উল্লাপাড়া টু বগুড়া যেতে একটিমাত্র ট্রেন আছে। নাম লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)। রাত ১২টা ৫৩ মিনিটে ট্রেনে চড়ে বসুন। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে পৌঁছে যাবেন বগুড়ায়। উল্লাপাড়া টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে ভ্রমণ অনেক সহজ হয়। ট্রেনটি অত্যন্ত আরামদায়ক ও দ্রুতগামী। লালমনি এক্সপ্রেস শুধু শুক্রবার চলে না। বাকি ছয় দিন নিয়মিত চলাচল করে। যাত্রার আগে জেনে রাখা ভালো। নিচে বিস্তারিত সময় ও ভাড়া দেওয়া আছে।
উল্লাপাড়া টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী
উল্লাপাড়া থেকে বগুড়া রুটে বর্তমানে লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১) একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন। ট্রেনটি রাতের দিকে ছেড়ে ভোর বেলায় গন্তব্যে পৌঁছে। যাত্রীদের জন্য খুব আরামদায়ক এই ট্রেন:
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | সাপ্তাহিক ছুটির দিন | উল্লাপাড়া ছাড়ার সময় | বগুড়া পৌঁছানোর সময় | মোট ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|
| লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১) | শুক্রবার (সাপ্তাহিক বন্ধ) | রাত ১২:৫৩ (০০:৫৩) (মধ্যরাত ১২টা ৫৩ মিনিট) | সকাল ০৪:৩০ (০৪:৩০) | প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট |
উল্লাপাড়া থেকে বগুড়া পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার। লালমনি এক্সপ্রেস এই পথ পাড়ি দেয় মাত্র ৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটে। স্টেশনে থামা ও রাতের বেলায় সিগন্যালের কারণে মাঝেমধ্যে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
উল্লাপাড়া টু বগুড়া ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী টিকেটের মূল্য নির্ধারিত হয়। আসন বিভাগ অনুযায়ী ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে উল্লাপাড়া থেকে বগুড়া রুটের বিভিন্ন শ্রেণির টিকেটের মূল্য (১৫% ভ্যাটসহ) দেওয়া হলো।
| আসন বিভাগ | টিকেটের মূল্য (টাকা) | সুবিধা |
|---|---|---|
| শোভন (Shovon) | ১৫৫ | সাধারণ সিট, সংরক্ষিত বগি |
| শোভন চেয়ার (Shovon Chair) | ১৯০ | হেলান দেওয়া চেয়ার, তুলনামূলক আরাম |
| প্রথম সিট (1st Seat) | ২৫০ | প্রশস্ত সিট, কম ভিড় |
| প্রথম বার্থ (1st Berth) | ৩৭৫ | শোয়ার ব্যবস্থা, রাতের যাত্রায় আরামদায়ক |
| স্নিগ্ধা (Snigdha) | ৩১০ | এসি ছাড়া প্রিমিয়াম সেবা, খাবারের ব্যবস্থা |
| এসি সিট (AC Seat) | ৩৭৫ | শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ৫৬০ | এসি ও শোয়ার সুবিধা একসঙ্গে |
রাতের যাত্রায় প্রথম বার্থ বা এসি বার্থ নেওয়াটা খুবই আরামদায়ক। তাহলে সকালে বগুড়া পৌঁছে ক্লান্ত লাগবে না। বাজেট কম থাকলে শোভন চেয়ার বা শোভন সিটও বেশ ভালো মানের।
টিকেট সংগ্রহের নিয়ম ও পরামর্শ
উল্লাপাড়া স্টেশন থেকে সরাসরি টিকেট কাটতে পারেন। স্টেশনের টিকেট কাউন্টার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কিন্তু আন্তঃনগর ট্রেনের আসন আগেই শেষ হয়ে যায়। তাই অনলাইনে টিকেট কাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
অনলাইন টিকেটের ধাপ:
- eticket.railway.gov.bd সাইটে ঢুকুন
- মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন (যদি আগে না খোলা থাকে)
- ফ্রম বক্সে উল্লাপাড়া, টু বক্সে বগুড়া দিন
- তারিখ ও ট্রেন (লালমনি এক্সপ্রেস) নির্বাচন করুন
- আসন পছন্দ করে বিকাশ, নগদ বা রকেটে পেমেন্ট করুন
যাত্রার অন্তত ৭-১০ দিন আগে টিকেট কাটলে আসন পাওয়া নিশ্চিত হয়। ঈদ বা দীর্ঘ ছুটির আগে আরও আগে বুকিং দেওয়া দরকার। অনলাইন টিকেটে সার্ভিস চার্জ ২০ টাকা লাগতে পারে। অনলাইন টিকেটের প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখা ভালো। ভুলে গেলে ইমেইলের স্ক্রিনশট দেখিয়েও চড়া যায়। তবে প্রিন্ট কপি থাকলে টিকেট চেকারের ঝামেলা কম হয়।
উল্লাপাড়া স্টেশন ও যাত্রার প্রস্তুতি
উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। রাতের ট্রেন ধরতে হলে স্টেশনে একটু আগে পৌঁছে যাওয়া ভালো। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করুন। রাতের বেলায় স্টেশনে আলো কম থাকে। তাই নিজের জিনিসপত্রের দিকে বিশেষ নজর রাখুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও এনআইডি সঙ্গে রাখুন। ট্রেনে খাবারের ক্যারিজ থাকে না। তাই রাতের যাত্রায় খাবার সঙ্গে নিয়ে নেওয়া ভালো।
আরও জেনে নিনঃ উল্লাপাড়া টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী
বগুড়া পৌঁছে ঘোরার জায়গা
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন শহরের কাছাকাছি। সেখান থেকে রিক্সা, সিএনজি বা বাসযোগে সহজেই যেকোনো স্থানে যাওয়া যায়। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে স্টেশনে নামলে একটু অপেক্ষা করতে হবে। কারণ তখনো ভোর হয়নি। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় যানবাহন পাওয়া যায়। বগুড়ার প্রধান আকর্ষণ মহাস্থানগড়, যা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া বেহুলার বাসর, গোকুল মেধ ও খোদার পাথর ভবন ঘুরে দেখতে পারেন। বগুড়া শহরের বিখ্যাত দই খেতে ভুলবেন না।
উল্লাপাড়া টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
উল্লাপাড়া টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচীতে লালমনি এক্সপ্রেস ছাড়া আর কোনো ট্রেন আছে?
না। বর্তমানে এই রুটে লালমনি এক্সপ্রেসই একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন। মেইল ট্রেনের সংখ্যা কম। তবে রংপুর বা বুড়িমারী এক্সপ্রেস উল্লাপাড়ায় থামে না।
লালমনি এক্সপ্রেস কোন দিন চলে না?
শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ট্রেনটি চলে না। সেদিন যাত্রা পরিকল্পনা করলে বসে থাকবেন।
শোভন চেয়ার আর প্রথম সিটের মধ্যে পার্থক্য কী?
শোভন চেয়ারে সিট হেলানো যায়। প্রথম সিটে সিট প্রশস্ত, কুশন ভালো এবং ভিড় তুলনামূলক কম। ভাড়া একটু বেশি।
২০২৬ সালে ট্রেনের ভাড়া বাড়ার কোনো সম্ভাবনা আছে?
বর্তমান ভাড়া গত এক বছরে অপরিবর্তিত। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশ রেলওয়ে সময়মতো ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
এসি বার্থে কি বিছানার ব্যবস্থা থাকে?
হ্যাঁ, এসি বার্থ কম্পার্টমেন্টে বালিশ ও চাদর দেওয়া হয়। ঘুমানোর জন্য বেশ আরামদায়ক। রাতের যাত্রায় এটি সবচেয়ে ভালো অপশন।
উল্লাপাড়া স্টেশন থেকে টিকেট কাটার সহজ উপায় কী?
স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকেট কাটা যায়। কিন্তু আসন পাওয়া দুষ্কর। অনলাইন টিকেট কাটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। eticket.railway.gov.bd সাইট থেকে কাটতে পারেন।
শেষ কথা
উল্লাপাড়া টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানা থাকলে ভ্রমণ পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়। লালমনি এক্সপ্রেস একটি নির্ভরযোগ্য ট্রেন, যা বেশিরভাগ সময় ঠিকমতো বগুড়া পৌঁছে দেয়। রাতের যাত্রায় আরাম চাইলে এসি বার্থ বা প্রথম বার্থ নেওয়াই ভালো। টিকেট কাটার সময় অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করুন। তাহলে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হবে না। নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রা হোক সবার।






