ঢাকা থেকে নেত্রকোনা যাওয়ার জন্য বর্তমানে দুইটি ট্রেন চালু রয়েছে: মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯) এবং হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৭)। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস দুপুর ০১:১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে বিকেল ০৫:৩৩ মিনিটে নেত্রকোনা পৌঁছায় আর হাওর এক্সপ্রেস রাত ১০:১৫ মিনিটে ছেড়ে পরদিন রাত ০২:৪০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। ঢাকা টু নেত্রকোনা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মনে যেসব প্রশ্ন ঘুরপাক খায় সেগুলোর বিস্তারিত উত্তর নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের সময়সূচি ও ভাড়া কেমন?
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯) ঢাকা থেকে নেত্রকোনা পর্যন্ত সরাসরি চলাচল করে চার ঘণ্টা আঠারো মিনিট সময় নিয়ে। ট্রেনটি প্রতি সপ্তাহে বুধবার ছাড়া বাকি ছয়দিন চলাচল করে, ফলে সাপ্তাহিক পরিকল্পনায় এটি বেশ নির্ভরযোগ্য একটি অপশন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ছাড়ার স্থান ও সময় | ঢাকা, দুপুর ০১:১৫ মিনিট |
| পৌঁছানোর স্থান ও সময় | নেত্রকোনা, বিকেল ০৫:৩৩ মিনিট |
| মোট যাত্রার সময় | ৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট |
| বন্ধের দিন | বুধবার |
এই ট্রেনে তিনটি শ্রেণির টিকেট পাওয়া যায় স্নিগ্ধা, এসিএস এবং শোভন চেয়ার। প্রতিটি শ্রেণির ভাড়া নিচের তালিকায় দেওয়া হলো:
- স্নিগ্ধা: ৳৪১৪ (ভ্যাটসহ)
- এসিএস (AC_S): ৳৪৯৫ (ভ্যাটসহ)
- শোভন চেয়ার (S_CHAIR): ৳২১৫
জেনে রাখুনঃ ঢাকা টু দেওয়ানগঞ্জ ট্রেনের সময়সূচী
হাওর এক্সপ্রেসের সময়সূচি ও ভাড়া কেমন?
হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৭) রাতের ট্রেন হিসেবে পরিচিত এবং এটি ঢাকা থেকে নেত্রকোনা পৌঁছাতে চার ঘণ্টা পঁচিশ মিনিট সময় নেয়। ট্রেনটি সপ্তাহে শুক্রবার বন্ধ থাকে বাকি ছয়দিন নিয়মিত চলাচল করে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ছাড়ার স্থান ও সময় | ঢাকা, রাত ১০:১৫ মিনিট |
| পৌঁছানোর স্থান ও সময় | নেত্রকোনা, রাত ০২:৪০ মিনিট (পরদিন) |
| মোট যাত্রার সময় | ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট |
| বন্ধের দিন | শুক্রবার |
হাওর এক্সপ্রেসে দুইটি শ্রেণি পাওয়া যায় শোভন এবং শোভন চেয়ার। এই ট্রেনে এসি বা স্নিগ্ধা শ্রেণি নেই যা অনেকেই আগে থেকে না জেনে টিকেট কাটতে গিয়ে বিভ্রান্ত হন।
- শোভন (SHOVAN): ৳১৮০
- শোভন চেয়ার (S_CHAIR): ৳২১৫
স্নিগ্ধা ও এসিএস শ্রেণির ভাড়ার পার্থক্য কেন?
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৳৪১৪ হলেও এসিএস শ্রেণির ভাড়া ৳৪৯৫ অর্থাৎ প্রায় ৮১ টাকার পার্থক্য। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এসিএস কোচে সম্পূর্ণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থাকে, যেখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিতভাবে ঠান্ডা রাখা হয়। অন্যদিকে স্নিগ্ধা শ্রেণি একটি প্রিমিয়াম চেয়ার কোচ, যেখানে আসনবিন্যাস আরামদায়ক এবং সিটের সংখ্যা তুলনামূলক কম রাখা হয়, ফলে যাত্রীরা বেশি জায়গা ও আরাম পান।
ঢাকা টু নেত্রকোনা ট্রেনের ক্লাসভিত্তিক বৈশিষ্ট্য কী কী?
প্রতিটি শ্রেণির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী উপযোগিতা রয়েছে। নিচে ঢাকা টু নেত্রকোনা রুটে চলাচলকারী প্রতিটি ক্লাসের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
স্নিগ্ধা শ্রেণি
প্রশস্ত সিট, রিক্লাইনিং ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এই তিনটি বৈশিষ্ট্য স্নিগ্ধা শ্রেণিকে আলাদা করে। দীর্ঘ যাত্রায় আরাম চাইলে এই শ্রেণি বেছে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত।
এসিএস (AC_S) শ্রেণি
সম্পূর্ণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই কোচ গরমের দিনে আরামদায়ক ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেয়। যাদের গরম সহ্য হয় না বা শিশু-বৃদ্ধ সঙ্গে ভ্রমণ করছেন তাদের জন্য এটি প্রাধান্য পেতে পারে।
শোভন চেয়ার (S_CHAIR)
সাধারণ ও সাশ্রয়ী শ্রেণি হিসেবে শোভন চেয়ার দুইটি ট্রেনেই পাওয়া যায়। বাজেট-সচেতন যাত্রীদের কাছে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় অপশন।
শোভন (SHOVAN)
শুধু হাওর এক্সপ্রেসে পাওয়া যায় এই শ্রেণি যা সবচেয়ে কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ দেয়। রাতের যাত্রায় ঘুমিয়ে যাওয়া যাত্রীদের জন্য এটি যথেষ্ট।
অনলাইনে না কাউন্টার থেকে টিকেট কাটা ভালো?
বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট এখন কাউন্টার এবং অনলাইন দুই মাধ্যমেই পাওয়া যায়, তবে দুটোরই কিছু সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে যা জেনে রাখা জরুরি।
অনলাইন টিকেটের সুবিধা
- বাড়িতে বসেই টিকেট কাটা যায় ও লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
- আসন নিজে পছন্দ করে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
- টিকেট বিক্রির সময় শুরু হওয়া মাত্রই দ্রুত বুকিং করা যায়।
হাওর এক্সপ্রেসের রাতের যাত্রায় শোভন ক্লাসের সিট পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন?
রাতের ট্রেন হওয়ায় হাওর এক্সপ্রেসে দিনের ট্রেনের তুলনায় চাপ কিছুটা কম থাকে বিশেষত শোভন শ্রেণিতে। আমি ব্যক্তিগতভাবে হাওর এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করে দেখেছি সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনগুলোতে শেষ মুহূর্তেও শোভন শ্রেণির আসন পাওয়া সম্ভব হয়। তবে ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিনগুলোতে চাপ বেড়ে যায়, তাই আগেভাগে টিকেট নিশ্চিত করাই নিরাপদ।
রাতের যাত্রার আরেকটি সুবিধা হলো ঘুমিয়ে যাওয়া যায় বলে দীর্ঘ যাত্রাপথ ক্লান্তিকর মনে হয় না। তবে যাদের রাতে ভালো ঘুম না হলে সমস্যা হয় তাদের জন্য দিনের ট্রেন মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস বেশি উপযোগী।
নেত্রকোনা পৌঁছানোর পর স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা কেমন?
নেত্রকোনা রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর শহরের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য রিকশা, অটোরিকশা এবং সিএনজি সহজলভ্য। স্টেশন থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে যেতে সাধারণত বেশি সময় লাগে না ফলে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
ঢাকা টু নেত্রকোনা ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়াঃ
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় (ঢাকা) | পৌঁছানোর সময় (নেত্রকোনা) | যাত্রার সময় | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|---|
| মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯) | ০১:১৫ PM | ০৫:৩৩ PM | ৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট | বুধবার |
| হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৭) | ১০:১৫ PM | ০২:৪০ AM | ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট | শুক্রবার |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা যেতে কোন কোন ট্রেন চলে?
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা যাওয়ার জন্য মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯) এবং হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৭) এই দুইটি ট্রেন চলাচল করে।
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে সর্বনিম্ন ভাড়া শোভন চেয়ার শ্রেণিতে ৳২১৫ টাকা।
হাওর এক্সপ্রেসে সবচেয়ে কম খরচে ভ্রমণের উপায় কী?
হাওর এক্সপ্রেসে শোভন শ্রেণিতে সর্বনিম্ন ভাড়া ৳১৮০ টাকা যা এই রুটের সবচেয়ে সাশ্রয়ী অপশন।
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা যেতে কত সময় লাগে?
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে সময় লাগে ৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট এবং হাওর এক্সপ্রেসে সময় লাগে ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট।
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস সপ্তাহে কোন দিন বন্ধ থাকে?
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস প্রতি সপ্তাহে বুধবার বন্ধ থাকে।
হাওর এক্সপ্রেস সপ্তাহে কোন দিন বন্ধ থাকে?
হাওর এক্সপ্রেস প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার বন্ধ থাকে।
স্নিগ্ধা ও এসিএস শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য কী?
এসিএস শ্রেণি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হলেও স্নিগ্ধা শ্রেণি একটি প্রশস্ত ও আরামদায়ক চেয়ার কোচ যেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ থাকে না, তবে সিট বিন্যাস তুলনামূলক আরামদায়ক।
হাওর এক্সপ্রেসে এসি বা স্নিগ্ধা শ্রেণি আছে কি?
না, হাওর এক্সপ্রেসে শুধু শোভন এবং শোভন চেয়ার এই দুইটি শ্রেণি পাওয়া যায়।
অনলাইনে টিকেট কাটা কি নিরাপদ ও সহজ?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই নিরাপদে টিকেট কাটা যায় এবং আসন নিজে পছন্দ করে বাছাই করার সুযোগ থাকে।






