জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬। লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে বগুড়া পর্যন্ত ট্রেন যাত্রা একটি আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। যারা উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহাসিক জেলায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী জানা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে এই রুটে লালমনি এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনটির যাত্রা সময়, ছাড়ার সময় ও ভাড়ার বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

বগুড়া উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটন এলাকা। মহাস্থানগড়, বেহুলার বাসর প্রমুখ ঐতিহাসিক স্থান দেখতে প্রতিদিন বহু পর্যটক ছুটে যান। জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বগুড়া যাওয়ার একমাত্র ট্রেন হলো লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)। এই আর্টিকেলে আমরা ট্রেনটির বিস্তারিত সময়সূচী, টিকেটের মূল্য ও যাত্রা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলোচনা করব।

Table of Contents

জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী: লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)

জয়দেবপুর থেকে বগুড়া রুটে বর্তমানে শুধুমাত্র লালমনি এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭৫১) চলাচল করে। এই ট্রেনটি জয়দেবপুর স্টেশন থেকে রাতে ছেড়ে ভোর বেলায় বগুড়া পৌঁছায়। যাত্রীদের জন্য এই সময়সূচী ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।

লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে কামালাপুর হয়ে জয়দেবপুর স্টেশনে থামে। এর পর এটি টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যায়। নিচে ট্রেনটির জয়দেবপুর স্টেশন ছাড়ার ও বগুড়া পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলো।

বাস্তবে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে ট্রেনটির প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে স্টেশনে থামা ও রাতের বেলায় সিগন্যালের কারণে সময় সামান্য বেশি লাগতে পারে। ভ্রমণের আগে একবার হলেও রেলওয়ের অফিসিয়াল সাইট থেকে ট্রেনের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো।

লালমনি এক্সপ্রেসের টিকেট আগে থেকেই বুকিং দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যায়। বিশেষ করে শুক্রবারের আগের দিন প্রচণ্ড ভিড় হয়। যাত্রা শুরুর অন্তত ৭ দিন আগে টিকেট সংগ্রহ করলে আসন পাওয়া নিশ্চিত হয়।

জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের ভাড়ার তালিকা (ভ্যাটসহ)

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী টিকেটের মূল্য নির্ধারিত হয়। আসন বিভাগ অনুযায়ী ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে জয়দেবপুর থেকে বগুড়া রুটের বিভিন্ন শ্রেণির টিকেটের মূল্য (১৫% ভ্যাটসহ) দেওয়া হলো।

ট্রেনের নাম ও নম্বরসাপ্তাহিক ছুটির দিনজয়দেবপুর ছাড়ার সময়বগুড়া পৌঁছানোর সময়মোট ভ্রমণ সময়
লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)শুক্রবার (সাপ্তাহিক বন্ধ)রাত ১০:৩৯ মিনিট (২২:৩৯)ভোর ০৪:৩০ মিনিট (০৪:৩০)প্রায় ৫ ঘণ্টা ৫১ মিনিট
আসন বিভাগটিকেটের মূল্য (টাকা)সুবিধা
শোভন (Shovon)৩০৫সাধারণ সিট, সংরক্ষিত বগি
শোভন চেয়ার (Shovon Chair)৩৬৫হেলান দেওয়া চেয়ার, তুলনামূলক আরাম
প্রথম সিট (1st Seat)৪৮৫প্রশস্ত সিট, কম ভিড়
প্রথম বার্থ (1st Berth)৭৩০শোয়ার ব্যবস্থা, রাতের যাত্রায় আরামদায়ক
স্নিগ্ধা (Snigdha)৬১০এসি ছাড়া প্রিমিয়াম সেবা, খাবারের ব্যবস্থা
এসি সিট (AC Seat)৭৩০শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা
এসি বার্থ (AC Berth)১০৯৫এসি ও শোয়ার সুবিধা একসঙ্গে

রাতের যাত্রায় প্রথম বার্থ বা এসি বার্থ নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে ঘুমিয়ে যেতে পারবেন সকালের দিকে। অন্যদিকে বাজেট কম থাকলে শোভন চেয়ার বা শোভন সিটও বেশ ভালো।

অনেক যাত্রী টিকেট কাটার সময় কাউন্টারে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে চান না। তাই তারা অনলাইনে টিকেট কেটে থাকেন। ই-টিকেট সেবা eticket.railway.gov.bd থেকে নেওয়া যায়। অনলাইনে টিকেট কাটতে সার্ভিস চার্জ ২০ টাকা লাগতে পারে।

জয়দেবপুর স্টেশন ও টিকেট সংগ্রহের পদ্ধতি

জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাছে অবস্থিত। ঢাকা ও গাজীপুরের যাত্রীরা সহজেই এখানে পৌঁছাতে পারেন। স্টেশন চত্বরে টিকেট কাউন্টার খোলা থাকে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট আগাম বিক্রি হয়।

আপনি যদি জয়দেবপুর স্টেশন থেকে টিকেট কাটতে চান, তাহলে কাউন্টারে গিয়ে গন্তব্য ও আসন বিভাগ জানিয়ে টাকা জমা দিতে হবে। নগদ টাকা ছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টিকেট কেনার সুযোগ আছে খুব সীমিত। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় অনলাইন টিকেটিং।

অনলাইনে টিকেট কাটার জন্য প্রথমে ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর লগইন করে ট্রেন নম্বর ও তারিখ সিলেক্ট করতে হবে। পছন্দের আসন নির্বাচন করে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। সফল হলে টিকেট ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে রাখতে পারেন। অনলাইন টিকেটের একটি কপি মোবাইলেও রাখতে পারেন, টিকেট চেকার দেখতে পারেন।

বগুড়া পৌঁছে কোথায় যাবেন?

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। সেখান থেকে রিক্সা, সিএনজি বা বাসযোগে সহজেই যেকোনো স্থানে যাওয়া যায়। বগুড়ার প্রধান আকর্ষণ মহাস্থানগড়, যা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে। খোদার পাথর ভবন, বেহুলার বাসর ও গোকুল মেধ পর্যটকদের জন্য চমৎকার।

ভোর ৪:৩০ মিনিটে স্টেশনে নামার পরই আপনি স্থানীয় যানবাহন পাবেন। তবে অতিরিক্ত ভোরে যাত্রী কম থাকে। তাই কিছুক্ষণ রেস্ট রুমে অপেক্ষা করতে পারেন। বগুড়া শহরে পাওয়া যায় দেশের বিখ্যাত বগুড়ার দই ও পিঠা।

জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচীতে লালমনি এক্সপ্রেস ছাড়া আর কোনো ট্রেন আছে?

বর্তমানে এই রুটে লালমনি এক্সপ্রেসই একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন। মেইল ট্রেন নেই বললেই চলে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে, আপডেটের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।

লালমনি এক্সপ্রেসের টিকেট কত আগে বুকিং দিতে হয়?

যাত্রার ৭ থেকে ১০ দিন আগে বুকিং দেওয়া ভালো। ঈদ বা দীর্ঘ ছুটির সময় আরও আগে বুকিং দেওয়া দরকার, কারণ আসন দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

জয়দেবপুর স্টেশনে রাতের বেলায় নিরাপত্তা কেমন?

জয়দেবপুর স্টেশন রাতেও নিরাপদ। রেলওয়ে পুলিশ ও বিজিবির টহল থাকে। তবুও মালপত্রের প্রতি সজাগ থাকা উচিত।

শোভন চেয়ার আর প্রথম সিটের পার্থক্য কী?

শোভন চেয়ারে হেলানো সিট কম খরচে পাওয়া যায়। প্রথম সিটে সিট প্রশস্ত, একটু বেশি জায়গা ও কম যাত্রী থাকে। ভাড়া একটু বেশি।

২০২৬ সালে ট্রেনের ভাড়া বাড়ার কোনো সম্ভাবনা আছে?

বাংলাদেশ রেলওয়ে সময়ে সময়ে ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করতে পারে। বর্তমান ভাড়া গত এক বছরে অপরিবর্তিত। বাজেট ভ্রমণের জন্য এখনই ভালো সময়।

এসি বার্থে কি বিছানার ব্যবস্থা থাকে?

হ্যাঁ, রাতে এসি বার্থ কম্পার্টমেন্টে বালিশ ও চাদর দেওয়া থাকে। ঘুমানোর জন্য আরামদায়ক।

আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা সফল হোক

জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানা থাকলে ভ্রমণ আরও সুখকর হয়। লালমনি এক্সপ্রেস একটি নির্ভরযোগ্য ট্রেন, যা সময়মতো বগুড়া পৌঁছে দেয়। রাতের যাত্রায় চাইলে এসি বার্থ আর খাবারের স্টল আগে থেকেই জোগাড় করে নিন। টিকেট কাটার সময় অনলাইন ও কাউন্টার দুটি পদ্ধতিই সহজ। ছুটির দিন এড়িয়ে চললে আসন পাওয়া তেমন কঠিন নয়। এই লেখাটি নিজের কাজে লাগান এবং বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন, যাতে তারাও সহজে যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *