হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর বগুড়া যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ট্রেন। বিমান বন্দর রেলস্টেশন থেকে সরাসরি বগুড়াগামী ট্রেন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সঠিক বিমান বন্দর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে সময়মতো টিকিট সংগ্রহ করে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা এড়ানো যায়। এই পোস্টে আমরা বিমান বন্দর থেকে বগুড়া যাওয়ার সকল ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, যাত্রাবিরতি ও টিকিট বুকিংয়ের নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করব।
বিমান বন্দর থেকে বগুড়া যেতে কয়টি ট্রেন চলে?
ঢাকা বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশন (বিমানবন্দর রেলস্টেশন) থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য বর্তমানে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। ট্রেনগুলো হলো: বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯), রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১) এবং লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)। এই তিনটি ট্রেনই বিমান বন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
বিমান বন্দর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
নিচের টেবিলে বিমান বন্দর থেকে বগুড়াগামী প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | বিমান বন্দর ছাড়ার সময় | বগুড়া পৌঁছার সময় | সাপ্তাহিক ছুটি | যাত্রা সময় |
|---|---|---|---|---|
| সকালের ট্রেন | ||||
| বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯) | সকাল ০৮:৫৩ টা | বিকাল ০৩:০০ টা | বুধবার | ৬ ঘণ্টা ০৭ মিনিট |
| রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১) | সকাল ০৯:৩৮ টা | বিকাল ০৩:৩৬ টা | সোমবার | ৫ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট |
| রাতের ট্রেন | ||||
| লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১) | রাত ১০:০৮ টা | ভোর ০৪:২০ টা | শুক্রবার | ৬ ঘণ্টা ১২ মিনিট |
দ্রষ্টব্য: বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকা কমলাপুর থেকে সকাল ৮:৩০ টায় ছেড়ে বিমান বন্দরে পৌঁছায় ৮:৫৩ টায়। রংপুর এক্সপ্রেস কমলাপুর ছাড়ে সকাল ৯:১০ টায়।
দ্রুততম ট্রেন: রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১) সবচেয়ে কম সময় নেয়—মাত্র ৫ ঘণ্টা ৫৮ মিনিটে বগুড়া পৌঁছে দেয়।
বগুড়া পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
বিমান বন্দর থেকে বগুড়ার দূরত্ব প্রায় ২৯৫-৩০০ কিলোমিটার। ট্রেনের ধরণ ও পথে থামার সংখ্যা অনুযায়ী সময়ের তারতম্য হয়:
- রংপুর এক্সপ্রেস: ৫ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট (সবচেয়ে দ্রুত)
- বুড়িমারী এক্সপ্রেস: ৬ ঘণ্টা ০৭ মিনিট
- লালমনি এক্সপ্রেস: ৬ ঘণ্টা ১২ মিনিট
আরও জেনে নিনঃ আজিমনগর টু সান্তাহার ট্রেনের সময়সূচী
বিমান বন্দর টু বগুড়া ট্রেনের ভাড়া তালিকা
ট্রেনের ভাড়া আসনের শ্রেণিভেদে ভিন্ন হয়। নিচে সর্বশেষ ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো (১৫% ভ্যাটসহ)। এই ভাড়াগুলো রেলওয়ের ই-টিকেটিং পোর্টাল ও বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত:
শোভন ও চেয়ার শ্রেণি
- শোভন চেয়ার (S_CHAIR): ৪৭৫ – ৫২৫ টাকা
প্রথম শ্রেণি ও স্নিগ্ধা
- প্রথম আসন (F_SEAT): ৬৫০ – ৭৫০ টাকা
- প্রথম বার্থ (F_BERTH): ২,০০০ – ২,১৫০ টাকা
- স্নিগ্ধা (SNIGDHA): ৭৫৯ – ১,০০১ টাকা
এসি শ্রেণি
- এসি সিট (AC_S): ৯০৯ – ১,২০২ টাকা
- এসি বার্থ (AC_B): ১,৩৫৭ – ১,৮৫০ টাকা
মনে রাখবেন: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়া পরিবর্তন করতে পারে। টিকিট কেনার আগে ই-টিকেটিং পোর্টালে গিয়ে সর্বশেষ ভাড়া দেখে নেওয়া ভালো।
গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবিরতি স্টেশনসমূহ
বগুড়াগামী ট্রেনগুলো পথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। নিচে ট্রেন অনুযায়ী মূল স্টেশনগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১) এর স্টেশন তালিকা
- ঢাকা কমলাপুর (ছাড়ে সকাল ০৯:১০ টা)
- বিমান বন্দর (পৌঁছায় ০৯:৩৩ টা, ছাড়ে ০৯:৩৮ টা)
- ইব্রাহিমাবাদ (বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব) (১১:৩৩ টা)
- চাটমোহর (১২:৩১ টা)
- নাটোর (০১:৪৩ টা)
- সান্তাহার (০২:৪৫ টা)
- তালোড়া (০৩:১৫ টা)
- বগুড়া (পৌঁছায় ০৩:৩৬ টা)
বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯) এর স্টেশন তালিকা
- ঢাকা কমলাপুর (ছাড়ে সকাল ০৮:৩০ টা)
- বিমান বন্দর (পৌঁছায় ০৮:৫৩ টা, ছাড়ে ০৮:৫৮ টা)
- ঈশ্বরদী বাইপাস (১২:৩০ টা)
- নাটোর (০১:০১ টা)
- সান্তাহার (০২:১৫ টা)
- পার্বতীপুর (০২:৩০ টা)
- বগুড়া (পৌঁছায় ০৩:০০ টা)
অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের সহজ পদ্ধতি
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং পোর্টাল eticket.railway.gov.bd থেকে ঘরে বসেই টিকিট বুকিং করা যায়। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রথমে পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন (একবার করলেই হবে)।
- লগইন করে “Train Information” অপশনে ক্লিক করুন।
- রুট নির্বাচন করুন: “ঢাকা বিমানবন্দর” থেকে “বগুড়া”।
- যাত্রার তারিখ ও পছন্দের ট্রেন সিলেক্ট করুন।
- আসনের শ্রেণি ও পছন্দের আসন বাছাই করুন।
- বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করুন।
- টিকিট ডাউনলোড করে রাখুন (ভ্রমণের সময় মোবাইলে দেখাতে পারবেন বা প্রিন্ট করে নিতে পারেন)।
টিপস: জনপ্রিয় ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই যাত্রার অন্তত ৭-১০ দিন আগে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া ভালো।
বিমান বন্দর থেকে বগুড়া যাত্রার টিপস
যাত্রা আরামদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
- যদি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে করে বিমান বন্দরে নামেন, তাহলে ইমিগ্রেশন ও লাগেজ সংগ্রহের পর ট্রেন ধরতে সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রাখুন। ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো বুদ্ধিমানের কাজ।
- রাতের ট্রেন (লালমনি এক্সপ্রেস) এ ভ্রমণ করলে হালকা চাদর বা জ্যাকেট সঙ্গে রাখুন। এসি কোচে ঠান্ডা বেশি থাকে।
- সকালে যাওয়ার জন্য রংপুর এক্সপ্রেস সবচেয়ে ভালো অপশন। এটি সকাল ৯:৩৮ টায় ছেড়ে বিকাল ৩:৩৬ টায় বগুড়া পৌঁছে দেয়।
- বড় লাগেজ থাকলে স্টেশনের লাগেজ কাউন্টার থেকে ট্যাগ নিন। আসনের পাশে বড় ব্যাগ রাখার জায়গা সীমিত।
- বগুড়ায় পৌঁছে গন্তব্যে যেতে প্রয়োজনে সিএনজি বা অটোরিকশা সহজলভ্য।
বগুড়া থেকে ঢাকা ফেরার ট্রেন
বগুড়া থেকে ঢাকায় ফেরার জন্যও ট্রেন আছে। ফেরার সময়সূচীটি জেনে রাখলে রিটার্ন টিকিট আগে বুকিং দেওয়া যায়। বগুড়া থেকে ঢাকাগামী ট্রেনগুলো হলো:
- রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭২): বগুড়া ছাড়ে বিকাল ০৪:০০ টায়, ঢাকা পৌঁছায় রাত ১০:৪৫ টায়
- বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮১০): বগুড়া ছাড়ে সকাল ১০:০৫ টায়, ঢাকা পৌঁছায় বিকাল ০৪:১০ টায়
- লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫২): বগুড়া ছাড়ে দুপুর ১২:৩৫ টায়, ঢাকা পৌঁছায় রাত ০৮:০৫ টায়
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বিমান বন্দর টু বগুড়া ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন কোনটি?
সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন হলো রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১), যা বিমান বন্দর থেকে বগুড়া পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ৫ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট।
বিমান বন্দর টু বগুড়া ট্রেনের ভাড়া সবচেয়ে কম কত?
সবচেয়ে কম ভাড়া শোভন চেয়ার শ্রেণিতে ৪৭৫-৫২৫ টাকা। এটি সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় শ্রেণি।
লালমনি এক্সপ্রেস কি বিমান বন্দর স্টেশনে থামে?
হ্যাঁ, লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১) বিমান বন্দর স্টেশনে থামে। এটি বিমান বন্দর ছাড়ে রাত ১০:০৮ টায় এবং বগুড়া পৌঁছায় ভোর ০৪:২০ টায়।
বুড়িমারী এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটির দিন কোনটি?
বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯) সপ্তাহে বুধবার বন্ধ থাকে। তাই বুধবার এই ট্রেনে বগুড়া যাওয়া যাবে না।
অনলাইনে টিকিট কাটতে কত দিন আগে বুকিং দিতে হয়?
রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়। তবে দ্রুত শেষ হওয়া ট্রেনের জন্য অন্তত ৭ দিন আগে বুকিং দেওয়া উত্তম।
বিমান বন্দর রেলস্টেশনের ফোন নম্বর জানতে চাই?
বিমান বন্দর রেলস্টেশনের ফোন নম্বর হলো ০২-৮৯২৪২৩৯। প্রয়োজনে স্টেশন মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
বগুড়া পৌঁছে কোথায় নামতে হবে?
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থামে। স্টেশনটি শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত। সেখান থেকে সিএনজি বা রিকশায় সহজেই যেকোনো গন্তব্যে যাওয়া যায়।






