ঢাকা থেকে ভৈরব যেতে সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন হলো মহানগর প্রভাতী (৭০৪), যা মাত্র ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিটে পৌঁছে দেয়। সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত মোট দশটি ট্রেন এই রুটে চলাচল করে। নিচে ঢাকা টু ভৈরব ট্রেনের সময়সূচী বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো যাতে আপনি সহজেই নিজের জন্য উপযুক্ত ট্রেনটি বেছে নিতে পারেন।
আমি নিজে সম্প্রতি ঢাকা থেকে ভৈরব ট্রেনে ভ্রমণ করেছি এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নিচের সময়সূচী, ভাড়া ও টিকিট কৌশলগুলো শেয়ার করছি। কমলাপুর স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে ভৈরব বাজার স্টেশনে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি কেমন, কোন সময়ে ভিড় কম থাকে ও কোন শ্রেণির আসন সবচেয়ে ভালো মূল্যের বিনিময়ে আরাম দেয়, তার সবকিছুই এখানে ধাপে ধাপে বলা হয়েছেঃ
ঢাকা থেকে ভৈরব যাওয়ার জন্য কোন ট্রেনগুলো পাওয়া যায়?
ঢাকা কমলাপুর থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত মোট দশটি ইন্টারসিটি ও কমিউটার ধাঁচের ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে কয়েকটি সম্পূর্ণ ইন্টারসিটি ট্রেন, আবার কয়েকটিতে শোভন শ্রেণির আসনও রয়েছে যা কম খরচে যাত্রার সুযোগ দেয়।
- পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯)
- এগারোসিন্দুর প্রভাতী (৭৩৭)
- মহানগর প্রভাতী (৭০৪)
- কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮১)
- চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২)
- উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২)
- এগারোসিন্দুর গোধূলি (৭৪৯)
- মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২)
- উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯)
- তূর্ণা (৭৪২)
স্থানীয় স্টেশন মাস্টারের মতে সকালের দিকের ট্রেনগুলোতে অফিসগামী যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। তাই যাঁরা আরামে বসে যেতে চান তাঁদের জন্য দুপুর বা বিকেলের ট্রেন বেছে নেওয়া তুলনামূলক ভালো।
ঢাকা টু ভৈরব ট্রেনের সময়সূচী
নিচে ২০২৬ সালের সময়সূচী অনুযায়ী সব কয়টি ট্রেনের ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় এবং যাত্রার মোট সময় দেওয়া হলো। যাত্রার সময় পরিকল্পনা করার সময় এই তালিকাটি প্রথমেই দেখে নিনঃ
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ঢাকা ছাড়ার সময় | ভৈরব পৌঁছানোর সময় | যাত্রার সময় |
|---|---|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস | ৭০৯ | ০৬:৩০ | ০৮:০৩ | ১ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট |
| এগারোসিন্দুর প্রভাতী | ৭৩৭ | ০৭:১৫ | ০৮:৫৩ | ১ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট |
| মহানগর প্রভাতী | ৭০৪ | ০৭:৪৫ | ০৯:১৬ | ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস | ৭৮১ | ১০:৩০ | ১২:১৫ | ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| চট্টলা এক্সপ্রেস | ৮০২ | ১৪:১৫ | ১৫:৫৭ | ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট |
| উপকূল এক্সপ্রেস | ৭১২ | ১৫:১০ | ১৬:৫০ | ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট |
| এগারোসিন্দুর গোধূলি | ৭৪৯ | ১৮:৪৫ | ২০:৩০ | ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস | ৭২২ | ২১:২০ | ২৩:০০ | ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট |
| উপবন এক্সপ্রেস | ৭৩৯ | ২২:০০ | ২৩:৪০ | ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট |
| তূর্ণা | ৭৪২ | ২৩:১৫ | ০০:৪৯ | ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট |
আমার যাত্রায় দেখেছি সময়সূচী প্রায় নির্ভুলভাবে মেনে চলা হয় তবে বৃষ্টির মৌসুমে বা সিগন্যাল জটিলতার কারণে কখনো কখনো দশ থেকে পনেরো মিনিট দেরি হতে পারে। তাই স্টেশনে অন্তত বিশ মিনিট আগে পৌঁছানোই ভালো অভ্যাস।
ঢাকা টু ভৈরব ট্রেনের ভাড়া কত?
শ্রেণিভেদে ভাড়ার পার্থক্য অনেকটাই বেশি, তাই বাজেট অনুযায়ী শ্রেণি বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিচে প্রতিটি ট্রেনের শ্রেণি ও ভাড়া দেওয়া হলোঃ
| ট্রেনের নাম | শ্রেণি | ভাড়া |
|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯) | স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা | |
| প্রথম আসন | ১৯০ টাকা | |
| এসি সিট | ২৮২ টাকা | |
| এগারোসিন্দুর প্রভাতী (৭৩৭) | শোভন | ১০৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা | |
| প্রথম চেয়ার | ১৯০ টাকা | |
| প্রথম আসন | ১৯০ টাকা | |
| মহানগর প্রভাতী (৭০৪) | শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা |
| প্রথম আসন | ১৯০ টাকা | |
| এসি সিট | ২৮২ টাকা | |
| স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা | |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮১) | এসি সিট | ২৮২ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা | |
| স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা | |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২) | স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা |
| এসি সিট | ২৮২ টাকা | |
| শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা | |
| উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) | শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা | |
| এগারোসিন্দুর গোধূলি (৭৪৯) | শোভন | ১০৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা | |
| প্রথম চেয়ার | ১৯০ টাকা | |
| প্রথম আসন | ১৯০ টাকা | |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা |
| এসি বার্থ | ৪৭৬ টাকা | |
| স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা | |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯) | শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা |
| এসি বার্থ | ৪৭৬ টাকা | |
| স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা | |
| তূর্ণা (৭৪২) | শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ৩৩২ টাকা | |
| এসি বার্থ | ৪৭৬ টাকা | |
| স্নিগ্ধা | ২৩৬ টাকা |
স্নিগ্ধা ও এসি সিট শ্রেণিতে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হলেও এসিতে ভ্রমণ আরামদায়ক এবং গরমের দিনে বিশেষভাবে সুবিধাজনক। অন্যদিকে শোভন চেয়ার স্বল্প বাজেটের যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প।
ঢাকা টু ভৈরব ট্রেনের টিকিট কীভাবে বুক করবেন?
বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট এখন অনলাইন টিকিট ও কাউন্টার টিকিট দুইভাবেই সংগ্রহ করা যায়। অনলাইন টিকিট কাটতে হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হয়, যেখানে নিবন্ধনের পর ট্রেন, তারিখ ও শ্রেণি নির্বাচন করে সহজেই টিকিট কাটা যায়।
যাঁরা অনলাইনে টিকিট কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তাঁরা কমলাপুর স্টেশনের কাউন্টার থেকেও সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। আমার যাত্রায় দেখেছি যাত্রার তারিখের কয়েকদিন আগে টিকিট কাটলে পছন্দের শ্রেণি ও আসন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়, বিশেষ করে ঈদ বা পূজার মতো উৎসবের সময়।
- যাত্রার অন্তত তিন থেকে পাঁচ দিন আগে টিকিট কাটার চেষ্টা করুন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ হাতের কাছে রাখুন, কারণ নিবন্ধনের সময় এটি প্রয়োজন হয়।
- উৎসবের মৌসুমে সার্ভারে চাপ বেশি থাকে, তাই ভোরবেলা বা রাতের দিকে চেষ্টা করলে সুবিধা হতে পারে।
- ভ্রমণের আগে ট্রেনের সময়সূচীতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা একবার যাচাই করে নিন।
কোন সময়ে ভিড় কম থাকে এবং কোন শ্রেণি সবচেয়ে ভালো?
সকাল সাতটা থেকে দশটার মধ্যে ছাড়া ট্রেনগুলোতে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের ভিড় বেশি থাকে। এই সময়ের বাইরে অর্থাৎ দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে তুলনামূলক আসন খালি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
স্থানীয় স্টেশন মাস্টারের মতে রাতের ট্রেনগুলো, যেমন মহানগর এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা, দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হলেও ভৈরবের মতো কাছের গন্তব্যের জন্য দিনের বেলার ট্রেনই বেশি সুবিধাজনক। যাঁরা আরাম ও নিরাপত্তা দুটোই চান তাঁদের জন্য স্নিগ্ধা বা এসি সিট শ্রেণি সবচেয়ে ভালো মূল্যের বিনিময়ে ভালো অভিজ্ঞতা দেয়। অন্যদিকে অল্প সময়ের যাত্রায় শোভন চেয়ারও যথেষ্ট আরামদায়ক।
ট্রেন না পেলে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা কী?
কোনো কারণে পছন্দের ট্রেনের টিকিট না পেলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে ভৈরবগামী বাস সার্ভিসও নিয়মিত চলাচল করে যদিও সড়কপথে সময় কিছুটা বেশি লাগে এবং যানজটের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও যাত্রা করা যায়। তবে এতে খরচ তুলনামূলক বেশি পড়ে।
যাঁরা মূলত সময়ানুবর্তিতা ও আরামকে প্রাধান্য দেন, তাঁদের জন্য ট্রেনই এখনও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আগে থেকে পরিকল্পনা করে টিকিট কাটলে সাধারণত বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনই পড়ে না। যাঁরা দেশের বাইরে কাজের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন এবং ভিসা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানতে চান, তাঁরা দুবাই ভিসা কবে খুলবে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ঢাকা থেকে ভৈরব যেতে সবচেয়ে কম সময় লাগে কোন ট্রেনে?
মহানগর প্রভাতী (৭০৪) সবচেয়ে কম সময়ে অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিটে ভৈরব পৌঁছে দেয়।
ঢাকা টু ভৈরব রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
শোভন শ্রেণিতে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০৫ টাকা, যা এগারোসিন্দুর প্রভাতী ও এগারোসিন্দুর গোধূলি ট্রেনে পাওয়া যায়।
এসি সিটের ভাড়া কত?
এসি সিট শ্রেণির ভাড়া ২৮২ টাকা, যা পারাবত এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ও চট্টলা এক্সপ্রেসে পাওয়া যায়।
রাতের কোন ট্রেনে এসি বার্থ সুবিধা আছে?
মহানগর এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা ট্রেনে এসি বার্থ শ্রেণি রয়েছে, যার ভাড়া ৪৭৬ টাকা।
টিকিট অনলাইনে না কাউন্টারে কাটা ভালো?
দুটি ব্যবস্থাই নির্ভরযোগ্য। তবে সময় বাঁচাতে ও ঘরে বসে সুবিধামতো শ্রেণি বেছে নিতে অনলাইন টিকিট বেশি সুবিধাজনক।
ট্রেনের সময়সূচী সংক্রান্ত সর্বশেষ ও সরকারি তথ্যের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কারণ বিশেষ দিন বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সময়সূচীতে সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে।






