গফরগাঁও টু মোহনগঞ্জ রুটে চলাচলকারী একমাত্র ট্রেন হলো মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯)। সময়সূচী অনুযায়ী এই ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশন থেকে ছাড়ে দুপুর ০৩:২৪ মিনিটে এবং মোহনগঞ্জ পৌঁছায় সন্ধ্যা ০৬:৪০ মিনিটে। পুরো যাত্রাপথ শেষ হতে সময় লাগে ০৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট। ভাড়া শুরু হয় শোভন চেয়ারের জন্য ১৫০ টাকা থেকে আর স্নিগ্ধা ও এসি_এস শ্রেণির ভাড়া যথাক্রমে ২৮৮ ও ৩৪০ টাকা (ভ্যাটসহ)। নিচে বিস্তারিত সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা এবং টিকিট প্রাপ্যতা নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
গফরগাঁও টু মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের সময়সূচী
গফরগাঁও টু মোহনগঞ্জ পর্যন্ত ট্রেনযাত্রার প্ল্যান করার আগে সময়সূচীটা ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার। নিচে আপডেট সময় দেওয়া হলোঃ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯) |
| যাত্রার তারিখ | ২৫-জুলাই-২০২৬ |
| ছাড়ার স্টেশন | গফরগাঁও |
| ছাড়ার সময় | দুপুর ০৩:২৪ মিনিট |
| পৌঁছানোর স্টেশন | মোহনগঞ্জ |
| পৌঁছানোর সময় | সন্ধ্যা ০৬:৪০ মিনিট |
| মোট যাত্রাসময় | ০৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট |
যারা প্রথমবার এই রুটে যাতায়াত করছেন তাদের জন্য একটা কথা বলে রাখা ভালো। গফরগাঁও-মোহনগঞ্জ সেকশনে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা সাধারণত ভালো থাকে তবে বর্ষার মৌসুমে (জুলাই-আগস্ট) মাঝেমধ্যে সিগন্যাল বা লাইন সংক্রান্ত কারণে কিছুটা দেরি হতে পারে। তাই স্টেশনে অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে পৌঁছানো নিরাপদ।
আসনের ধরন ও ভাড়া কত?
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে মূলত তিন ধরনের আসন পাওয়া যায় স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি_এস এবং শোভন চেয়ার। প্রতিটি শ্রেণির ভাড়া ও প্রাপ্যতা ভিন্ন, নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ
| আসনের ধরন | ভাড়া (ভ্যাটসহ) | উপলব্ধ টিকিট (কাউন্টার + অনলাইন) |
|---|---|---|
| স্নিগ্ধা | ৳২৮৮ | ০ |
| এসি_এস | ৳৩৪০ | ০ |
| শোভন চেয়ার | ৳১৫০ | ১০ |
যারা আরামদায়ক ভ্রমণ চান তাদের জন্য পরামর্শ থাকবে টিকিট রিলিজ হওয়ার সময়টা খেয়াল রাখা কারণ পেমেন্ট ফেইলিউরের কারণে মাঝেমধ্যে বুক করা টিকিট আবার খালি হয়ে যায়।
টিকিট এখন কীভাবে বুক করবেন?
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকিট বুকিং মূলত দুইভাবে করা যায় অনলাইনে এবং স্টেশন কাউন্টারে। বর্তমানে অনেকেই একসাথে টিকিট বুক করার চেষ্টা করছেন তাই সিস্টেমে কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে অন্যান্য যাত্রীরাও টিকিট কেনার প্রক্রিয়ায় আছেন, ফলে পেমেন্ট ব্যর্থ হলে সেই আসনগুলো মাঝেমধ্যে আবার খালি হয়ে যেতে পারে।
অনলাইনে টিকিট কাটতে চাইলে যাত্রার তারিখ, ছাড়ার স্টেশন (গফরগাঁও) ও গন্তব্য স্টেশন (মোহনগঞ্জ) দিয়ে সার্চ করলেই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের (৭৮৯) সময়সূচী ও আসন প্রাপ্যতা দেখা যায়। প্রয়োজনে “Modify Search” অপশন ব্যবহার করে তারিখ আগে-পরে করেও দেখে নেওয়া যায় বিশেষ করে যদি নির্দিষ্ট দিনে পছন্দের শ্রেণিতে আসন না থাকে।
ট্রেন ভ্রমণ করার আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শোভন চেয়ারের মতো তুলনামূলক কম দামের আসনগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যায় তাই সম্ভব হলে যাত্রার অন্তত কয়েকদিন আগেই টিকিট নিশ্চিত করে রাখা ভালো। যাদের কাছে অনলাইন সিস্টেম জটিল মনে হয় তারা সরাসরি নিকটস্থ রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকিট কি এখন পাওয়া যাচ্ছে?
যদি নির্দিষ্ট দিনে পছন্দের শ্রেণিতে আসন না পান তাহলে “Prev. Day” বা “Next Day” অপশন ব্যবহার করে আগের বা পরের দিনের সময়সূচী ও আসন প্রাপ্যতা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক সময় একদিন আগে-পরে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত শ্রেণিতে আসন পাওয়া যায়।
ফোনে বা কাউন্টারে বুকিং করতে চাইলে কী করবেন?
যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য গফরগাঁও ও মোহনগঞ্জ উভয় স্টেশনেই কাউন্টার বুকিং সুবিধা চালু আছে। কাউন্টার থেকে টিকিট নিতে হলে যাত্রার তারিখ ও পছন্দের আসন শ্রেণি জানিয়ে সরাসরি কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। তবে মনে রাখা জরুরি কাউন্টার ও অনলাইনদুই মাধ্যমেই একই টিকিট পুলের আসন বিক্রি হয় তাই কাউন্টারে গিয়েও একই রকম প্রাপ্যতা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।
২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ যাত্রীই এখন অনলাইন সিস্টেমের দিকে ঝুঁকছেন, কারণ এতে বাড়িতে বসেই আসন প্রাপ্যতা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তবে যারা প্রবীণ যাত্রী বা ডিজিটাল লেনদেনে কম অভ্যস্ত, তাদের জন্য কাউন্টার বুকিং এখনো নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে রয়ে গেছে। গফরগাঁও-মোহনগঞ্জ ছাড়াও দেশের অন্যান্য রুটের সময়সূচী জানতে চাইলে লাকসাম টু চাঁদপুর ট্রেনের সময়সূচি দেখে নিতে পারেন।






