনি কি জানেন ২০২৬ সালের জন্য এই ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচী ও টিকেটের ভাড়া কত নির্ধারণ করা হয়েছে? অনেক যাত্রী পুরনো তথ্য দেখে শেষ মুহূর্তে বিভ্রান্তিতে পড়েন। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬, বিস্তারিত স্টেশন তালিকা, শনিবার ছাড়া বাকি দিনের ভাড়া এবং টিকেট সংগ্রহের সহজ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত এই ট্রেনটি যেসব স্টেশনে থামে, তার নাম এবং ছাড়ার সঠিক সময়ও জেনে নিতে পারেন এখান থেকে।
আন্তঃনগর এই ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা থেকে রাজশাহী জংশন স্টেশন এবং রাজশাহী থেকে আবার ঢাকায় ফিরে আসে। এটি পদ্মা সেতু হয়ে যাত্রা করায় সময় অনেক কমেছে, ফলে যাত্রীরা দ্রুত ও আরামে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। যাত্রাপথে এটি প্রায় ২২টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। চলুন, তাহলে আর দেরি না করে ২০২৬ সালের নতুন শিডিউল এবং ভাড়ার খুঁটিনাটি জেনে নেই।
আরও জানতে পারেনঃ দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ (ঢাকা টু রাজশাহী)
২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, মধুমতি এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৫৫) ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে। এই ট্রেনটির সময়সূচী এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যাত্রীরা বিকেলে ঢাকা ছেড়ে রাতেই রাজশাহী পৌঁছে যেতে পারেন।
মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫) ঢাকা ছাড়ার সময়: বিকাল ০৩:০০ টায়।
ঢাকা কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ট্রেনটি মাওয়া, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে রাজশাহী পৌঁছায়। নিচের টেবিলে ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটের বিস্তারিত স্টেশন এবং সময় দেওয়া হলো:
| স্টেশনের নাম | আগমনের সময় (নির্দেশিত) | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|
| ঢাকা কমলাপুর | —- | বিকাল ০৩:০০টা |
| মাওয়া | বিকাল ০৩:৩৬টা | বিকাল ০৩:৩৭টা |
| পদ্মা | বিকাল ০৩:৫১টা | বিকাল ০৩:৫২টা |
| শিবচর | বিকাল ০৪:০৩টা | বিকাল ০৪:০৪টা |
| ভাঙ্গা | বিকাল ০৪:৩০টা | বিকাল ০৪:৩১টা |
| পাকুরিয়া | বিকাল ০৪:৪৫টা | বিকাল ০৪:৪৬টা |
| তালমা | বিকাল ০৪:৫০টা | বিকাল ০৪:৫১টা |
| ফরিদপুর | সন্ধ্যা ০৫:০৩টা | সন্ধ্যা ০৫:০৫টা |
| আমিরাবাদ | সন্ধ্যা ০৫:১৮টা | সন্ধ্যা ০৫:১৯টা |
| পাচুরিয়া | সন্ধ্যা ০৫:৩৫টা | সন্ধ্যা ০৫:৩৬টা |
| কালুখালি | সন্ধ্যা ০৬:২৩টা | সন্ধ্যা ০৬:২৪টা |
| পাংশা | সন্ধ্যা ০৬:৩৫টা | সন্ধ্যা ০৬:৩৬টা |
| খোকসা | সন্ধ্যা ০৬:৫২টা | সন্ধ্যা ০৬:৫৩টা |
| কুমারখালি | সন্ধ্যা ০৭:২২টা | সন্ধ্যা ০৭:২৩টা |
| কুষ্টিয়া কোর্ট | সন্ধ্যা ০৭:৩৬টা | সন্ধ্যা ০৭:৩৭টা |
| পোড়াদহ | সন্ধ্যা ০৭:৪৫টা | সন্ধ্যা ০৭:৪৬টা |
| মিরপুর | রাত ০৮:২০টা | রাত ০৮:২১টা |
| ভেড়ামারা | রাত ০৮:৩২টা | রাত ০৮:৩৩টা |
| পাকশি | রাত ০৮:৪৭টা | রাত ০৮:৪৮টা |
| ঈশ্বরদী জংশন | রাত ০৯:০৫টা | রাত ০৯:০৭টা |
| রাজশাহী জংশন | রাত ১০:৩০টা | —- |
এই সময়সূচী ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেন কর্তৃপক্ষ সময় মেনে চলার চেষ্টা করে। তবে কোনো অনিবার্য পরিস্থিতিতে সময়ের পরিবর্তন হতে পারে।
রাজশাহী টু ঢাকা মধুমতি ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
অপরদিকে, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৫৬) সকালবেলা যাত্রা শুরু করে। এটি রাজশাহীবাসীকে ঢাকায় দুপুরের আগে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি চমৎকার ভ্রমণ ব্যবস্থা।
মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৬) রাজশাহী ছাড়ার সময়: সকাল ০৬:৪০ টায়।
রাজশাহী থেকে ছেড়ে এই ট্রেনটি ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর হয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটে চলে। নিচে রাজশাহী টু ঢাকা রুটের বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:
| স্টেশনের নাম | আগমনের সময় (নির্দেশিত) | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|
| রাজশাহী জংশন | —- | সকাল ০৬:৪০টা |
| ঈশ্বরদী জংশন | সকাল ০৮:০০টা | সকাল ০৮:০২টা |
| পাকশি | সকাল ০৮:১২টা | সকাল ০৮:১৩টা |
| ভেড়ামারা | সকাল ০৮:২৭টা | সকাল ০৮:২৮টা |
| মিরপুর | সকাল ০৮:৩৯টা | সকাল ০৮:৪০টা |
| পোড়াদহ | সকাল ০৯:১০টা | সকাল ০৯:১১টা |
| কুষ্টিয়া কোর্ট | সকাল ০৯:২৫টা | সকাল ০৯:২৬টা |
| কুমারখালি | সকাল ০৯:৪৪টা | সকাল ০৯:৪৫টা |
| খোকসা | সকাল ১০:০৩টা | সকাল ১০:০৪টা |
| পাংশা | সকাল ১০:২০টা | সকাল ১০:২১টা |
| কালুখালি | সকাল ১০:৩১টা | সকাল ১০:৩২টা |
| রাজবাড়ী | সকাল ১১:০৫টা | সকাল ১১:০৬টা |
| পাচুরিয়া | সকাল ১১:২০টা | সকাল ১১:২১টা |
| আমিরাবাদ | সকাল ১১:৩২টা | সকাল ১১:৩৩টা |
| ফরিদপুর | সকাল ১১:৪৯টা | সকাল ১১:৫১টা |
| তালমা | দুপুর ১২:১০টা | দুপুর ১২:১১টা |
| পাকুরিয়া | দুপুর ১২:২০টা | দুপুর ১২:২১টা |
| ভাঙ্গা | দুপুর ১২:৩০টা | দুপুর ১২:৩১টা |
| শিবচর | দুপুর ১২:৫০টা | দুপুর ১২:৫১টা |
| পদ্মা | দুপুর ০১:১৬টা | দুপুর ০১:১৭টা |
| মাওয়া | দুপুর ০২:০০টা | দুপুর ০২:০১টা |
| ঢাকা কমলাপুর | দুপুর ০২:৪৫টা | —- |
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন
যাত্রীদের মনে রাখতে হবে, এই ট্রেনটি সপ্তাহের সাত দিনই চলে না। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকা-রাজশাহী রুটের মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন প্রতি শনিবার বন্ধ থাকে। শনিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিন এই ট্রেন চলাচল করে। তাই আপনি যদি শনিবার ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে ঢাকা-রাজশাহী রুটের অন্যান্য ট্রেন যেমন সিল্কসিটি এক্সপ্রেস বা ধুমকেতু এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। টিকেট কাটার আগে অবশ্যই তারিখটি দেখে নেওয়া উচিত, কারণ শনিবার এই ট্রেনের টিকেট রেলওয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে না।
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট মূল্য (ভাড়া) ২০২৬
ভাড়া সবসময় যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৬ সালের জন্য মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট মূল্য আগের বছরের মতোই রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে রাজশাহী এবং রাজশাহী থেকে ঢাকার জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর ভাড়া নিচে উল্লেখ করা হলো। তবে মনে রাখবেন, অনলাইনে টিকেট কাটার সময় শোভন চেয়ার শ্রেণীতে ২০ টাকা এবং এসি শ্রেণীতে ৫০ টাকা অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়।
রাজশাহী টু ঢাকা ভাড়ার তালিকা:
| ভ্রমণ পথ | শোভন চেয়ার (টাকা) | এসি স্লিপার/এসি সিট (টাকা) |
|---|---|---|
| রাজশাহী – ঢাকা | ৫৮৫ | ১৩৪০ |
| রাজশাহী – মাওয়া | ৫৩৫ | ১২২৫ (প্রায়) |
| রাজশাহী – ফরিদপুর | ২৮৫ | ৬৫০ |
| রাজশাহী – রাজবাড়ী | ২৪৫ | ৫৫৮ |
| রাজশাহী – কুষ্টিয়া কোর্ট | ১৭৫ | ৪০৩ |
| রাজশাহী – ঈশ্বরদী | ৭৫ | ১৬৭ |
একইভাবে, ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকেট মূল্য ও একই। ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫৮৫ টাকা এবং এসি শ্রেণীর ভাড়া ১৩৪০ টাকা। আপনি যদি মাঝপথের কোনো স্টেশনে ওঠেন, তবে সেই দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া কম হবে। যেমন ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাড়া শোভন চেয়ারে ৩২০ টাকার মতো।
টিকেট সংগ্রহের সহজ উপায়
বর্তমানে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট সংগ্রহের সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায় হলো অনলাইন পদ্ধতি। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে আপনি খুব সহজেই টিকেট কাটতে পারেন।
প্রথমে ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
‘ফ্রম’ সেকশনে ঢাকা (ঢাকা থেকে যাত্রা করলে) এবং ‘টু’ সেকশনে রাজশাহী সিলেক্ট করুন।
যাত্রার তারিখ এবং যাত্রী সংখ্যা দিয়ে ‘সার্চ ট্রেন’ বাটনে ক্লিক করুন।
সেখানে মধুমতি এক্সপ্রেস দেখতে পাবেন, পছন্দের কোচ (শোভন/এসি) সিলেক্ট করে আসন বেছে নিন।
বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
পেমেন্ট শেষে আপনি একটি ই-টিকেট পাবেন, যা প্রিন্ট করে নিতে পারেন বা মোবাইলে স্ক্রিনশট রেখে দিতে পারেন।
ট্রেন ছাড়ার ৭ দিন আগ থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করে টিকেট কেটে রাখলে ভালো আসন পাওয়া নিশ্চিত হয়।
আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকেট মূল্য কত?
ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট মূল্য শোভন চেয়ার শ্রেণীতে ৫৮৫ টাকা এবং এসি শ্রেণীতে ১৩৪০ টাকা। অনলাইনে কাটলে শোভনে ২০ টাকা এবং এসিতে ৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়।
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে?
ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটে ট্রেনটি মাওয়া, পদ্মা, শিবচর, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কালুখালি, কুষ্টিয়া কোর্ট, পোড়াদহ, মিরপুর, ভেড়ামারা, পাকশি, ঈশ্বরদী সহ মোট প্রায় ২২টি স্টেশনে থামে।
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন কোনটি?
আন্তঃনগর এই ট্রেনটি প্রতি শনিবার বন্ধ থাকে। শনিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ট্রেন চলাচল করে।
মধুমতি এক্সপ্রেসের ৭৫৬ নম্বর ট্রেনটি রাজশাহী থেকে কতটায় ছাড়ে?
রাজশাহী টু ঢাকা মধুমতি ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ অনুযায়ী, ৭৫৬ নম্বর ট্রেনটি রাজশাহী জংশন থেকে সকাল ০৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কিভাবে কাটব?
আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে টিকেট কাটতে পারেন। এছাড়া কমলাপুর বা রাজশাহী স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন।
শেষ কথা
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নির্ভরযোগ্যতার কথা মাথায় রেখে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে গাড়ির চাপ ও দীর্ঘ পথের ক্লান্তি এড়ানোর জন্য ট্রেনই সেরা বিকল্প। পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলের কারণে এই ট্রেনের ভ্রমণ সময় এখন আরও কমেছে, যা যাত্রীদের জন্য বড় একটি প্লাস পয়েন্ট। আপনি যদি রাজশাহী যেতে চান, তবে এই ট্রেনটি আপনার ভ্রমণকে করবে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী। টিকেটের ভাড়া ও সময়সূচী জেনে আগে থেকে পরিকল্পনা করে টিকেট কেটে ফেলুন। কারণ নির্দিষ্ট দিনে টিকেট সহজে পাওয়া নাও যেতে পারে। বিশেষ করে শুক্রবার ও ছুটির দিনে যাত্রীদের ভিড় বেশি থাকে। শনিবার এই ট্রেন বন্ধ থাকে, তাই সেই দিনের জন্য বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থা করে নিন।
আশা করি আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য উপকারী হয়েছে। ২০২৬ সালে আপনার ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও নির্বিঘ্ন। সময়মতো ট্রেন ধরতে স্টেশনে আগেভাগে পৌঁছে যাবেন, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখবেন। এই রকম আরও প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন






