পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানলে চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে ভ্রমণ পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়। অনেকেই পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী দেখে তারপর টিকেট কাটেন, যাতে স্টেশনে অপেক্ষা কম হয় এবং সংযোগ যাত্রা মিস না হয়। এই পোস্টে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন, সম্ভাব্য সময়, টিকেটের ধরন এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া সব একসাথে দেওয়া হলো। আপনি যদি পরিবার নিয়ে বা কাজের প্রয়োজনে সিলেট যেতে চান, তাহলে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তথ্য আগে থেকে জানা থাকলে বাজেট এবং সময় দুইটাই ঠিক রাখা যায়।
চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত বাংলাদেশের সুন্দর এক রেলপথ। এই পথে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। আরামদায়ক কোচ, নির্ধারিত বিরতি, আর তুলনামূলক দ্রুত চলার কারণে যাত্রীদের কাছে এটি পরিচিত। তবে যেকোনো ট্রেনের ক্ষেত্রে সময়সূচী, ভাড়া এবং টিকেট সংক্রান্ত নিয়ম মাঝে মাঝে বদলাতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সর্বশেষ তথ্য স্টেশন বা অফিসিয়াল টিকেটিং প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
অন্য ট্রেনের সময়সূচীঃ জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কী এবং কোন রুটে চলে
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে চলা একটি আন্তঃনগর ট্রেন। যা চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে যাতায়াত করে। একই পথে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেনও চলতে পারে। কিন্তু পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের আলাদা জনপ্রিয়তা আছে। এই ট্রেন সাধারণত নির্দিষ্ট দিন ছুটি রেখে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যায় ও মাঝপথে কিছু স্টেশনে থামে।
কেন এই ট্রেনটি জনপ্রিয়
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী মোটামুটি নিয়মিত থাকায় চাকরি, পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা ঘুরতে যাওয়ার যাত্রীদের জন্য সুবিধা হয়। আরও কিছু কারণ হলো:
- আসন বিভাগ একাধিক হওয়ায় বাজেট অনুযায়ী নির্বাচন করা যায়
- নির্দিষ্ট বিরতি স্টেশন থাকায় খাবার/প্রয়োজনীয় কাজ সারা যায়
- চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে তুলনামূলক আরামদায়ক ভ্রমণ
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী টেবিল আকারে দেওয়া হলো নিচে বিস্তারিত আকারেঃ
চট্টগ্রাম টু সিলেট এবং সিলেট টু চট্টগ্রাম সময়সূচী
| রুট | ছুটির দিন | ছাড়ায় সময় | পৌছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম টু সিলেট | সোমবার | ০৭:৫০ | ১৬:৩০ |
| সিলেট টু চট্টগ্রাম | বুধবার | ১০:৩০ | ১৮:৫৫ |
টিপস: স্টেশনে নিরাপদভাবে উঠতে সাধারণভাবে ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট আগে পৌঁছানো ভালো। ঈদ, পূজা, শীতের ছুটি বা পর্যটন মৌসুমে আরও আগে গেলে ভিড় সামলানো সহজ হয়।
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী
চট্টগ্রাম–সিলেট পথে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। যাত্রী ওঠা-নামা এবং সময় মেনে চলার জন্য এই বিরতিগুলো প্রয়োজন হয়। নিচে বহুল পরিচিত বিরতি স্টেশন ও সম্ভাব্য সময় দেওয়া হলো বিস্তারিত আকারেঃ
বিরতি স্টেশন তালিকা
| বিরতি স্টেশন নাম | ছাড়ায় সময় | পৌছানোর সময় |
|---|---|---|
| ফেনী | ০৯:১৩ | ১৭:২৪ |
| নাঙ্গলকোট | ০৯:৪৩ | ১৬:৫৫ |
| লাকসাম | ১০:০০ | ১৬:৩৮ |
| কুমিল্লা | ১০:২৫ | ১৬:১৩ |
| কসবা | ১০:৫৪ | ১৫:৪১ |
| আখাউড়া | ১১:৩০ | ১৫:২০ |
| হরষপুর | ১২:০৫ | ১৪:৩৯ |
| নোয়াপাড়া | ১২:২৮ | ১৪:২৭ |
| শায়েস্তাগঞ্জ | ১২:৫০ | ১৩:৫৪ |
| শ্রীমঙ্গল | ১৩:৩০ | ১২:৫৪ |
| ভানুগাছ | ১৩:৪৮ | ১২:৩২ |
| শমসের নগর | ১৪:০৬ | ১২:২১ |
| কুলাউড়া | ১৪:৩২ | ১১:৫৫ |
| বরমচাল | ১৪:৪৮ | — |
| মাইজগাঁও | ১৫:০৭ | ১১:০৯ |
গুরুত্বপূর্ণ কথা: কিছু সময়সূচীতে উল্টো ক্রম বা সময় প্রদর্শনে বিভ্রান্তি থাকতে পারে, কারণ “আপ/ডাউন” ট্রেন অনুযায়ী সময় আলাদা হয়। তাই আপনি যে দিকের যাত্রা করবেন, সেই দিকের টিকেটে থাকা সময়ই চূড়ান্ত ধরে নিন।
বিরতি স্টেশন ব্যবহার করে কীভাবে পরিকল্পনা করবেন
- আপনি যদি কুমিল্লা, লাকসাম, আখাউড়া বা শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে নামতে চান, আগে থেকে আসন নিশ্চিত করুন
- বিরতি স্টেশন বেশি হলে কখনও কখনও মোট সময় একটু বাড়তে পারে
- ছুটির দিনে স্টেশন প্ল্যাটফর্ম ভিড় হতে পারে, তাই লাগেজ আগেই গুছিয়ে রাখুন
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া তালিকা
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া আসন বিভাগের ওপর নির্ভর করে। একই রুটে শোভন চেয়ার তুলনামূলক কম, আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) বিভাগে ভাড়া বেশি হয়। সাধারণভাবে টিকেটে ভ্যাট যুক্ত থাকতে পারে। নিচের টেবিলে বহুল ব্যবহৃত আসন বিভাগ ও টিকেটের মূল্য দেওয়া হলো।
আসন বিভাগ ও টিকেটের মূল্য (১৫% ভ্যাটসহ)
| আসন বিভাগ | টিকেটের মূল্য |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৪৫০ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৮৫৭ টাকা |
| AC Seat | ১০৩০ টাকা |
| AC Berth | (রুট/কোচ অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে) |
নোট: AC Berth ভাড়া কোচের ধরন, বার্থ সংখ্যা ও রেলওয়ের নির্ধারণ অনুযায়ী বদলাতে পারে। টিকেট কাটার সময় আপনার গন্তব্য ও কোচ অনুসারে চূড়ান্ত ভাড়া দেখাবে।
টিকেট কাটার নিয়ম ও দরকারি টিপস: পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানার পর সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো টিকেট নিশ্চিত করা। কিছু যাত্রী কাউন্টার থেকে কাটেন, অনেকেই অনলাইনে নিতে চান।
কাউন্টার থেকে টিকেট কাটলে যা লাগবেঃ
- জাতীয় পরিচয়পত্র/পরিচয়পত্র লাগতে পারে
- ব্যস্ত দিনে লাইনে সময় লাগতে পারে
- যাত্রার দিন সকালেই কাউন্টারে ভিড় বেড়ে যায়
অনলাইনে টিকেট কাটলে যা লাগবেঃ
- সময় বাঁচে, আসন বাছাই সহজ হয়
- পেমেন্ট ঠিকমতো না হলে টিকেট কনফার্ম হয় না, তাই লেনদেন শেষে কনফার্মেশন দেখে নিন
- ভ্রমণের আগে টিকেটের তথ্য (তারিখ, কোচ, আসন নম্বর, যাত্রা সময়) মিলিয়ে নিন
FAQ
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী কোথায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া যায়?
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলো আপনার টিকেটে ছাপা সময় এবং স্টেশনের অফিসিয়াল ঘোষণা। অনলাইন টিকেটিং প্ল্যাটফর্মেও সময় দেখা যায়।
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া কি সবসময় একই থাকে?
মূল ভাড়া সাধারণত একই থাকে, তবে ভ্যাট, সার্ভিস চার্জ, বা রেলওয়ের আপডেট অনুযায়ী ভাড়া পরিবর্তন হতে পারে।
কোন আসন বিভাগটি বেশি আরামদায়ক?
আরামের দিক থেকে সাধারণত স্নিগ্ধা, AC Seat এবং AC Berth ভালো। বাজেট কম হলে শোভন চেয়ার উপযুক্ত।
ট্রেন দেরি হলে কী করবেন?
স্টেশনের ঘোষণা শুনুন, এবং প্রয়োজন হলে ইনফরমেশন কাউন্টার থেকে আপডেট নিন।
চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে এই ট্রেন সপ্তাহে কতদিন চলে?
এটি নির্দিষ্ট দিন ছুটি রেখে চলে। প্রদত্ত সময়সূচী অনুযায়ী চট্টগ্রাম টু সিলেট সোমবার ছুটি এবং সিলেট টু চট্টগ্রাম বুধবার ছুটি।
শেষ কথা
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন এবং ভাড়া এই তিনটি তথ্য আগে থেকে জানলে আপনার চট্টগ্রাম–সিলেট যাত্রা অনেক সহজ হয়। সঠিক সময়সূচী দেখে স্টেশনে আগে পৌঁছানো, প্রয়োজন অনুযায়ী আসন বিভাগ বেছে নেওয়া এবং টিকেটের তথ্য মিলিয়ে নেওয়াই স্মার্ট ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল অংশ।






