আপনি কি ঢাকা টু আব্দুলপুর ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিটের মূল্য সম্পর্কে তথ্য খুঁজছেন? তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছেন। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেলরুটে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ভ্রমণ করেন। অফিস, ব্যবসা কিংবা বাড়ি ফেরা যে কারণেই ভ্রমণ করুন না কেন, ট্রেনের সঠিক সময়সূচী এবং ভাড়া জানা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখানে ঢাকা টু আব্দুলপুর রুটের ট্রেনের সকল তথ্য বিশদভাবে দেওয়া হলো। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়লে আপনি শুধু সময়সূচীই জানবেন না, বরং টিকেটের মূল্য, আসন ক্যাটাগরি, টিকেট সংগ্রহের নিয়ম এবং ভ্রমণকালীন কিছু জরুরি টিপস সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন।
কেন ঢাকা টু আব্দুলপুর রুটে ট্রেনই সেরা ?
রাজধানী ঢাকা থেকে রাজশাহী বিভাগের আব্দুলপুর (যা রাজশাহী জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন) পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য ট্রেন সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আরামদায়ক মাধ্যম। বাসের তুলনায় ট্রেন যেমন অধিক নিরাপদ, তেমনি এর খরচও তুলনামূলক কম। বিশেষ করে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রা আরামদায়ক করার জন্য রয়েছে আধুনিক কোচ এবং বিভিন্ন ধরণের আসন ব্যবস্থা।
আন্তঃনগর ট্রেনের প্রধান সুবিধা হচ্ছে এগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যায় এবং খুব কম সংখ্যক স্টেশনে থামে, ফলে যাত্রীরা দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা টু আব্দুলপুর ট্রেনের সময়সূচী জানার আগে জেনে নেওয়া যাক এই রুটের বিশেষত্ব সম্পর্কে।
আরও জানতে পারেনঃ জয়দেবপুর থেকে মিজাপুর ট্রেনের সময়সূচি
এই রুটে ট্রেন ভ্রমণের সুবিধাসমূহ:
- বাসের পিচ্ছিল রাস্তার তুলনায় ট্রেনের মসৃণ যাত্রা।
- বাসের তুলনায় টিকেটের মূল্য অনেকটাই কম।
- ট্রেনে পর্যাপ্ত পরিমাণ মালামাল নেওয়ার সুযোগ থাকে।
- জানালার পাশে বসে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
ঢাকা টু আব্দুলপুর ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ভ্রমণের জন্য আন্তঃনগর ট্রেন’ই প্রায় সব ট্রাভেলারদের জন্য সেরা পছন্দ; এর প্রধান কারণ হচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেন অনেক আরামদায়ক এবং ব্রেক স্টেশনগুলোতে না থেমে ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। তাছাড়া এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সিট ক্যাটাগরি, মানুষ এসব সুবিধার জন্য আন্তঃনগর ট্রেন বেছে নেয়।
ঢাকা টু আব্দুলপুর রুটে ৩টি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। এই রুটের সমস্ত আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী নীচে দেওয়া হল। মনে রাখবেন, ট্রেনের সময়সূচী সরকারি ছুটির দিন বা বিশেষ কারণে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যাত্রা শুরুর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপডেট নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
| ট্রেনের নাম (নম্বর) | ছুটির দিন | ছাড়ার সময় (ঢাকা) | পৌঁছানোর সময় (আব্দুলপুর) | মোট ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩) | রবিবার | ১৪:৪০ (বিকাল ২:৪০) | ১৯:৩৮ (সন্ধ্যা ৭:৩৮) | ৪ ঘন্টা ৫৮ মিনিট |
| পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯) | মঙ্গলবার | ২২:৪৫ (রাত ১০:৪৫) | ০৩:২৪ (ভোর ৩:২৪) | ৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট |
| ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) | বৃহস্পতিবার | ০৬:০০ (সকাল ৬:০০) | ১০:৩৯ (সকাল ১০:৩৯) | ৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট |
ট্রেনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩): এটি একটি দিনের ট্রেন। যারা দুপুরের পর ঢাকা ছেড়ে সন্ধ্যার মধ্যে আব্দুলপুর পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা অপশন। সপ্তাহে শুধু রবিবার এই ট্রেনটি চলাচল করে না।
- পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯): এটি একটি রাতের ট্রেন। যারা অফিস শেষে বা দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে যাত্রা করে ভোরে আব্দুলপুর পৌঁছে কাজ শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ। সাপ্তাহিক বন্ধ: মঙ্গলবার।
- ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯): সকালের এই ট্রেনটি খুব ভোরে যাত্রা শুরু করে দুপুরের আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যায়। এটি ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সুবিধাজনক। সাপ্তাহিক বন্ধ: বৃহস্পতিবার।
ঢাকা টু আব্দুলপুর ট্রেনের ভাড়া তালিকা ২০২৬
এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে, অর্থাৎ টিকেটের মূল্য। ঢাকা টু আব্দুলপুর রুটের ট্রেনের এসি, নন এসি, কেবিন সহ সকল ধরনের সিট ক্যাটাগরির টিকেটের মূল্য নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। বাংলাদেশ রেলওয়ে সময় ও দূরত্ব অনুসারে এই ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। নিচের টেবিলে উল্লেখিত মূল্য ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য এবং এটি পরবর্তী কোনো সময়ে পরিবর্তন হতে পারে।
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য (প্রতি জন) | সুবিধাসমূহ |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৪০৫ টাকা | সাধারণ চেয়ার, ইকোনমি ক্লাস, পরিষ্কার ও আরামদায়ক। |
| স্নিগ্ধা | ৭৭১ টাকা | এয়ার-কন্ডিশন্ড চেয়ার, অধিক আরামদায়ক আসন, কম শব্দ। |
| এসি সিট | ৯২৬ টাকা | উন্নতমানের এসি কোচ, নরম আসন, নিরিবিলি পরিবেশ। |
| এসি বার্থ | ১৩৮৬ টাকা | রাতের ট্রেনের জন্য আদর্শ, শুয়ে যাওয়ার সুবিধা, পর্দার ব্যবস্থা। |
কোন ক্যাটাগরির টিকেট আপনার জন্য সেরা?
- বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য: যদি আপনি কম খরচে ভ্রমণ করতে চান এবং এসির প্রয়োজন না হয়, তাহলে শোভন চেয়ার আপনার জন্য সেরা পছন্দ। ৪০৫ টাকায় আপনি আরামদায়ক সিট পাবেন।
- আরামপ্রিয় ও ডে-টাইম ট্রাভেলারদের জন্য: দিনের বেলা ভ্রমণে একটু আরাম ও এসির প্রয়োজন হলে স্নিগ্ধা বা এসি সিট বেছে নিতে পারেন। স্নিগ্ধায় যাত্রা অনেক বেশি প্রীতিকর হয়।
- রাতের যাত্রীদের জন্য: পদ্মা এক্সপ্রেস যদি রাতে ভ্রমণ করেন, তাহলে এসি বার্থ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনি সারা রাত শুয়ে বিশ্রাম নিয়ে সকালে আব্দুলপুর পৌঁছে সতেজ থাকবেন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া রাতে নন-এসি বার্থ না নেওয়াই ভালো, কারণ সেখানে অনেক সময় যাত্রীদের ভিড় ও শব্দ হয়।
টিকেট সংগ্রহের সহজ উপায়
এখন আপনি চাইলে কোনো প্রকার চিন্তা ছাড়াই ঢাকা টু আব্দুলপুর ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে এর জন্য আগে থেকে টিকেট সংগ্রহ করা জরুরি। বিশেষ করে ঈদ, পূজা বা দীর্ঘ ছুটির সময় টিকেট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়।
টিকেট সংগ্রহের পদ্ধতিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- অনলাইনে টিকেট সংগ্রহ:
- বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
eticket.railway.gov.bdথেকে সরাসরি টিকেট কাটতে পারেন। - যাত্রা শুরুর ১০ দিন আগ থেকে অনলাইনে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে কাউন্টার ও অনলাইন উভয় মাধ্যমেই টিকেট পাওয়া যায়।
- মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও খুব সহজেই টিকেট বুক করা যায়।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
- কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ:
- ঢাকা থেকে ট্রেনে ভ্রমণের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সরাসরি টিকেট কিনতে পারেন।
- এছাড়া বিভিন্ন শহরের প্রধান রেলস্টেশন এবং অনুমোদিত এজেন্ট থেকেও টিকেট পাওয়া যায়।
ঢাকা টু আব্দুলপুর ট্রেন ভ্রমণ: কিছু জরুরি টিপস
আপনার যাত্রা যেন মসৃণ ও নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য কয়েকটি টিপস মেনে চলতে পারেন:
- সময়মতো স্টেশনে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে চলে যাওয়া ভালো। বিশেষ করে ঢাকা কমলাপুর স্টেশন অনেক বড়, আপনার প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেতে সময় লাগতে পারে।
- খাবার ব্যবস্থা: আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে সাধারণত খাবার পরিবেশন করা হয় (অগ্রিম বুকিং সাপেক্ষে)। তবে আপনি চাইলে নিজের জন্য শুকনো খাবার ও পানি সঙ্গে নিতে পারেন।
- মূল্য পরিশোধ: টিকেটের মূল্য টেবিলে উল্লেখিত আছে। অনলাইনে বুকিং দিলে নির্ধারিত মূল্যই দিতে হবে। কাউন্টার থেকেও নির্ধারিত মূল্যের বেশি না দেওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকুন।
- আসন নিশ্চিতকরণ: অনলাইনে টিকেট কাটার সময় আপনার নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সঠিকভাবে দিন। ট্রেনে ওঠার সময় টিকেট চেক করা হতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ করে দেয়। এই রুটে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস—এই তিনটি ট্রেন চলাচল করে। উপরে দেওয়া ঢাকা টু আব্দুলপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা দেখে আপনি আপনার সুবিধামতো ট্রেন এবং আসন বেছে নিতে পারেন। আশা করি আমরা আপনাকে এই রুটের ট্রেন সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পেরেছি। সময়মতো টিকেট সংগ্রহ করে একটি সুন্দর ও আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করুন।ত
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্নাবলী
ঢাকা থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪০৫ টাকা, স্নিগ্ধায় ৭৭১ টাকা, এসি সিটে ৯২৬ টাকা এবং এসি বার্থে ১৩৮৬ টাকা।
ঢাকা থেকে আব্দুলপুরগামী প্রথম ট্রেন কোনটি?
ঢাকা থেকে আব্দুলপুরগামী প্রথম ট্রেন হলো ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯)। এটি সকাল ০৬:০০ টায় ছেড়ে যায়।
সপ্তাহের কোন দিন ঢাকা-আব্দুলপুর রুটে কোনো ট্রেন চলে না?
নির্দিষ্ট একটি দিন নয়; প্রতিটি ট্রেনের নিজস্ব সাপ্তাহিক বন্ধের দিন আছে। সিল্কসিটি বন্ধ রবিবার, পদ্মা বন্ধ মঙ্গলবার এবং ধূমকেতু বন্ধ বৃহস্পতিবার।
অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কতদিন আগে থেকে বুক করা যায়?
বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে যাত্রা শুরুর ১০ দিন আগে থেকে টিকেট বুক করা যায়।
ঢাকা টু আব্দুলপুর রুটের ট্রেনগুলো কমলাপুর ছাড়া আর কোথায় থামে?
ঢাকা ছাড়ার পর ট্রেনগুলো সাধারণত টঙ্গী, জয়দেবপুর, ভৈরব বাজার, ঢাকা বিমানবন্দর (ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট) ইত্যাদি স্টেশনে থামতে পারে। তবে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো খুব সীমিত সংখ্যক স্টেশনে থামে।







One Comment