ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের একটি নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক মাধ্যম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী যাতায়াত করেন। কর্মজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী বা পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী সবার কাছেই রেলপথ জনপ্রিয়। সঠিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার যাত্রা হবে অনেক সহজ ও নির্ঝঞ্ঝাট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নিচে ২০২৬ সালের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলোর বিস্তারিত সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা তুলে ধরা হলো।

Table of Contents

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী (আন্তঃনগর)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে প্রধানত তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনগুলো দ্রুতগামী, সময়ানুবর্তী এবং উন্নত সেবা প্রদান করে থাকে। আন্তঃনগর ট্রেনে শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। নিচের সারণিতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর নাম, ছাড়ার সময় ও পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলোঃ

ট্রেনের নামছুটির দিনব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়েচট্টগ্রাম পৌঁছায়
মহানগর প্রভাতী (৭০৪)বন্ধ নেইসকাল ০৯:৪০দুপুর ০২:০০
মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২)রবিবার বন্ধরাত ১১:৩৩ভোর ০৪:৫০
তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২)বন্ধ নেইরাত ০১:৪০ভোর ০৬:২০
  • মহানগর প্রভাতী (৭০৪) সকালের দিকে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ট্রেন। সকাল সাড়ে নয়টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে দুপুর দুটোর মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছে যাওয়ায় দিনের বেলার ভ্রমণের জন্য এটি সেরা। ব্যবসায়ী ও অফিসগামী যাত্রীদের কাছে এই ট্রেনটির চাহিদা অনেক। ট্রেনটি প্রতিদিন চলে এবং সাধারণত সময়মতো চলাচল করে।
  • মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) রাতের ট্রেন হিসেবে পরিচিত। রাত সাড়ে এগারোটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। রাতে ভ্রমণ করে সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা থাকায় অনেক যাত্রী এই ট্রেন বেছে নেন। তবে রবিবার এই ট্রেনটি বন্ধ থাকে। অফিসের কাজে কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যারা ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এই ট্রেন খুবই উপযোগী।
  • তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) আরেকটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। রাত দেড়টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে ভোর সাড়ে ছয়টায় চট্টগ্রামে পৌঁছে। এই ট্রেনটিও যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এবং সাধারণত অগ্রিম টিকিট কাটতে হয়। তূর্ণা এক্সপ্রেসের যাত্রাপথে সময় কম লাগে এবং আরামদায়ক আসনের জন্য এটি অনেকের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী (মেইল এক্সপ্রেস)

আন্তঃনগরের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম রুটে বেশ কয়েকটি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। মেইল ট্রেনগুলো আন্তঃনগরের তুলনায় ধীরগতির হলেও ভাড়া কম হওয়ায় অনেক যাত্রী এগুলো বেছে নেন। নিচে মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর সময়সূচী দেওয়া হলোঃ

ট্রেনের নামছুটির দিনব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়েচট্টগ্রাম পৌঁছায়
চট্টগ্রাম মেইল (০২)বন্ধ নেইরাত ০১:২৮সকাল ০৭:২৫
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (০৪)বন্ধ নেইদুপুর ১২:০১সন্ধ্যা ০৬:০০
ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস (৩৮)বন্ধ নেইদুপুর ০১:০১রাত ০৯:১০
চাটলা এক্সপ্রেস (৬৮)মঙ্গলবার বন্ধবিকাল ০৩:২০রাত ০৮:৫০
  • চট্টগ্রাম মেইল (০২) এই রুটের সবচেয়ে পুরনো ট্রেনগুলোর একটি। রাত দেড়টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে সকাল সাতটার দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। রাতের ভ্রমণের জন্য এটি একটি সাশ্রয়ী বিকল্প। এই ট্রেনে শোভন ও প্রথম শ্রেণীর আসন ছাড়াও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।
  • কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (০৪) দুপুর বারোটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে সন্ধ্যা ছয়টায় চট্টগ্রাম পৌঁছায়। যারা দুপুরের পরে যাত্রা করতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো একটি ট্রেন। এই ট্রেনে সাধারণত যাত্রীদের চাপ কম থাকে এবং সহজেই টিকিট পাওয়া যায়।
  • ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস (৩৮) দুপুর একটা দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে রাত নটার দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। এই ট্রেনটি ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে চট্টগ্রামে যায়, পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থামে। দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্যও এটি একটি নির্ভরযোগ্য ট্রেন।
  • চাটলা এক্সপ্রেস (৬৮) বিকাল সাড়ে তিনটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে রাত সাড়ে আটটায় চট্টগ্রাম পৌঁছায়। মঙ্গলবার এই ট্রেনটি বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন যাত্রীদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প। এই ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম থাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের ভাড়া তালিকা ২০২৬

ট্রেনের ভাড়া নির্ভর করে আসনের ধরণ ও ট্রেনের ক্যাটাগরির ওপর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম রুটে বিভিন্ন ধরনের আসনের টিকিট পাওয়া যায়। নিচের তালিকায় আসনভিত্তিক ভাড়া উল্লেখ করা হলোঃ

আসনের ধরণটিকিটের মূল্য (টাকা)
শোভন১৯৫ টাকা
শোভন চেয়ার২৩০ টাকা
প্রথম শ্রেণীর আসন৩১০ টাকা
প্রথম শ্রেণীর বার্থ৪৬০ টাকা
স্নিগ্ধা৪৪৩ টাকা
এসি কেবিন৫২৯ টাকা
এসি বার্থ৭১৪ টাকা
  • শোভন ও শোভন চেয়ার সাধারণ যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী আসন। অল্প খরচে চট্টগ্রাম যাতায়াতের জন্য এই আসনগুলো উপযুক্ত। শোভন চেয়ারে বসার ব্যবস্থা আরামদায়ক এবং সাধারণ ট্রেনে এই আসন বেশি থাকে।
  • প্রথম শ্রেণীর আসন ও বার্থে বসার পাশাপাশি শোয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে, যা দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক। প্রথম শ্রেণীর বার্থে রাতে ভ্রমণের সময় শুয়ে যাওয়া যায় যা অনেক যাত্রী পছন্দ করেন।
  • স্নিগ্ধা আসন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আন্তঃনগর ট্রেনেই শুধু পাওয়া যায়। এই আসনে আরামদায়ক চেয়ার এবং ঠান্ডা পরিবেশ থাকে, যা গরমের দিনে ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
  • এসি কেবিন ও এসি বার্থে আরও বেশি আরাম ও গোপনীয়তা পাওয়া যায়। এসি কেবিনে বসার পাশাপাশি শোয়ার সুবিধা আছে এবং এটি পরিবার বা দলগত ভ্রমণের জন্য খুবই ভালো।

আরও জেনে নিনঃ চট্টগ্রাম টু চাঁদপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া

বিভিন্ন ট্রেনের ভাড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম রুটে বিভিন্ন ট্রেনের ভাড়ায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ভাড়া সাধারণত মেইল এক্সপ্রেসের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়। নিচে বিভিন্ন ট্রেনের ভাড়ার একটি ধারণা দেওয়া হলোঃ

  • আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া: মহানগর প্রভাতী, মহানগর এক্সপ্রেস ও তূর্ণা এক্সপ্রেসে শোভন আসনের ভাড়া ১৯৫ টাকা, স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৪৪৩ টাকা এবং এসি কেবিনের ভাড়া ৫২৯ টাকা। এই ট্রেনগুলোতে এসি বার্থের ভাড়া ৭১৪ টাকা।
  • মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া: চট্টগ্রাম মেইল, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস ও চাটলা এক্সপ্রেসে শোভন আসনের ভাড়া ১৯৫ টাকা, শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৩০ টাকা এবং প্রথম শ্রেণীর আসনের ভাড়া ৩১০ টাকা। প্রথম শ্রেণীর বার্থের ভাড়া ৪৬০ টাকা।

টিকিট কেনার নিয়ম ও সময়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম চালু হওয়ায় ঘরে বসেই টিকিট কেনা যায়। টিকিট কেনার সহজ পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলোঃ

  • অনলাইনে টিকিট কেনা: যাত্রীরা রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সহজ অ্যাপ ব্যবহার করে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেন। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয় তাই দ্রুত কিনতে পারলে ভালো সিট পাওয়া যায়। অনলাইনে টিকিট কাটতে নিবন্ধন প্রয়োজন এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়।
  • কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট কেনা যায়। তবে ছুটির দিন বা বিশেষ মৌসুমে (যেমন ঈদ) কাউন্টারে লম্বা লাইন থাকে, তাই অনলাইন টিকিটই বেশি সুবিধাজনক। মেইল ট্রেনের টিকিট সাধারণত যাত্রার দিনও পাওয়া যায়, তবে নির্দিষ্ট সিট পেতে আগে থেকে কেনাই ভালো।
  • অগ্রিম টিকিট: দীর্ঘ দিন পরিকল্পিত ভ্রমণের ক্ষেত্রে অগ্রিম টিকিট কেনা সবচেয়ে ভালো। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ১০ দিন আগে থেকে বিক্রি হয় তাই সেই সময়ে অনলাইনে বা কাউন্টার থেকে টিকিট কিনে রাখা যায়।

ভ্রমণের সেরা সময় ও প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম ভ্রমণের জন্য শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ) সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে ও পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখা সহজ হয়। ট্রেন ভ্রমণের জন্য কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

  • ট্রেনের সময়সূচী যাচাই: বাংলাদেশ রেলওয়ে মাঝেমধ্যে ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তন করে, বিশেষ করে নতুন ট্রেন চালু হলে বা রুট পরিবর্তন হলে। তাই যাত্রা শুরুর আগে রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা স্থানীয় স্টেশন থেকে সময়সূচী জেনে নেওয়া ভালো। এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী আপডেট করা হয়।
  • টিকিট সংরক্ষণ: অনলাইনে টিকিট কাটলে ই-টিকিটের স্ক্রিনশট বা প্রিন্ট কপি সাথে রাখুন। কাউন্টার থেকে কাটলে টিকিটটি যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদে রাখুন। টিকিটের সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখাও জরুরি, বিশেষ করে অনলাইনে টিকিট কাটলে।
  • যাত্রাপথের সময়: ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। আন্তঃনগর ট্রেনে যেতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, আর মেইল ট্রেনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেই অনুযায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা রাখতে পারেন। ট্রেনে খাবার পাওয়া গেলেও নিজের প্রয়োজনীয় কিছু রাখা ভালো।
  • নিরাপত্তা: রাতে ভ্রমণ করলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও মূল্যবান দ্রব্য নিজের কাছেই রাখুন। একা ভ্রমণ করলে এসি কেবিন বা বার্থ বেছে নেওয়া নিরাপদ। নারী যাত্রীদের জন্য নারী কেবিনের ব্যবস্থা থাকলে সেখানে ভ্রমণ করা ভালো। সব সময় সতর্ক থাকুন এবং অপরিচিত কারো সাথে বেশি মিশবেন না।

বিশেষ ছাড় ও অফার

বাংলাদেশ রেলওয়ে মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিশেষ অফার ও ছাড় দিয়ে থাকে। শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য ভাড়ায় ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ঈদ বা পূজার মতো বিশেষ মৌসুমে অতিরিক্ত ট্রেন চালু করা হয় এবং ভাড়ায় বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। নিয়মিত রেলওয়ের ওয়েবসাইট দেখলে এই অফার সম্পর্কে জানতে পারবেন।

শেষ কথা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম যাত্রা রেলপথে অত্যন্ত আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী। সঠিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানা থাকলে আপনার ভ্রমণ হবে নির্ঝঞ্ঝাট। আন্তঃনগর ট্রেনে দ্রুত পৌঁছানো যায়, আর মেইল ট্রেনে খরচ কমে। সময়মতো টিকিট কেটে ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে আপনি উপভোগ করতে পারেন আপনার রেলযাত্রা। বাংলাদেশ রেলওয়ের আপডেট তথ্যের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি আপনার ভ্রমণকে করবে আরামদায়ক ও আনন্দময়। রেলপথের এই ভ্রমণ আপনার জন্য হয়ে উঠুক স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার প্রথম ট্রেন কোনটি?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার প্রথম ট্রেন হলো চট্টগ্রাম মেইল (০২), যা রাত ০১:২৮ মিনিটে ছেড়ে যায়। দিনের বেলায় প্রথম ট্রেন হলো কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (০৪), যা দুপুর ১২:০১ মিনিটে ছাড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া কত?

আন্তঃনগর ট্রেনে শোভন ক্লাসের ভাড়া ১৯৫ টাকা, স্নিগ্ধা ক্লাসের ভাড়া ৪৪৩ টাকা এবং এসি কেবিনের ভাড়া ৫২৯ টাকা। তূর্ণা ও মহানগর প্রভাতীতেও এই ভাড়াই প্রযোজ্য।

কোন ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম যেতে সবচেয়ে কম সময় লাগে?

মহানগর প্রভাতী (৭০৪) এবং তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) সবচেয়ে কম সময়ে চট্টগ্রাম পৌঁছে দেয়। এগুলোতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু চট্টগ্রাম রুটে কোন ট্রেনগুলো সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে?

মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) রবিবার বন্ধ থাকে এবং চাটলা এক্সপ্রেস (৬৮) মঙ্গলবার বন্ধ থাকে। বাকি ট্রেনগুলো সপ্তাহের প্রতিদিন চলে।

শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা আসনের মধ্যে পার্থক্য কী?

শোভন চেয়ার সাধারণ নন-এসি চেয়ার, যা মেইল ট্রেনে বেশি দেখা যায়। স্নিগ্ধা হলো এসি চেয়ার ক্লাস, যা শুধু আন্তঃনগর ট্রেনেই পাওয়া যায় এবং এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিধা থাকে। স্নিগ্ধার ভাড়া শোভন চেয়ারের চেয়ে বেশি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনে প্রথম শ্রেণীর বার্থের ভাড়া কত?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনে প্রথম শ্রেণীর বার্থের ভাড়া ৪৬০ টাকা। এই আসনে শোয়ার সুবিধা রয়েছে।

ঈদের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামের ট্রেনের টিকিট পেতে কী করব?

ঈদের সময় টিকিট পেতে অনলাইনে অগ্রিম বুকিং দিতে হবে। সাধারণত ঈদের ১৫ দিন আগে থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় টিকিট বিক্রি হয়। রেলওয়ের নিয়মিত নোটিশ দেখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *