ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটে যাতায়াতের জন্য আরামদায়ক ও জনপ্রিয় একটি নাম হলো সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। আপনি যদি এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন বা নতুন ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন। তবে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের নতুন সময়সূচী ২০২৬ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। আধুনিক কোচ ও উন্নত যাত্রীসেবার কারণে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এই ট্রেনটি অত্যন্ত পছন্দের। আজকের পোষ্টে আমরা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের এর সময়সূচী, টিকেট মূল্য, বিরতি স্টেশন এবং সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ লোকেশন চেক করার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি
আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২০০৩ সালে প্রথম ঢাকা-রাজশাহী রুটে যাত্রা শুরু করে। ট্রেনটি ৬৬০০ সিরিজের শক্তিশালী লোকোমোটিভ দিয়ে পরিচালিত হয়। রাজশাহীর বিখ্যাত রেশম শিল্পের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সিল্কসিটি’। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি অত্যন্ত সুনামের সাথে যাত্রী পরিবহন করে আসছে। ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা একে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। যারা যানজটমুক্ত পরিবেশে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চান তাদের জন্য সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ জেনে রাখা একটি অপরিহার্য তথ্য।
আরও জেনে নিনঃ রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন রুটিন অনুযায়ী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচীতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ট্রেনটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে ছেড়ে যায়। নিচে বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:
ঢাকা টু রাজশাহী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যায় এবং রাজশাহী জংশনে পৌঁছায় রাত ৮টা ২০ মিনিটে। ঢাকা থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে ট্রেনটির প্রায় ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট বা প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| ঢাকা কমলাপুর | — | দুপুর ০২:৩০ |
| বিমানবন্দর | দুপুর ০২:৫২ | দুপুর ০২:৫৫ |
| জয়দেবপুর | বিকাল ০৩:১৮ | বিকাল ০৩:২১ |
| মির্জাপুর | বিকাল ০৩:৫৮ | বিকাল ০৪:০০ |
| টাঙ্গাইল | বিকাল ০৪:২৪ | বিকাল ০৪:২৬ |
| বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব | বিকাল ০৪:৪৬ | বিকাল ০৪:৪৮ |
| এম মনসুর আলী | বিকাল ০৫:০৪ | বিকাল ০৫:০৬ |
| জামতলী | বিকাল ০৫:১৫ | বিকাল ০৫:১৭ |
| উল্লাপাড়া | বিকাল ০৫:২৯ | বিকাল ০৫:৩১ |
| বড়াল ব্রিজ | সন্ধ্যা ০৬:০৪ | সন্ধ্যা ০৬:০৬ |
| চাটমোহর | সন্ধ্যা ০৬:২১ | সন্ধ্যা ০৬:২৩ |
| ঈশ্বরদী বাইপাস | সন্ধ্যা ০৬:৪৬ | সন্ধ্যা ০৬:৪৮ |
| আব্দুলপুর | সন্ধ্যা ০৭:০৪ | সন্ধ্যা ০৭:০৬ |
| রাজশাহী জংশন | রাত ০৮:২০ | — |
রাজশাহী টু ঢাকা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
রাজশাহী থেকে ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে এবং ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| রাজশাহীর জংশন | — | সকাল ০৭:৪০ |
| আব্দুলপুর | সকাল ০৮:১৮ | সকাল ০৮:২০ |
| ঈশ্বরদী বাইপাস | সকাল ০৮:৩৫ | সকাল ০৮:৩৭ |
| চাটমোহর | সকাল ০৮:৫৮ | সকাল ০৯:০০ |
| বড়াল ব্রিজ | সকাল ০৯:১২ | সকাল ০৯:১৪ |
| উল্লাপাড়া | সকাল ০৯:৩৪ | সকাল ০৯:৩৬ |
| জামতলী | সকাল ০৯:৪৯ | সকাল ০৯:৫১ |
| এম মনসুর আলী | সকাল ১০:০২ | সকাল ১০:০৪ |
| বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব | সকাল ১০:১৮ | সকাল ১০:২০ |
| টাঙ্গাইল | সকাল ১০:৪০ | সকাল ১০:৪২ |
| মির্জাপুর | সকাল ১১:০৮ | সকাল ১১:১০ |
| জয়দেবপুর | দুপুর ১২:০২ | দুপুর ১২:০৫ |
| ঢাকা কমলাপুর | দুপুর ০১:১০ | — |
সাপ্তাহিক বন্ধ: সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলো রবিবার।
আরও জেনে নিনঃ যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট মূল্য ২০২৬
ভ্রমণের আগে ট্রেনের ভাড়ার তালিকা জেনে নেওয়া ভালো। বাংলাদেশ রেলওয়ে দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শ্রেণির আসনের ভাড়া নির্ধারণ করেছে। নিচে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া তালিকা দেওয়া হলো:
| গন্তব্য স্টেশন | শোভন চেয়ার (টাকা) | স্নিগ্ধা (টাকা) | এসি স্লিপার (টাকা) |
| রাজশাহী টু ঢাকা | ৪৫০ | ৮৬৩ | ১০৩৫ |
| রাজশাহী টু জয়দেবপুর | ৪১০ | ৭৮৮ | ৯৪৩ |
| রাজশাহী টু মির্জাপুর | ৩৭০ | ৭০২ | ৮৪৬ |
| রাজশাহী টু টাঙ্গাইল | ৩৩৫ | ৬৪৪ | ৭৭১ |
| রাজশাহী টু ইব্রাহিমাবাদ | ৩১৫ | ৫৯৮ | ৭১৯ |
| রাজশাহী টু জামতলী | ১৫০ | ২৮২ | ৩৪০ |
| রাজশাহী টু উল্লাপাড়া | ১৩০ | ২৫৩ | ২৯৯ |
| রাজশাহী টু বড়াল ব্রিজ | ১১০ | ২০৭ | ২৪৮ |
| রাজশাহী টু চাটমোহর | ৯৫ | ১৭৯ | ২১৩ |
| রাজশাহী টু ঈশ্বরদী বাইপাস | ৭০ | ১২৭ | ১৫৬ |
| রাজশাহী টু আব্দুলপুর | ৫০ | — | — |
দ্রষ্টব্য: অনলাইনে টিকেট কাটলে প্রতি সিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে।
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট আপনি দুইভাবে সংগ্রহ করতে পারেন। একটি হলো স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে এবং অন্যটি হলো অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে। বর্তমানে অনলাইনে টিকেট কাটাই সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।
- প্রথমে
eticket.railway.gov.bdওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। - আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
- From’ অপশনে আপনার যাত্রা শুরুর স্টেশন এবং ‘To’ অপশনে গন্তব্য স্টেশন নির্বাচন করুন।
- যাত্রা তারিখ এবং আপনার পছন্দমতো সিট ক্লাস (শোভন চেয়ার/স্নিগ্ধা/এসি) সিলেক্ট করুন।
- এভেলেবল সিট থাকলে সেটি বুক করুন এবং বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- পেমেন্ট সফল হলে আপনার টিকেটটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের বিশেষ সুবিধা ও কোচ তথ্য
এই ট্রেনটি আধুনিক বায়ো-টয়লেট এবং আরামদায়ক গদিযুক্ত সিট দ্বারা সজ্জিত। ট্রেনের ভেতরে নামাজের জায়গা ও একটি ছোট ক্যাফেটেরিয়া বা খাবার গাড়ি রয়েছে। যেখানে যাত্রীরা হালকা নাস্তা এবং চা-কফি খেতে পারেন। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য রেলওয়ে পুলিশ ও অ্যাটেনডেন্ট সবসময় নিয়োজিত থাকেন।
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি কোচ থাকে। এর মধ্যে শোভন চেয়ারের সংখ্যাই বেশি থাকে। তবে ভিআইপি যাত্রীদের জন্য এসি স্নিগ্ধা ও এসি বার্থের ব্যবস্থাও রয়েছে। ট্রেনটি ৬৬০০ সিরিজের ইঞ্জিন ব্যবহার করায় এর গতিবেগ বেশ ভালো ও এটি সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম।
ট্রেনের লাইভ লোকেশন জানার উপায় ২০২৬
ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে আছে বা কতটুকু দেরি হতে পারে তা জানতে এখন আর স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। আপনি ঘরে বসেই সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের লাইভ লোকেশন জানতে পারেন।
- SMS পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন
TR<স্পেস>৭৫৩(ঢাকা থেকে রাজশাহী হলে) অথবা৭৫৪(রাজশাহী থেকে ঢাকা হলে) এবং পাঠিয়ে দিন১৬৩১৮নম্বরে। ফিরতি মেসেজে আপনাকে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের কোড নম্বর কত?
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের কোড নম্বর হলো ৭৫৩ এবং ৭৫৪। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার সময় এর নম্বর ৭৫৩ এবং রাজশাহী থেকে ফেরার সময় ৭৫৪।
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
না, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস সপ্তাহের ৬ দিন চলাচল করে। রবিবার এর সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।
ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে কত সময় লাগে?
সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে সাধারণত ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
অনলাইনে টিকেট কতদিন আগে কেনা যায়?
যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইন বা কাউন্টারে টিকেট সংগ্রহ করা যায়।
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস কোন কোন স্টেশনে থামে?
এই ট্রেনটি বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব, এম মনসুর আলী, জামতলী, উল্লাপাড়া, বড়াল ব্রিজ, চাটমোহর, ঈশ্বরদী বাইপাস এবং আব্দুলপুর স্টেশনে বিরতি দেয়।
শেষ কথা
রাজশাহী এবং ঢাকার মধ্যে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের আস্থার নাম সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। সঠিক সময়ানুবর্তিতা এবং সুলভ ভাড়ার কারণে এই ট্রেনের টিকেটের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। আমরা আশা করি, আমাদের এই আর্টিক্যালের মাধ্যমে আপনি সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের নতুন সময়সূচী ২০২৬, টিকেট মূল্য এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পেয়েছেন। ভ্রমণের অন্তত কয়েকদিন আগেই টিকেট নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো ঝামেলা না হয়।






