ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী প্রতিদিন মোট ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন এই রুটে চলাচল করে – তূর্ণা এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি এবং পারাবত এক্সপ্রেস। ভোর ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ট্রেনগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে ছেড়ে ২ ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছায়। ভাড়া শুরু হয় শোভন চেয়ারের ১৭০ টাকা থেকে আর এসি বার্থে সর্বোচ্চ ৬৩৭ টাকা পর্যন্ত।
দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে যাতায়াত করা যাত্রীদের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকার এই পথটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম ব্যস্ততম ও নির্ভরযোগ্য রুট। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী অফিস, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে এই ট্রেনগুলো ব্যবহার করেন। এই আর্টিকেলে ২০২৬ সালের সবচেয়ে আপডেট সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা এবং টিকেট বুকিং সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী কয়টি ট্রেন চলাচল করে?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী মোট ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। এই ট্রেনগুলো মূলত চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেট থেকে ছেড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকায় পৌঁছায় ফলে যাত্রীরা দিনের বিভিন্ন সময়ে সুবিধামতো ট্রেন বেছে নিতে পারেন।
| ট্রেনের নাম (নম্বর) | ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়ার সময় | ঢাকা পৌঁছানোর সময় | যাত্রার সময় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|---|
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | ০৩:১০ AM | ০৫:১০ AM | ২ ঘণ্টা | নেই |
| উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১) | ০৯:১৫ AM | ১১:২০ AM | ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট | বৃহস্পতিবার |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১) | ০৪:৩০ PM | ০৬:৪০ PM | ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট | রবিবার |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৮) | ০৫:১৩ PM | ০৭:১৫ PM | ২ ঘণ্টা ২ মিনিট | বৃহস্পতিবার |
| মহানগর গোধূলি (৭০৩) | ০৬:৪৫ PM | ০৮:৪৫ PM | ২ ঘণ্টা | নেই |
| পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) | ০৮:৩৪ PM | ১০:৪০ PM | ২ ঘণ্টা ৬ মিনিট | সোমবার |
ভোরের যাত্রার জন্য কোন ট্রেন উপযুক্ত – তূর্ণা এক্সপ্রেস কেমন?
খুব ভোরে ঢাকা পৌঁছাতে চাইলে তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) সবচেয়ে ভালো । এই ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে রাত ১১:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ফেনী, লাকসাম, কুমিল্লা ও আখাউড়া হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছায় রাত ৩টা ৭ মিনিটে এবং ৩ মিনিট যাত্রাবিরতির পর ভোর ৩টা ১০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে যায়। ভৈরব বাজার হয়ে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। যারা সকাল সকাল ঢাকায় কোনো জরুরি কাজ সারতে চান। তাদের জন্য এই ট্রেনটি বিশেষভাবে উপযোগী।
দিনের বেলা যাত্রার জন্য কোন ট্রেন সবচেয়ে ভালো?
সকালে অফিস বা ব্যবসায়িক কাজে ঢাকা যেতে হলে উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১) সবচেয়ে সুবিধাজনক। কারণ এটি সকাল ৯:১৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে বেলা ১১:২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে দেয়। ট্রেনটি নোয়াখালী থেকে যাত্রা শুরু করে মাইজদী কোর্ট, চৌমুহনী, লাকসাম, কুমিল্লা ও আখাউড়া হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, উপকূল এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বৃহস্পতিবার।
বিকেল ও সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকার ট্রেন কোনগুলো?
বিকেল ও সন্ধ্যায় ঢাকা যাওয়ার জন্য যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে বেশি বিকল্প রয়েছে –
- এই সময়ে মোট চারটি ট্রেন পাওয়া যায়। প্রথমটি মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১), যা বিকেল ৪:৩০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। এটি চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং রবিবার বন্ধ থাকে।
- দ্বিতীয়টি জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৮) যা সিলেট থেকে ছেড়ে শ্রীমঙ্গল, শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে বিকেল ৫:১৩ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌঁছায় এবং সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে দেয়। এই ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ বৃহস্পতিবার।
- তৃতীয়টি মহানগর গোধূলি (৭০৩) সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে রাত ৮:৪৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছায়। এই ট্রেনটি সপ্তাহে সাতদিনই চলাচল করে, যা নিয়মিত অফিসগামী যাত্রীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।
- চতুর্থটি পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) সিলেট থেকে ছেড়ে রাত ৮:৩৪ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে যাত্রা করে রাত ১০:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। এটি দিনের শেষ ট্রেন হিসেবে যারা দেরি করে যাত্রা শুরু করতে চান তাদের জন্য উপযুক্ত। এই ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ সোমবার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়া কত?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা রুটে ট্রেনভেদে ভাড়া ১৭০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৩৭ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, আসনের শ্রেণির উপর নির্ভর করে। সবচেয়ে সাশ্রয়ী শোভন চেয়ার এবং সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক এসি বার্থ – দুই ধরনের আসনই বেশিরভাগ ট্রেনে পাওয়া যায়।
- শোভন চেয়ার (S_CHAIR): ১৭০ টাকা – সব ট্রেনে পাওয়া যায়
- ফার্স্ট সিট (F_SEAT): ২৫৯ টাকা (ভ্যাটসহ) – মহানগর গোধূলি ও পারাবত এক্সপ্রেসে
- স্নিগ্ধা (SNIGDHA): ৩২৮ টাকা (ভ্যাটসহ) – প্রায় সব ট্রেনে
- এসি_এস (AC_S): ৩৯১ টাকা (ভ্যাটসহ) – মহানগর এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা, গোধূলি ও পারাবতে
- ফার্স্ট বার্থ (F_BERTH): ৪৪১ টাকা (ভ্যাটসহ) – শুধু তূর্ণা এক্সপ্রেসে
- এসি বার্থ (AC_B): ৬৩৭ টাকা (ভ্যাটসহ) – শুধু তূর্ণা এক্সপ্রেসে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা যাত্রায় কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত?
এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। যেমনঃ
সাপ্তাহিক বন্ধের দিন যাচাই করুন
প্রতিটি ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রয়েছে (উপকূল ও জয়ন্তিকা – বৃহস্পতিবার, মহানগর এক্সপ্রেস – রবিবার, পারাবত – সোমবার)। শুধু তূর্ণা এক্সপ্রেস ও মহানগর গোধূলি সপ্তাহের সাতদিনই চলাচল করে।
স্টেশনে সময়মতো পৌঁছান
ট্রেনগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে মাত্র ৩ থেকে ৪ মিনিট যাত্রাবিরতি করে, তাই নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত থাকা উচিত।
জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন
অনলাইনে টিকেট কাটার সময় ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য ভ্রমণকালে সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক, কারণ টিটি চেকিংয়ের সময় তা যাচাই করা হয়।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী বেশ ঘনঘন এবং যাত্রীবান্ধব – সকাল, দুপুর, বিকেল ও রাত, দিনের প্রায় প্রতিটি ভাগেই একটি না একটি ট্রেন পাওয়া যায়। ভোরের যাত্রার জন্য তূর্ণা এক্সপ্রেস, সকালে উপকূল এক্সপ্রেস, আর সন্ধ্যায় একাধিক বিকল্পের মধ্যে মহানগর গোধূলি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কারণ এটি সপ্তাহে সাতদিনই চলে। যাত্রার আগে সময়সূচী, ভাড়া ও বন্ধের দিন যাচাই করে অগ্রিম টিকেট কেটে নিলে যাত্রা হবে আরামদায়ক ও ঝামেলামুক্ত।






