যারা নিয়মিত ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত করেন কিংবা নতুন করে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। তাদের কাছে চট্টলা এক্সপ্রেস একটি নির্ভরযোগ্য নাম। চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে যাত্রা পরিকল্পনা সহজ হয় ও সময় বাঁচে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা কমে। এই লেখায় আজ আমরা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন, টিকিটের ধরন ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে আলোচনা করবো।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন সম্পর্কে
চট্টলা এক্সপ্রেস একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। যা ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে নিয়মিত চলাচল করে। ট্রেনটির নম্বর ৮০১ ও ৮০২। এটি মূলত দ্রুত, নিরাপদ ও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিচিত। বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে এবং যাত্রীদের কাছে বেশ আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচলের দিন
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে। প্রতি শুক্রবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তাই শুক্রবার ছাড়া অন্য যেকোনো দিন আপনি এই ট্রেনে যাত্রা করতে পারবেন। ভ্রমণের আগে দিনটি নিশ্চিত করে নেওয়া সবসময় ভালো।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম টু ঢাকা এবং ঢাকা টু চট্টগ্রাম এই দুইটি ট্রেন এই রুটে চলাচল করে। নিচের তালিকায় আপডেট তথ্য সময়সূচী দেওয়া প্রদান করা হয়েছেঃ
চট্টগ্রাম টু ঢাকা সময়সূচী
| রুট | ছুটির দিন | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম টু ঢাকা | শুক্রবার | ০৬:০০ | ১২:১০ |
ঢাকা টু চট্টগ্রাম সময়সূচী
| রুট | ছুটির দিন | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| ঢাকা টু চট্টগ্রাম | শুক্রবার | ১৩:৪৫ | ২০:১০ |
এই সময়সূচী অনুযায়ী ট্রেনটি সকাল ও বিকালের সুবিধাজনক সময়ে চলাচল করে। যা অফিসযাত্রী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য বেশ উপযোগী।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রাপথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিরতি দেয়। ফলে বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সহজে এই ট্রেনে উঠানামা করতে পারেন।
বিরতি স্টেশন তালিকা:
| বিরতি স্টেশন | চট্টগ্রাম থেকে (৮০১) | ঢাকা থেকে (৮০২) |
|---|---|---|
| কুমিরা | ০৬:২৪ | ১৯:৩৮ |
| ফেনী | ০৭:২৫ | ১৮:৩৩ |
| হাসানপুর | ০৭:৫০ | ১৮:১০ |
| নাঙ্গলকোট | ০৭:৫৮ | ১৮:০১ |
| লাকসাম | ০৮:১৩ | ১৭:৪৫ |
| কুমিল্লা | ০৮:৩৯ | ১৭:১৭ |
| শশীদল | ০৯:০০ | ১৬:৫৮ |
| কসবা | ০৯:১৪ | ১৬:৪৩ |
| আখাউড়া | ০৯:৩৫ | ১৬:২৫ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ০৯:৫৫ | ১৫:৫৫ |
| ভৈরব | ১০:১৬ | ১৫:৩০ |
| মেথিকান্দা | ১০:৩৬ | ১৫:১৩ |
| নরসিংদী | ১০:৫৫ | ১৪:৫০ |
| বিমানবন্দর | ১১:৪৩ | ১৪:০৭ |
এই বিরতি স্টেশনগুলোর কারণে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন দেশের বড় একটি অংশের মানুষের যাতায়াত সহজ করে দিয়েছে।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের আসন
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। যাত্রীর প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী আসন বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
আসনের ধরন
- শোভন চেয়ার
- স্নিগ্ধা
- এসি সিট
প্রতিটি আসনের আরাম, সুযোগ সুবিধা এবং ভাড়া আলাদা।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া আসনভেদে নির্ধারিত ও ভাড়ার সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত থাকে।
ভাড়ার তালিকা:
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য (১৫% ভ্যাটসহ) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৪০৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৭৭৭ টাকা |
| এসি সিট | ৯৩২ টাকা |
ভাড়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় এই ট্রেনটি সব শ্রেণির যাত্রীর কাছে জনপ্রিয়।
আরও জানতে পারেনঃ চাঁদপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
কীভাবে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটবেন
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট আপনি অনলাইন এবং কাউন্টার দুইভাবেই সংগ্রহ করতে পারেন। অনলাইনে টিকিট কাটলে সময় বাঁচে এবং লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকে না। কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে ভ্রমণের দিন ও সময় আগে থেকে মাথায় রাখা ভালো।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের সুবিধা
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। সময়মতো চলাচল, পরিষ্কার কোচ, নিরাপদ যাত্রা ও তুলনামূলক কম ভাড়া এই ট্রেনের বড় সুবিধা । এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
প্রশ্ন-উত্তর
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন কি প্রতিদিন চলে?
না, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে ছয় দিন চলে। শুক্রবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে কয় ধরনের আসন আছে?
এই ট্রেনে মূলত তিন ধরনের আসন আছে—শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা ও এসি সিট।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে কত সময় লাগে?
সময়সূচী অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ২৫ মিনিট সময় লাগে।
টিকিটের ভাড়ার সাথে কি ভ্যাট যুক্ত?
হ্যাঁ, প্রতিটি টিকিটের ভাড়ার সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত থাকে।
শেষ কথা
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তথ্য জানা থাকলে ঢাকা টু চট্টগ্রাম যাত্রা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিয়মিত চলাচল, নির্ভরযোগ্য সময়সূচী ও সাশ্রয়ী ভাড়ার কারণে এই ট্রেনটি যাত্রীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে।






