লাকসাম টু চাঁদপুর ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া জানা আছে কি আপনার? লাকসাম থেকে চাঁদপুর রুটে প্রতিদিন ৪টি ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ১টি আন্তঃনগর, ১টি মেইল এবং ২টি কমিউটার ট্রেন রয়েছে। সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন মেঘনা এক্সপ্রেস যা মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছে দেয়। এই রুটে ট্রেনের ভাড়া শুরু হয় মাত্র ৩০ টাকা থেকে যা সুলভ ২য় শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য। দূরত্ব মাত্র ৫২ কিলোমিটার হওয়ায় বাসের তুলনায় ট্রেন ভ্রমণ এই পথে অনেক বেশি আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী মনে করেন নিয়মিত যাত্রীরা।যারা প্রতিদিন কুমিল্লা অঞ্চল থেকে চাঁদপুরের দিকে যাতায়াত করেন তাদের কাছে লাকসাম জংশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। নিচে সম্পূর্ণ সময়সূচি, ভাড়ার তালিকা এবং যাত্রা সংক্রান্ত বাস্তব পরামর্শ ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলোঃ
লাকসাম থেকে চাঁদপুরগামী ট্রেনগুলোর সময়সূচি কী?
এই রুটে মোট চারটি ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে দুটি কমিউটার ট্রেন সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে। বাকি দুটি ট্রেন সপ্তাহের প্রতিদিনই চলে। নিচের ট্রেনগুলোর সময়সূচি তালিকায় প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার ও পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলোঃ
| ট্রেনের নাম | বন্ধের দিন | লাকসাম ছাড়ে | চাঁদপুর পৌঁছায় |
|---|---|---|---|
| মেঘনা এক্সপ্রেস (৭৩০) | নাই | রাত ৮.৩২ | রাত ১০.০০ |
| সাগরিকা এক্সপ্রেস (২৯) | নাই | সকাল ১১.১০ | দুপুর ১২.৫০ |
| চাঁদপুর কমিউটার (৮২) | শুক্রবার | সকাল ৭.২০ | সকাল ৯.০০ |
| চাঁদপুর কমিউটার (৮৪) | শুক্রবার | বিকাল ৩.০০ | বিকাল ৪.৫০ |
খেয়াল করলে দেখা যাবে, দিনের একেবারে শুরুতে অফিসগামী যাত্রীদের জন্য সকাল ৭.২০ মিনিটের চাঁদপুর কমিউটার (৮২) সবচেয়ে সুবিধাজনক। আবার যারা রাতের মধ্যে চাঁদপুর পৌঁছাতে চান,তাদের জন্য মেঘনা এক্সপ্রেস সবচেয়ে ভালো কারণ এটি সবচেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
মেঘনা এক্সপ্রেসে লাকসাম থেকে চাঁদপুর পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
মেঘনা এক্সপ্রেসে লাকসাম থেকে চাঁদপুর পৌঁছাতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। এটিই এই রুটের সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেন। যাদের হাতে সময় কম অথচ আরামে যাত্রা করতে চান তাদের জন্য এই ট্রেনটি প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। তবে এটি রাতের ট্রেন হওয়ায় দিনের বেলা যাতায়াতের জন্য উপযোগী নয়।
সাগরিকা এক্সপ্রেসে সময় কত লাগে?
সাগরিকা এক্সপ্রেসে চাঁদপুর পৌঁছাতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে লাকসাম থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছায়। যারা দুপুরের দিকে হালকা ব্যস্ততা নিয়ে যাত্রা করতে চান তাদের জন্য এই সময়টা বেশ মানানসই।
চাঁদপুর কমিউটারে সময় কত লাগে?
চাঁদপুর কমিউটার-১ ট্রেনে সর্বমোট সময় লাগে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং চাঁদপুর কমিউটার-২ ট্রেনে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। কমিউটার ট্রেন হওয়ায় পথে বেশ কয়েকটি স্টেশনে থামে বলে সময় কিছুটা বেশি লাগে। তবে ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় নিয়মিত যাত্রীদের কাছে এই ট্রেন এখনো জনপ্রিয়।
চাঁদপুর কমিউটার ট্রেনের অফ ডে কবে?
চাঁদপুর কমিউটার (৮২) এবং চাঁদপুর কমিউটার (৮৪) দুটি ট্রেনেরই সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার। এই দিন লাকসাম থেকে চাঁদপুরগামী কোনো কমিউটার ট্রেন চলাচল করে না। শুক্রবারে ভ্রমণের প্রয়োজন হলে মেঘনা এক্সপ্রেস বা সাগরিকা এক্সপ্রেসের উপর নির্ভর করতে হবে, কারণ এই দুটি ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই।
অনেক যাত্রী শুক্রবারে স্টেশনে গিয়ে কমিউটার না পেয়ে বিরক্ত হন। তাই যাত্রার আগের দিনই সময়সূচি একবার যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন সামনে থাকলে।
লাকসাম থেকে চাঁদপুর ট্রেনের ভাড়া কত?
যেহেতু এই রুটে মূলত কমিউটার ধরনের ট্রেন চলাচল করে, তাই টিকেটের ধরন সাধারণত শুভন শ্রেণীর হয়ে থাকে এবং তা কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হয়। নিচে আসনভেদে ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলোঃ
| আসনের ধরন | ভাড়া |
|---|---|
| এফ_সিট | ১০৪ টাকা |
| শুভন চেয়ার | ৬৫ টাকা |
| শুভন | ৫৫ টাকা |
| ২য় মেইল | ৩০ টাকা |
শুভন চেয়ার ভাড়া তুলনামূলক বেশি হলেও বসার আসন নিশ্চিত থাকে বলে অনেকে এটিই বেছে নেন। অন্যদিকে ২য় মেইল শ্রেণীর ভাড়া সবচেয়ে কম হওয়ায় স্বল্প বাজেটের যাত্রীদের কাছে এটি বেশি জনপ্রিয়। কমিউটার ট্রেনে অনলাইনে টিকেট না মিললে আগে থেকেই স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে টিকেট কেটে রাখা ভালো, কারণ শেষ মুহূর্তে ভিড়ের কারণে পছন্দের আসন নাও পেতে পারেন।
টিকেট কোথায় ও কীভাবে কাটবেন?
লাকসাম টু চাঁদপুর ট্রেনের টিকেট মূলত লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কমিউটার শ্রেণীর ট্রেন হওয়ায় এসব টিকেট সাধারণত অনলাইন সিস্টেমে সীমিত সংখ্যায় থাকে। তাই ভ্রমণের দিন সকালে বা আগের দিন কাউন্টারে গিয়ে টিকেট সংগ্রহ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। যাত্রার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছালে লাইনে দাঁড়িয়ে সময়মতো টিকেট পাওয়া যায়।
লাকসাম থেকে চাঁদপুর রুটে কোন কোন ট্রেন চলে?
এই রুটে সচরাচর চাঁদপুর কমিউটার-১ এবং চাঁদপুর কমিউটার-২ নামে দুটি কমিউটার ট্রেন চলাচল করে, পাশাপাশি মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেসও এই পথ ব্যবহার করে।
চাঁদপুর কমিউটার ট্রেন সম্পর্কে বিস্তারিত
চাঁদপুর কমিউটার (৮২/৮৪) বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি দ্রুতগতির বেসরকারি মালিকানাধীন কমিউটার ট্রেন। এটি লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে। ট্রেনটি প্রথম যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ রেলওয়ের সবুজ রঙের এই কমিউটার ট্রেনে মোট ১০টি বগি রয়েছে যার মধ্যে একটি অর্ধেক মালবগি এবং একটি পাওয়ার কার অন্তর্ভুক্ত।
যাত্রাপথে এই ট্রেন কুমিল্লা ও চাঁদপুর এই দুটি জেলাকে সংযুক্ত করেছে। কমিউটার এক্সপ্রেসে লাকসাম থেকে চাঁদপুর পৌঁছাতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। সকালের ট্রেনটি লাকসাম ছাড়ে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে এবং চাঁদপুর পৌঁছায় সকাল ৯টায়। বিকেলের ট্রেনটি লাকসাম ছাড়ে বিকাল ৩টায় ও চাঁদপুর পৌঁছায় বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে। উভয় ট্রেনেরই সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার।
এই পথে চাঁদপুর কমিউটার সর্বমোট ৯টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর ট্রেনে যেতে চাইলে এই একই ট্রেনগুলো ব্যবহার করা যায় কারণ লাকসাম জংশন কুমিল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
লাগেজ বহনের নিয়ম কী?
চাঁদপুর কমিউটার ট্রেনে ভ্রমণের সময় লাগেজ নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। প্রথম শ্রেণীর যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৩৭.৫ কেজি শোভন শ্রেণীর যাত্রীরা সর্বোচ্চ ২৮ কেজি এবং সুলভ ২য় শ্রেণীর যাত্রীরা সর্বোচ্চ ২৩ কেজি পর্যন্ত মালামাল বিনা ভাড়ায় বহন করতে পারবেন। এর বেশি মালামাল নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হতে পারে, তাই আগে থেকে ওজন মেপে নেওয়া ভালো।
২০২৬ সালে ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন এসেছে?
করোনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ সময়সূচি অনুযায়ী লাকসাম-চাঁদপুর রুটে আগের মতোই চারটি ট্রেন চলাচল করছে। তবে যাত্রীদের ভিড় সামলাতে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমের ব্যবহার বেড়েছে। এরপরও কমিউটার শ্রেণীর ট্রেনে প্রায়ই কাউন্টার থেকেই টিকেট কাটতে হয়।
লাকসাম জংশনে সাধারণত যাত্রীদের বেশ ভিড় থাকে, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে। কমিউটার ধরতে চাইলে অন্তত ১৫ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো ভালো নাহলে প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেতে সমস্যা হতে পারে। যারা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করেন, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় সকালের প্রথম ট্রেনে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে। যদি আপনি লাকসামের বদলে অন্য রুটের ট্রেন খুঁজছেন তাহলে আখাউড়া টু নোয়াখালী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কেও জেনে নিতে পারেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লাকসাম থেকে চাঁদপুরগামী প্রথম ট্রেন কোনটি?
দিনের প্রথম ট্রেন হলো চাঁদপুর কমিউটার (৮২), যা সকাল ৭টা ২০ মিনিটে লাকসাম থেকে ছাড়ে।
চাঁদপুর কমিউটারের অফ ডে কী?
চাঁদপুর কমিউটার (৮২) ও (৮৪) উভয় ট্রেনেরই সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার।
লাকসাম থেকে চাঁদপুর যেতে সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
সবচেয়ে কম ভাড়া ২য় মেইল শ্রেণীতে, যা মাত্র ৩০ টাকা।
লাকসাম থেকে চাঁদপুর কত কিলোমিটার?
এই দুই স্টেশনের মধ্যে দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার।
ট্রেনের টিকেট কি অনলাইনে পাওয়া যায়?
কমিউটার শ্রেণীর ট্রেন হওয়ায় অনলাইনে টিকেট সীমিত থাকে। না পেলে সরাসরি লাকসাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকেট কাটা যায়।
সবচেয়ে কম সময়ে চাঁদপুর পৌঁছানো যায় কোন ট্রেনে?
মেঘনা এক্সপ্রেসে সবচেয়ে কম সময়ে, অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছানো যায়।
লাকসাম টু চাঁদপুর রুটে মোট কতটি ট্রেন চলে?
এই রুটে মোট চারটি ট্রেন চলাচল করে একটি আন্তঃনগর, একটি মেইল এবং দুটি কমিউটার ট্রেন।
ট্রেনে লাগেজ বহনের সীমা কত?
প্রথম শ্রেণীতে ৩৭.৫ কেজি, শোভন শ্রেণীতে ২৮ কেজি এবং সুলভ ২য় শ্রেণীতে ২৩ কেজি পর্যন্ত মালামাল বিনা ভাড়ায় বহন করা যায়।






