বাংলাদেশের রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম ও শহরের সংযোগকারী এক বিশ্বস্ত মাধ্যম। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। কিন্তু ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী অনেক ট্রেনের জন্য টাঙ্গাইল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। টাঙ্গাইল থেকে যদি আপনাকে সোনাতলা (বগুড়া) যেতে হয়, তাহলে সঠিক টাঙ্গাইল টু সোনাতলা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানা সবচেয়ে জরুরি। আমি নিজে সম্প্রতি এই রুটে ভ্রমণ করেছি এবং আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সঠিক সময়সূচি হাতে না থাকলে মাঝরাতে স্টেশনে বসে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই আর্টিকেলে আমি শুধু শুষ্ক তথ্য দেব না বরং রিয়েল টাইম অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় টিপস শেয়ার করবো যা আপনার ভ্রমণকে সহজ ও নির্বিঘ্ন করবে।
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা রেলপথের বাস্তব চিত্র
টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার পথটি উত্তরবঙ্গের সবুজ জনপদকে ছুঁয়ে চলে। এই রুটে সরাসরি মাত্র একটি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে, যা লালমনি এক্সপ্রেস নামে পরিচিত। তবে অনেক যাত্রী ভুল করেন যে তারা শুধু দিনের ট্রেন খোঁজেন, অথচ এই ট্রেনটি রাতের যাত্রী। ২০২৫ সালের শেষের দিকে আমি যখন টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাই, তখন স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়ে দেখি অনেকেই লালমনি এক্সপ্রেসের সময় নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। আসুন, সেই বিভ্রান্তি দূর করি।
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা ট্রেনের সময়সূচী
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা রুটে মোট ১টি যাত্রীবহুল আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। আন্তঃনগর ট্রেনে ভ্রমণ অনেকটা সহজ ও আরামদায়ক, কারণ এই ট্রেনগুলি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় সময়মত চলাচল করে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ছাড়া ব্রেক স্টেশনে থামে না। নিচের টেবিলটি দেখে নিন টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেনটির সময়সূচি:
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | ছুটির দিন | টাঙ্গাইল ছাড়ার সময় | সোনাতলা পৌঁছানোর সময় | মোট ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|
| লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১) | শুক্রবার (সাপ্তাহিক বন্ধ) | ২৩:৩৫ (রাত ১১:৩৫) | ০৫:০৩ (ভোর ৫:০৩) | প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৮ মিনিট |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এই ট্রেনটি মূলত ঢাকা থেকে ছেড়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যায়। টাঙ্গাইল থেকে এটি প্রায় রাত ১১টার পরে আসে। তাই মনে রাখবেন, এটি কোনো সকাল বা দুপুরের ট্রেন নয়। যদি আপনি দিনে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে বিকল্প রুট হিসেবে প্রথমে সিরাজগঞ্জ বা বগুড়া গিয়ে সেখান থেকে লোকাল বাসে সোনাতলা যেতে পারেন। তবে রাতের ট্রেনটি ভীষণ আরামদায়ক কারণ টাঙ্গাইল থেকে উঠে ভোরবেলা সোনাতলা পৌঁছে যাওয়া যায়, যা ব্যবসায়ী বা বাড়ি ফেরা যাত্রীদের জন্য খুবই সুবিধাজনক।
আরও জেনে নিনঃ বিমানবন্দর টু সোনাতলা ট্রেনের সময়সূচী
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা ট্রেনের টিকিটের মূল্য তালিকা
আমরা রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে টিকিটের এই মূল্য সংগ্রহ করেছি। ট্রেনের টিকিটের মূল্য আসন ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। নিচের চার্টে বর্তমান (২০২৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর) সব ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য দেওয়া আছে। দয়া করে মনে রাখবেন, ১৫% ভ্যাট ইতিমধ্যেই মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করা আছে।
| আসন বিভাগের নাম | টিকিটের মূল্য (ভ্যাট সহ) | ভ্রমণ অভিজ্ঞতা |
|---|---|---|
| শোভন | ২৮০ টাকা | সাধারণ যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী। কাঠের বেঞ্চের মতো হলেও রাতের বেলা ঘুমিয়ে যাওয়া যায়। |
| শোভন চেয়ার | ৩৩৫ টাকা | সিট নির্ধারিত থাকে। একটু আরামদায়ক, ৫ ঘণ্টার পথের জন্য উপযুক্ত। |
| প্রথম সিট | ৪৪৫ টাকা | ফার্স্ট ক্লাস কেবিন। দরজা বন্ধ করে ভ্রমণ করা যায়, পরিবার বা একা যাত্রীদের জন্য ভালো। |
| প্রথম বার্থ | ৬৭০ টাকা | শোয়ার ব্যবস্থা। রাতের ট্রেনে এই ক্যাটাগরি যাত্রীদের জন্য সেরা অপশন। |
| স্নিগ্ধা | ৫৬০ টাকা | নন-এসি চেয়ার। ঝকঝকে পরিষ্কার, জানালার পাশের সিটে বসলে রাতের হাওয়া লাগে। |
| এসি সিট | ৬৭০ টাকা | ঠান্ডা কেবিনে বসে যাত্রা। গরমের সময় বা ভিড় এড়াতে ভালো। |
| এসি বার্থ | ১০০৫ টাকা | শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শোয়ার ব্যবস্থা। দীর্ঘ রাতের পথের জন্য বিলাসবহুল অপশন। |
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছি, টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার জন্য যদি বাজেট ঠিক থাকে তবে প্রথম বার্থ বা এসি বার্থ নেওয়া ভালো। কারণ ট্রেনটি রাত ১১:৩৫ এ ছাড়ে, তাই শুয়ে পড়লে ভোর ৫টায় সোনাতলা পৌঁছে তাজা থাকা যায়।
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা রুটে টিকিট কেনার সেরা উপায়
এই রুটের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে কিছু কৌশল আছে। নিচের টিপসগুলো ফলো করলে আপনার টিকিট পাওয়া নিশ্চিত হবে:
- অনলাইন বুকিং: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ‘রেল সেবা’ থেকে টিকিট কাটতে পারেন। ট্রেন ছাড়ার ১০ দিন আগে থেকে টিকিট পাওয়া যায়। সকাল ৮টায় টিকিট খোলে।
- টাঙ্গাইল স্টেশন কাউন্টার: সরাসরি টাঙ্গাইল রেলস্টেশনে গেলেও টিকিট পেতে পারেন। তবে লালমনি এক্সপ্রেস অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিশেষ করে শুক্রবার বাদে বাকি দিনগুলোতে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
- যুক্ত করার টিকিট: ঢাকা থেকে সোনাতলা পর্যন্ত লালমনি এক্সপ্রেসের ফুল রুটে টিকিট না পেলে টাঙ্গাইল থেকে ওঠার জন্য ‘যুক্ত করার টিকিট’ চাইতে পারেন। কাউন্টারে গিয়ে বললেই তারা বের করে দেবে।
আমি নিজে একবার লালমনি এক্সপ্রেসের টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। পরে জানলাম, টাঙ্গাইল স্টেশনে ‘স্পেশাল কোটা’ থাকে যা ট্রেন ছাড়ার ২ ঘণ্টা আগে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাই আপনি যদি স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান, অনেক সময় হাতে টিকিট পেয়ে যাবেন।
ভ্রমণকালীন কিছু বাস্তব টিপস
- ট্রেনটি রাতে ছাড়ে, তাই খাবার সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না। ট্রেনে কোনো প্যান্ট্রি কার না থাকলেও চা-মুড়ি বিক্রেতা উঠবেন।
- সোনাতলা স্টেশনে নামার পর রিকশা বা অটো সহজেই পাওয়া যায়। ভোর ৫টায় স্টেশন থেকে বের হলে স্থানীয় বাসও পাবেন।
- শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ট্রেনে কুয়াশার কারণে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। যেমন ধরুন, লালমনি এক্সপ্রেস ২০-৩০ মিনিট দেরি করলে অবাক হবেন না।
- যদি কোনো জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ করেন, তাহলে দয়া করে ট্রেন ছাড়ার ১ ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছে যাবেন। টাঙ্গাইল স্টেশনটি রাতে কিছুটা অন্ধকার থাকতে পারে, তাই নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখুন।
বিকল্প রুট: টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার অন্য উপায়
যদি রাতের ট্রেনটি আপনার জন্য সুবিধাজনক না হয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে টাঙ্গাইল থেকে বাসে সিরাজগঞ্জ (বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে) গিয়ে সেখান থেকে সোনাতলা যেতে পারেন। টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ বাস ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা, তারপর সিরাজগঞ্জ থেকে সোনাতলা বাসে আরও ১০০-১৫০ টাকা। তবে বাসে ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে, যা ট্রেনের চেয়ে বেশি সময় লাগে।
পুরনো দিনের মতো আজও রাতের ট্রেনের জানালার পাশে বসে উত্তরবঙ্গের বাতাস উপভোগ করার মজা আলাদা। লালমনি এক্সপ্রেসে চড়ে টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার সময় আমার মনে পড়ে, একবার ভোর ৫টায় নামার পর সোনাতলার স্টেশন চত্বরে পিঠা বিক্রেতার গরম পিঠার গন্ধ। সেই অভিজ্ঞতা বাসে কখনোই পাওয়া যায় না।
আশা করি টাঙ্গাইল টু সোনাতলা ট্রেনের সময়সূচী ও টিকিটের মূল্য তালিকা পেয়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। পরের বার যখন ট্রেনে চড়বেন, সময় ও ভাড়া বুঝে টিকিট কিনুন এবং একটি নির্বিঘ্ন যাত্রা উপভোগ করুন। ধন্যবাদ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা ট্রেনের সময়সূচী কী কী ট্রেন আছে?
এই রুটে শুধুমাত্র একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যার নাম লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)। এটি টাঙ্গাইল থেকে রাত ১১:৩৫ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৫:০৩ মিনিটে সোনাতলা পৌঁছে। শুক্রবার এটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। এই একটিমাত্র ট্রেন সরাসরি টাঙ্গাইল-সোনাতলা সংযোগ রক্ষা করছে।
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা ট্রেনের টিকিটের মূল্য শোভন ক্লাসে কত?
লালমনি এক্সপ্রেসে শোভন ক্লাসের টিকিটের মূল্য ২৮০ টাকা (১৫% ভ্যাট সহ)। এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী ক্যাটাগরি। তবে মনে রাখবেন, শোভন ক্লাসে নির্দিষ্ট সিট না থাকলেও রাতের বেলা বসে যাওয়া যায়। অনেক যাত্রী বেঞ্চের নিচে শুয়েও নেন, কিন্তু সেটা খুব আরামদায়ক নয়।
টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যেতে কত সময় লাগে ট্রেনে?
টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা পৌঁছাতে লালমনি এক্সপ্রেসের সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৮ মিনিট। রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী এটি নির্ধারিত হলেও, প্রকৃতপক্ষে ট্রেনটি মাঝে মাঝে ১৫-২০ মিনিট দেরি করতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে কুয়াশার কারণে বিলম্ব হয়। তাই আপনার গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনায় কিছু বাড়তি সময় রাখবেন।
লালমনি এক্সপ্রেসে টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার জন্য অনলাইনে টিকিট কাটা যায় কি?
হ্যাঁ, যায়। আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) বা মোবাইল অ্যাপ ‘রেল সেবা’ ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেন। ট্রেন ছাড়ার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় টিকিট খোলে। তবে লালমনি এক্সপ্রেস এই রুটে জনপ্রিয় হওয়ায় টিকিট দ্রুত শেষ হয়, তাই আগে থেকে বুকিং দেওয়া ভালো।
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা রুটে ট্রেনের এসি বার্থের মূল্য কত?
লালমনি এক্সপ্রেসে এসি বার্থের টিকিটের মূল্য ১০০৫ টাকা (ভ্যাট সহ)। এটি সবচেয়ে বিলাসবহুল শোয়ার ব্যবস্থা। রাতের ৫ ঘণ্টার পথের জন্য এটি অত্যন্ত আরামদায়ক। বিশেষ করে আপনি যদি ভোরবেলা সোনাতলা পৌঁছে সরাসরি অফিস বা ব্যবসায় যান, তাহলে এসি বার্থে ভালো ঘুমিয়ে নিতে পারবেন।
লালমনি এক্সপ্রেস টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার পথে কোথাও থামে কি?
হ্যাঁ, আন্তঃনগর ট্রেন হলেও লালমনি এক্সপ্রেস কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনে থামে। টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার পথে এটি জামালপুরের কয়েকটি স্টেশন ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশনে থামে। তবে আপনি যদি শুধু টাঙ্গাইল-সোনাতলা যাত্রী হন, তাহলে এই স্টেশনগুলোতে যাত্রী ওঠানামা দেখতে পাবেন, কিন্তু ট্রেনটি খুব বেশি বিলম্ব করে না।
টাঙ্গাইল টু সোনাতলা ট্রেনের সময়সূচী কি শুক্রবারে প্রযোজ্য?
না, লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১) সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে শুক্রবার। তাই শুক্রবার টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা যাওয়ার জন্য এই ট্রেনটি পাওয়া যাবে না। সেই দিন বিকল্প হিসেবে আপনাকে বাসে যেতে হবে। টাঙ্গাইল থেকে সোনাতলা বাসে যেতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে, ভাড়া ৩০০-৪০০ টাকার মতো।
টাঙ্গাইল স্টেশন থেকে সোনাতলার ট্রেনের টিকিট ফিরতি পথে পাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, টাঙ্গাইল স্টেশনের কাউন্টার থেকে আপনি ফিরতি টিকিটও কিনতে পারেন। তবে ফিরতি ট্রেনের জন্য লালমনি এক্সপ্রেসের অপর পাশের যাত্রা (৭৫২, যা সোনাতলা থেকে ঢাকা আসে) বিবেচনা করতে হবে। ফিরতি ট্রেনটি সোনাতলা থেকে রাত ১১:৫৫ ছেড়ে টাঙ্গাইল পৌঁছে ভোর ৫:২০ এ। টিকিটের মূল্যও একই থাকে। অনলাইনেও ফিরতি টিকিট বুক করা যায়।






