আপনি কি ঢাকা থেকে খুলনা কিংবা খুলনা থেকে ঢাকা আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমনের কথা ভাবছেন? তাহলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে এই ট্রেনটি অত্যন্ত পরিচিত। আজকের এই পোষ্টে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট বুকিং পদ্ধতি এবং ভাড়ার আপডেট তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সুন্দরবন এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭২৫/৭২৬) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন। এটি মূলত ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং পুনরায় খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ট্রেনের কোচগুলো আধুনিক এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এখানে বিভিন্ন শ্রেণির আসন ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার নিয়ে বা ব্যবসায়িক কাজে ভ্রমণের জন্য এই ট্রেনটি বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আরও ট্রেনের সময়সূচীঃ মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। ঢাকা ও খুলনা উভয় প্রান্ত থেকেই এটি নিয়মিত যাত্রী সেবা প্রদান করে। তবে ভ্রমণের আগে অবশ্যই ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং ছাড়ার সঠিক সময় জেনে নেওয়া জরুরি। নিচে ঢাকা থেকে খুলনা এবং খুলনা থেকে ঢাকা উভয় পথের সময়সূচী দেওয়া হলো:
ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী (৭২৫)
ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটির নম্বর হলো ৭২৫। এটি প্রতিদিন সকালে যাত্রা শুরু করে।
- ছাড়ার স্থান: ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর)।
- ছাড়ার সময়: সকাল ০৮:১৫ মিনিট।
- গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়: দুপুর ০৩:৩০ মিনিট।
- ছুটির দিন: সোমবার।
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী (৭২৬)
খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনটির নম্বর হলো ৭২৬। এটি সাধারণত রাতে যাত্রা শুরু করে ভোরে ঢাকা পৌঁছায়।
- ছাড়ার স্থান: খুলনা রেলওয়ে স্টেশন।
- ছাড়ার সময়: রাত ০৯:৪৫ মিনিট।
- গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়: ভোর ০৫:১০ মিনিট।
- ছুটির দিন: সোমবার।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়। এই বিরতি স্টেশনগুলোর তালিকা জানা থাকলে আপনি আপনার নিকটস্থ স্টেশন থেকে সহজেই ট্রেনে উঠতে পারবেন। নিচে বিরতি স্টেশন ও আনুমানিক পৌঁছানোর সময়ের ছক দেওয়া হলো:
| স্টেশনের নাম | খুলনা থেকে (৭২৬) আসার সময় | ঢাকা থেকে (৭২৫) যাওয়ার সময় |
| দৌলতপুর | রাত ০৯:৫৬ | দুপুর ০৩:৩০ |
| নওয়াপাড়া | রাত ১০:২১ | দুপুর ০৩:০৩ |
| যশোর | রাত ০৮:৫২ | দুপুর ০২:৩২ |
| মোবারকগঞ্জ | রাত ১১:২৩ | দুপুর ০২:০২ |
| কোটচাঁদপুর | রাত ১১:৩৭ | দুপুর ০১:৪৮ |
| দর্শনা | — | দুপুর ০১:২১ |
| চুয়াডাঙ্গা | রাত ১২:২০ | দুপুর ১২:৫৩ |
| আলমডাঙ্গা | রাত ১২:৩৯ | দুপুর ১২:৩৫ |
| পোড়াদহ | দুপুর ১২:৫৬ | রাত ১২:১৫ |
| কুষ্টিয়া | রাত ০১:১২ | সকাল ১১:৪৭ |
| রাজবাড়ি | রাত ০২:২০ | সকাল ১০:৪০ |
| ফরিদপুর | রাত ০২:৫৭ | সকাল ১০:০৫ |
| ভাঙ্গা | রাত ০৩:৪৫ | সকাল ০৯:২৬ |
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণির আসন রয়েছে। আপনি আপনার বাজেট এবং পছন্দ অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো (ভ্যাটসহ):
আসন অনুযায়ী ভাড়াঃ পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
| আসন বিভাগ | টিকেটের মূল্য (১৫% ভ্যাটসহ) |
| শোভন চেয়ার | ৬২৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১১৯৬ টাকা |
| এসি সিট (কেবিন) | ১৪৩২ টাকা |
| এসি বার্থ (শোয়ার ব্যবস্থা) | ২১৫১ টাকা |
দ্রষ্টব্য: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়ার এই তালিকা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট কাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আপনি দুইভাবে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন:
১. অনলাইন টিকেট বুকিং
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ অ্যাপের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই টিকেট কাটতে পারেন। এজন্য আপনাকে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। পেমেন্ট করা যাবে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে।
২. স্টেশন কাউন্টার থেকে
আপনি সরাসরি কমলাপুর অথবা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। তবে ভ্রমণের অন্তত ৩-৪ দিন আগে টিকেট কাটা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকেটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে।
যাত্রীদের জন্য বিশেষ টিপস
- সময়ানুবর্তিতা: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- নিরাপত্তা: ভ্রমণের সময় আপনার ব্যক্তিগত মালামাল সাবধানে রাখুন।
- খাবার সুবিধা: আন্তঃনগর এই ট্রেনে খাবারের জন্য ক্যান্টিন সুবিধা রয়েছে, তবে আপনি চাইলে বাইরে থেকে হালকা শুকনো খাবার সাথে রাখতে পারেন।
- অপেক্ষা তালিকা: অনলাইনে টিকেট না পেলে স্টেশনে গিয়ে স্ট্যান্ডিং টিকেট পাওয়া যায় কিনা তা যাচাই করতে পারেন।
আরও ট্রেনের সময়সূচীঃ
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি কবে?
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহের সোমবার চলাচল করে না। বাকি ছয় দিন এটি নিয়মিত যাতায়াত করে।
ঢাকা থেকে খুলনা পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে খুলনা পৌঁছাতে প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে।
ট্রেনের টিকেট অনলাইনে পাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই টিকেট বুক করা যায়।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে কি এসি সুবিধা আছে?
হ্যাঁ, এই ট্রেনে স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট এবং এসি বার্থের সুবিধা রয়েছে।
শেষ কথা
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা জানা থাকলে আপনার যাত্রা যেমন পরিকল্পনা মাফিক হবে, তেমনি ভোগান্তিও কমবে। ঢাকা ও খুলনার মধ্যবর্তী সংযোগের ক্ষেত্রে এই ট্রেনটি যাতায়াতের জন্য এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আশা করি, আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনার পরবর্তী ভ্রমণের জন্য সহায়ক হবে। আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক।






