আপনি যদি আরামদায়ক ও নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণ পছন্দ করেন তাহলে তূর্ণা এক্সপ্রেস হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। ২০২৬ সালের জন্য হালনাগাদ করা তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া নিয়ে সাজানো আজকের এই বিস্তারিত পোস্টটি আপনার ভ্রমণকে করবে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক। তাহলে দেরি কেন ? আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
যাত্রীদের কাছে তূর্ণা এক্সপ্রেস মানেই রাতের নিশ্চিন্ত ঘুম আর সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা। এই ট্রেনের টিকিট প্রাপ্তি থেকে শুরু করে সিট প্ল্যান পর্যন্ত সকল খুঁটিনাটি বিষয় নিচে তুলে ধরা হয়েছে এই পোষ্টে।
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও ভিআইপি ট্রেন হলো তূর্ণা এক্সপ্রেস। এটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতকারী একটি বিরতিহীন (কিছু নির্ধারিত স্টেশনে থামে) আন্তঃনগর ট্রেন। যারা রাতের বেলা ভ্রমণ করে সকালে কর্মস্থলে পৌঁছাতে চান তাদের জন্য এটি সেরা। নিচে এর বিস্তারিত সময়সূচী প্রদান করা হলো।
ঢাকা টু চট্টগ্রাম তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
নতুন সময়সূচী অনুসারে ৭৪২ নম্বর তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন রাত ১১টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে। ট্রেনটি সারারাত ভ্রমণ শেষে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ০৫টা ১৫ মিনিটে। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এটি মাঝপথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে যাত্রা বিরতির তালিকা:
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| ঢাকা কমলাপুর | — | রাত ১১:১৫ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | রাত ১১:৩৮ | রাত ১১:৪০ |
| ভৈরব বাজার | রাত ১২:৪৮ | রাত ১২:৫০ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | রাত ০১:১০ | রাত ০১:১২ |
| আখাউড়া | রাত ০১:৪৫ | রাত ০১:৪৭ |
| কুমিল্লা | ভোর ০২:৩৩ | ভোর ০২:৩৫ |
| লাকসাম | ভোর ০৩:০০ | ভোর ০৩:০৩ |
| ফেনি | ভোর ০৩:৪০ | ভোর ০৩:৪২ |
| চট্টগ্রাম | সকাল ০৫:১৫ | — |
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা তূর্ণা ট্রেনের সময়সূচী
বিপরীত দিকে, ৭১১ নম্বর তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম জংশন স্টেশন থেকে প্রতিদিন রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে বিরতি নিয়ে এটি পরদিন ভোরে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছায়।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে যাত্রা বিরতির তালিকা:
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| চট্টগ্রাম | — | রাত ১১:৩০ |
| ফেনি | রাত ১২:৪৮ | রাত ১২:৫০ |
| লাকসাম | রাত ০১:৩০ | রাত ০১:৩৩ |
| কুমিল্লা | রাত ০১:৫৫ | রাত ০১:৫৭ |
| আখাউরা | ভোর ০২:৪৫ | ভোর ০২:৪৭ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ভোর ০৩:০৫ | ভোর ০৩:০৭ |
| ভৈরব বাজার | ভোর ০৩:৩০ | ভোর ০৩:৩২ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | সকাল ০৪:৪৫ | সকাল ০৪:৪৭ |
| ঢাকা কমলাপুর | সকাল ০৫:১০ | — |
তূর্ণা এক্সপ্রেস টিকেটের দাম ২০২৬
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণির আসন ব্যবস্থা রয়েছে। আপনার বাজেট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি পছন্দমতো টিকিট ক্রয় করতে পারেন। ২০২৬ সালের বর্তমান ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, অনলাইনে টিকিট কিনলে প্রতি সিটের জন্য ২০ টাকা ও কেবিনের জন্য ৫০ টাকা অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে ধারনা করা যায়।
আরও জেনে নিনঃ জামালপুর কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
তূর্ণা এক্সপ্রেস বিভিন্ন রুটের ভাড়া তালিকা (জনপ্রতি)
| গন্তব্য | শোভন চেয়ার | স্নিগ্ধা (AC) | এসি বার্থ/কেবিন |
| ঢাকা টু চট্টগ্রাম | ৪০৫ টাকা | ৭৭৭ টাকা | ১৪৪৮ টাকা |
| ঢাকা টু কুমিল্লা | ২২৫ টাকা | ৪৩২ টাকা | ৮২৭ টাকা |
| ঢাকা টু ফেনি | ৩০০ টাকা | ৭৪০ টাকা | ১১৭৩ টাকা |
| ঢাকা টু লাকসাম | ২৫৫ টাকা | ৪৮৩ টাকা | ৯১৯ টাকা |
| ঢাকা টু আখাউড়া | ১৭০ টাকা | ৩২২ টাকা | ৬২৫ টাকা |
| ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১৫০ টাকা | ২৮৮ টাকা | ৫৬২ টাকা |
| ঢাকা টু ভৈরব বাজার | ১০৫ টাকা | ১৯৬ টাকা | ৪০১ টাকা |
(দ্রষ্টব্য: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়ার হার পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। ভ্রমণের পূর্বে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।)
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা ও সেবা
একটি আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে তূর্ণা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের আরামের জন্য বেশ কিছু উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- খাবার বগি: ট্রেনের ভেতরে একটি নির্ধারিত খাবার বগি রয়েছে যেখানে চা, কফি, স্ন্যাকস এবং রাতের খাবার পাওয়া যায়।
- নিরাপত্তা: রাতে ভ্রমণের জন্য এই ট্রেনে পর্যাপ্ত পুলিশ পাহারা ও নিরাপত্তা রক্ষী থাকে।
- পরিচ্ছন্নতা: প্রতিটি বগিতে আলাদা টয়লেট এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা রাখা হয়।
- নামাজের স্থান: ট্রেনের খাবার বগির পাশেই নামাজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ থাকে।
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট বুকিং সিস্টেম
বর্তমানে ট্রেনের টিকিট কাটা খুবই সহজ হয়ে গেছে। আপনি দুইভাবে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন:
১. অনলাইন টিকেট বুকিং: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে খুব সহজেই টিকিট বুক করা যায়। এছাড়া ‘Rail Seba’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেও আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যে টিকিট কাটতে পারবেন। পেমেন্ট করার জন্য বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায়।
২. কাউন্টার থেকে সরাসরি: আপনি যদি অনলাইনে অভ্যস্ত না হন, তবে সরাসরি কমলাপুর বা চট্টগ্রাম স্টেশনের কম্পিউটারাইজড কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। যাত্রার অন্তত ৩-৫ দিন আগে টিকিট কেটে রাখা ভালো, কারণ তূর্ণা এক্সপ্রেসের টিকিটের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে।
তূর্ণা এক্সপ্রেস সিট প্ল্যান ও বগি বিন্যাস
তূর্ণা এক্সপ্রেসের সিট প্ল্যান সাধারণত যাত্রার দিকের ওপর নির্ভর করে সাজানো হয়। ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় ট্রেনের ইঞ্জিনের পর থেকে পর্যায়ক্রমে ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’, ‘ঘ’ ইত্যাদি বগিগুলো যুক্ত থাকে। আবার চট্টগ্রাম থেকে ফেরার সময় বগির ক্রম ঠিক থাকলেও ট্রেনের দিক পরিবর্তন হয়।
সাধারণত এই ট্রেনে ১০ থেকে ১২টি বগি থাকে। এর মধ্যে কয়েকট বগি এসি (স্নিগ্ধা), একটি এসি কেবিন এবং বাকিগুলো শোভন চেয়ার শ্রেণির হয়ে থাকে। বগির ভেতরে সিট নম্বরগুলো গ্লাস বা জানালার পাশে এবং করিডোরের পাশে ভাগ করা থাকে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় আপনি নিজের পছন্দমতো সিট পছন্দ করার সুযোগ পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন কবে?
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নেই। এটি সপ্তাহের সাত দিনই নিয়মিতভাবে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচল করে।
তূর্ণা এক্সপ্রেস এখন কোথায় আছে তা কিভাবে জানবো?
ট্রেনের বর্তমান অবস্থান বা রিয়েল টাইম লোকেশন জানতে আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে যান। লিখুন TR <স্পেস> 741 (চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার জন্য) অথবা 742 (ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের জন্য) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন।
টিকিট ফেরত দিলে কি টাকা পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রার নির্দিষ্ট সময় আগে টিকিট ফেরত দিলে কিছু টাকা কর্তন সাপেক্ষে বাকি টাকা ফেরত পাওয়া যায়। তবে ট্রেন ছাড়ার পর টিকিট ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
তূর্ণা এক্সপ্রেসে কি শিশুদের জন্য হাফ টিকিট আছে?
৩ বছর থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য রেলওয়ের নির্ধারিত হারে ছাড় পাওয়া যায়। তবে ৩ বছরের নিচের শিশুদের জন্য টিকিটের প্রয়োজন হয় না।
শেষ কথা
নিরাপদ এবং আরামদায়ক রাতের ভ্রমণের জন্য তূর্ণা এক্সপ্রেস এক অনন্য নাম। আপনি যদি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রুটে যাতায়াত করতে চান, তবে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কে জানা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক টিকিট বুকিং সিস্টেম এবং উন্নত সেবার কারণে এটি বর্তমানে যাত্রীদের অন্যতম ভরসার জায়গা। আশাকরি, এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি ২০২৬ সালের তূর্ণা এক্সপ্রেস সংক্রান্ত সকল তথ্য পেয়ে গেছেন। আপনার রেল ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক।






