উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানতে চান? ঢাকা থেকে সিলেট কিংবা সিলেট থেকে ঢাকা সবুজ চা বাগান আর পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে রেল ভ্রমণ বরাবরই রোমাঞ্চকর। এই রুটে যাত্রীদের প্রধান পছন্দ হলো উপবন এক্সপ্রেস। আপনি যদি ঢাকা-সিলেট রুটে যাতায়াতের পরিকল্পনা করে থাকেন তবে আপনার অবশ্যই উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। আজকের এই পোষ্টে আমরা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সকল আপডেটেড তথ্য নিয়ে আলোচনা করব। এই ট্রেনটি তার চমৎকার সেবা ও সঠিক সময়ের জন্য যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নিচে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন এবং আসন অনুযায়ী ভাড়ার বিস্তারিত আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি
উপবন এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। এটি মূলত ঢাকা এবং সিলেটের মধ্যে চলাচল করে। ট্রেনটির নম্বর হচ্ছে ৭৩৯ (ঢাকা থেকে সিলেট) এবং ৭৪০ (সিলেট থেকে ঢাকা)। দীর্ঘ যাত্রাপথে যাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করতে এই ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণির আসন ব্যবস্থা রয়েছে। রাতের যাত্রা হওয়ার কারণে অনেকেই এই ট্রেনটি বেছে নেন যাতে ভোরে গন্তব্যে পৌঁছে সারাদিন কাজ করা যায়।
উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ভ্রমণের আগে ট্রেনের সঠিক সময় জেনে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রাতে রওনা দেয়। নিচে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী উপস্থাপন করা হয়েছে:
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | যাত্রা শুরুর স্থান | গন্তব্য স্থান | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯) | ঢাকা (কমলাপুর) | সিলেট | রাত ১০:০০ | ভোর ০৫:০০ | বুধবার |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) | সিলেট | ঢাকা | রাত ১১:৩০ | ভোর ০৫:৪৫ | নেই |
এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার সময় বুধবার এই ট্রেনটি চলাচল করে না। তবে সিলেট থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই অর্থাৎ এটি প্রতিদিন চলাচল করে।
উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন ও সময় ২০২৬
দীর্ঘ এই যাত্রাপথে উপবন এক্সপ্রেস গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রীরা চাইলে এই স্টেশনগুলো থেকেও যাতায়াত করতে পারেন। নিচে বিরতি স্টেশনগুলোর তালিকা এবং সময় দেওয়া হলো:
| বিরতি স্টেশনের নাম | ঢাকা থেকে সিলেট (৭৩৯) | সিলেট থেকে ঢাকা (৭৪০) |
| ঢাকা বিমানবন্দর | রাত ১০:২৩ | ভোর ০৫:১২ |
| নরসিংদী | রাত ১১:০৯ | (যাত্রাবিরতি নেই) |
| ভৈরব বাজার | রাত ১১:৪০ | ভোর ০৪:০৩ |
| শায়েস্তাগঞ্জ | রাত ০১:২২ | রাত ০২:৩০ |
| শ্রীমঙ্গল | রাত ০২:০৬ | রাত ০১:৪১ |
| ভানুগাছ | রাত ০২:৩০ | রাত ০১:২০ |
| শমসের নগর | রাত ০২:৪১ | রাত ০১:০৯ |
| কুলাউড়া | রাত ০৩:০৮ | রাত ১২:৪৩ |
| বরমচাল | রাত ০৩:২৫ | রাত ১২:২৮ |
| মাইজগাঁও | রাত ০৩:৪৩ | রাত ১২:০৯ |
আপনার সুবিধামতো নিকটস্থ স্টেশন থেকে আপনি এই ট্রেনে উঠতে পারবেন। তবে বড় স্টেশনগুলোতে ট্রেনের স্টপেজ টাইম একটু বেশি থাকে।
উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
রেল ভ্রমণ সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে সব শ্রেণির মানুষের কাছে এটি জনপ্রিয়। উপবন এক্সপ্রেসে সাধারণ শোভন চেয়ার থেকে শুরু করে এসি বার্থ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসন রয়েছে। ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো (ভ্যাটসহ সম্ভাব্য মূল্য):
| আসনের শ্রেণি | টিকেটের মূল্য (ভ্যাটসহ) |
| শোভন | ৩২০ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ৩৭৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৭১৯ টাকা |
| এসি সিট | ৮৬৩ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ১২৮৮ টাকা |
| এসি বার্থ | ১৯৩২ টাকা |
সতর্কতা: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়ার হার পরিবর্তন করতে পারে। তাই যাত্রার আগে অনলাইন বা কাউন্টার থেকে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আরও জানুনঃ মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
অনলাইন টিকেট বুকিং পদ্ধতি ২০২৬
বর্তমানে ঘরে বসেই বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba‘ অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট কাটা যায়। উপবন এক্সপ্রেসের টিকেট সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে পাওয়া যায়। জনপ্রিয় ট্রেন হওয়ায় শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগেভাগে টিকেট সংগ্রহ করা ভালো।
উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা
এই ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে:
- আসন বিন্যাস: আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং রাতে ঘুমানোর জন্য বার্থের সুবিধা।
- নামাজের স্থান: ট্রেনের নির্দিষ্ট কামরায় নামাজের জন্য জায়গা সংরক্ষিত থাকে।
- খাবার ব্যবস্থা: ট্রেনের ক্যান্টিন থেকে হালকা নাস্তা ও চা-কপি কেনা যায়।
- নিরাপত্তা: যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশ ও গার্ড সর্বদা নিয়োজিত থাকে।
ভ্রমণের জন্য কিছু টিপস
ঢাকা থেকে সিলেট রুটে উপবন এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে আপনার যাত্রা আরও সুখকর হবে:
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- অনলাইনে টিকেট কাটলে সেটি প্রিন্ট করে বা মোবাইলে টিকেট ডাউনলোড করে রাখুন।
- যাত্রাপথে নিজের মালামাল সাবধানে রাখুন।
- রাতের বেলা স্টেশনে নামার সময় সতর্ক থাকুন, বিশেষ করে কুলাউড়া বা শ্রীমঙ্গলে নামলে কুয়াশার দিকে খেয়াল রাখুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
উপবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কখন ছাড়ে?
উপবন এক্সপ্রেস ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন রাত ১০:০০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
উপবন এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি কবে?
ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে (৭৩৯ নম্বর ট্রেন) বুধবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি। তবে সিলেট থেকে ঢাকা আসার পথে কোনো ছুটি নেই।
ঢাকা থেকে সিলেট যেতে উপবন এক্সপ্রেসে কত সময় লাগে?
সাধারণত ঢাকা থেকে সিলেট পৌঁছাতে উপবন এক্সপ্রেসের প্রায় ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে আবহাওয়া বা সিগনালের কারণে কিছুটা সময় কম-বেশি হতে পারে।
উপবন এক্সপ্রেসের এসি টিকেটের দাম কত?
উপবন এক্সপ্রেসে স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ক্লাসের ভাড়া ৭১৯ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া প্রায় ১৯৩২ টাকার মতো।
ট্রেনটি কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, এটি একটি আন্তঃনগর ট্রেন এবং এতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। রাতের ভ্রমণের জন্য এটি বেশ নিরাপদ এবং আরামদায়ক।
শেষ কথা
সিলেট রুটে যাতায়াতের জন্য উপবন এক্সপ্রেস এক বিশ্বস্ত নাম। সঠিক সময়ানুবর্তিতা এবং সুলভ ভাড়ার কারণে এই ট্রেনটি যাত্রীদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি এই তথ্যগুলো আপনার সিলেট ভ্রমণকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলবে। আপনার যাত্রা শুভ হোক এই কামনা করি।






