চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ চট্টগ্রাম-লাকসাম রুট। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলায় যাতায়াত করেন। লাকসাম শুধু একটি জংশন স্টেশন নয়, এটি ঢাকা ও নোয়াখালীগামী ট্রেনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাই চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার পুরো যাত্রা সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম-লাকসাম রুটে আটটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। এই ট্রেনগুলোর প্রতিটির নির্দিষ্ট সময়, ভাড়া ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন রয়েছে। এই নিবন্ধে আমরা সময়সূচী, ভাড়া, স্টপেজ ও ব্যবহারিক টিপস নিয়ে আলোচনা করব, যাতে আপনি নিশ্চিন্তে আপনার যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারেন।

Table of Contents

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম যেসব ট্রেন চলাচল করে

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম যাওয়ার জন্য বর্তমানে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু আছে। এগুলো সবই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ। নিচের তালিকায় প্রতিটি ট্রেনের নাম ও নম্বর দেওয়া হলো।

সিরিয়ালট্রেনের নাম ও নম্বর
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১)
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯)
বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৫)
মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১)
মহানগর গোধূলি (৭০৩)
মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯)
উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৩)
তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১)

এই আটটি ট্রেন ছাড়াও কিছু মেইল ও কমিউটার ট্রেন আছে, তবে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকেই যাত্রীরা বেশি ব্যবহার করেন। কারণ এগুলোর যাত্রা সময় কম এবং উন্নত কোচ রয়েছে।

আরও জেনে নিনঃ জয়দেবপুর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী

প্রতিদিন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন ছাড়ে। নিচের টেবিলে প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার সময় ও লাকসাম পৌঁছানোর সময় উল্লেখ করা হলো।

ট্রেনের নাম ও নম্বরছাড়ার সময়লাকসাম পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক ছুটি
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১)০৬:০০০৮:১৭শুক্রবার
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯)০৭:৫০১০:০০সোমবার
বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৫)০৯:১৫১১:১৮মঙ্গলবার
মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১)১২:৩০১৪:৪২রবিবার
মহানগর গোধূলি (৭০৩)১৫:০০১৭:০৪প্রতিদিন চলে
মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯)১৭:১৫১৯:৩৫প্রতিদিন চলে
উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৩)২১:৪৫২৩:৪৫বুধবার
তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১)২৩:৩০০১:৩০ (পরদিন)প্রতিদিন চলে

লক্ষ্য করুন, উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা এক্সপ্রেস রাতের ট্রেন হওয়ায় সময় কম লাগে — প্রায় ২ ঘণ্টা। অন্যদিকে চট্টলা ও বিজয় এক্সপ্রেস কিছু স্টেশনে থামায় বেশি সময় নেয়।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ট্রেন ভাড়া

ট্রেনের ভাড়া নির্ভর করে কোচের ক্লাসের ওপর। নিচের টেবিলে বিস্তারিত ভাড়া দেওয়া হলো (জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী)।

সিটের ধরনভাড়া (টাকা)
শোভন১৪৫
শোভন চেয়ার১৭০
ফার্স্ট চেয়ার২৬৫
ফার্স্ট সিট২৬৫
স্নিগ্ধা৩২৮
এসি সিট৩৯১
ফার্স্ট বার্থ৪৪১
এসি বার্থ৬৩৭

সবচেয়ে সাশ্রয়ী ভাড়া শোভন ক্লাসে ১৪৫ টাকা, যা বাসের তুলনায় অনেক কম। তবে রাতে ভ্রমণ করলে এসি বার্থের মতো আরামদায়ক বিকল্প বেছে নিতে পারেন।

চট্টগ্রাম টু লাকসাম ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন

অনেক যাত্রী হঠাৎ স্টেশনে গিয়ে ট্রেন না পেয়ে হতাশ হন। তাই আগে জেনে নিন কোন ট্রেন কোন দিন বন্ধ থাকে।

ট্রেনের নামছুটির দিন
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১)শুক্রবার
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯)সোমবার
বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৫)মঙ্গলবার
মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১)রবিবার
মহানগর গোধূলি (৭০৩)প্রতিদিন চলে
মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯)প্রতিদিন চলে
উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৩)বুধবার
তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১)প্রতিদিন চলে

মহানগর গোধূলি, মেঘনা ও তূর্ণা এক্সপ্রেস — এই তিনটি ট্রেন সপ্তাহের সব দিন চলে। তাই জরুরি প্রয়োজনে এগুলো নিরাপদ পছন্দ।

চট্টগ্রাম টু লাকসাম ট্রেনের স্টপিস স্টেশন

ট্রেন ভেদে স্টপেজ সংখ্যা ভিন্ন। নিচের তালিকা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন কোন ট্রেন কতগুলি স্টেশনে থামে।

ট্রেনযাত্রা বিরতি স্টেশন
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১)চট্টগ্রাম → কুমিরা → ফেনী → হাসানপুর → নাঙ্গলকোট → লাকসাম
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯)চট্টগ্রাম → ফেনী → নাঙ্গলকোট → লাকসাম
বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৫)চট্টগ্রাম → ভাটিয়ারী → ফেনী → লাকসাম
মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১)চট্টগ্রাম → কুমিরা → ফেনী → নাঙ্গলকোট → লাকসাম
মহানগর গোধূলি (৭০৩)চট্টগ্রাম → ফেনী → গুনাবাটি → লাকসাম
মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯)চট্টগ্রাম → কুমিরা → ফেনী → হাসানপুর → নাঙ্গলকোট → লাকসাম
উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৩)চট্টগ্রাম → ফেনী → লাকসাম
তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১)চট্টগ্রাম → ফেনী → লাকসাম

উদয়ন ও তূর্ণা এক্সপ্রেস শুধু ফেনীতেই থামে, ফলে এগুলো দ্রুততম। অন্যদিকে চট্টলা ও মেঘনা বেশি স্টেশনে থামায় বেশি যাত্রী উঠানামা করে।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম কত কিলোমিটার ও সময় লাগে

রেলপথে চট্টগ্রাম থেকে লাকসামের দূরত্ব প্রায় ১৪১ কিলোমিটার। ট্রেনের গতি ও স্টপেজের ওপর নির্ভর করে সময় লাগে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। উদয়ন ও তূর্ণা এক্সপ্রেস সবচেয়ে কম সময় নেয় — ঠিক ২ ঘণ্টায়।

বাস বা প্রাইভেট কারে একই পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা লাগে, কারণ সড়কে যানজট ও ফেরি পারাপার যুক্ত হয়। ফলে ট্রেনই সময়সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক মাধ্যম।

ট্রেনে যাওয়ার আগে যা করবেন

যাত্রার আগে কিছু প্রস্তুতি নিলে ঝামেলা এড়ানো যায়:

  • অগ্রিম টিকিট কেটে নিন: বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা সহজ। অগ্রিম টিকিট ৭ দিন আগে থেকে পাওয়া যায়।
  • সময়মতো স্টেশনে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে গিয়ে প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করুন।
  • হালকা খাবার ও পানি রাখুন: দীর্ঘ যাত্রায় পানির বোতল ও মুড়ি/চানাচুর সঙ্গে নিন।
  • মূল্যবান জিনিস সতর্ক রাখুন: মোবাইল, ওয়ালেট ও লাগেজ সর্বদা নিজের নজরে রাখুন।
  • সিট ভেরিফাই করুন: টিকিটে উল্লেখিত কোচ ও সিট নম্বর মিলিয়ে নিন।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম কখন ও কিভাবে ট্রেন ধরবেন

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সময় বেছে নিন:

  • সকালের যাত্রী: চট্টলা এক্সপ্রেস (৬:০০) বা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭:৫০) — ৮টার আগেই লাকসাম পৌঁছানো যায়।
  • দুপুরের যাত্রী: মহানগর এক্সপ্রেস (১২:৩০) — দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে লাকসাম।
  • বিকেলের যাত্রী: মহানগর গোধূলি (৩:০০) বা মেঘনা এক্সপ্রেস (৫:১৫) — সন্ধ্যার আগে গন্তব্যে।
  • রাতের যাত্রী: উদয়ন এক্সপ্রেস (৯:৪৫) বা তূর্ণা এক্সপ্রেস (১১:৩০) — যারা রাতে ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

ট্রেন ধরার সময় মনে রাখবেন, প্রতিটি ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন হতে পারে। চট্টগ্রাম স্টেশনের ডিসপ্লে বোর্ড ও ঘোষণা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

অনলাইনে কিভাবে ট্রেনের টিকিট কাটবো?

বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অথবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ (গুগল প্লে স্টোরে) ব্যবহার করে সহজেই টিকিট কাটতে পারেন।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম প্রতিদিন কোন ট্রেনগুলো চলে?

মহানগর গোধূলি (৭০৩), মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯) ও তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) — এই তিনটি ট্রেন সপ্তাহের সাত দিনই চলাচল করে।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম সন্ধ্যার পরে কোন ট্রেনগুলো যায়?

সন্ধ্যার পরে দুইটি ট্রেন যায় — উদয়ন এক্সপ্রেস (রাত ৯:৪৫) ও তূর্ণা এক্সপ্রেস (রাত ১১:৩০)। উদয়ন বুধবার বন্ধ থাকে, তূর্ণা প্রতিদিন চলে।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম প্রথম ট্রেন কয়টার সময়?

প্রথম ট্রেন চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) সকাল ৬টায় ছাড়ে। এরপর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯) সকাল ৭:৫০-এ ছাড়ে।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম কোন ট্রেন দ্রুত যায়?

উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৩) ও তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) সবচেয়ে দ্রুত — মাত্র ২ ঘণ্টায় লাকসাম পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ট্রেনের ভাড়া কত?

সর্বনিম্ন শোভন ক্লাসে ১৪৫ টাকা, সর্বোচ্চ এসি বার্থে ৬৩৭ টাকা। বিস্তারিত উপরের ভাড়া টেবিলে দেওয়া আছে।

লাকসামে নেমে ঢাকার ট্রেন ধরতে কত সময় লাগে?

লাকসাম জংশন থেকে ঢাকাগামী ট্রেন সাধারণত ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে সংযোগ ট্রেনের সময়সূচী আগে জেনে নিন।

ট্রেন বাতিল হলে কী করবেন?

প্রথমে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। অগ্রিম টিকিট থাকলে রেলওয়ের নিয়মানুযায়ী ফেরত বা রি-ইস্যু সুবিধা নিতে পারেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *