চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রেলপথে যাতায়াত অত্যন্ত আরামদায়ক ও সময় সাশ্রয়ী। ব্যবসা কিংবা ঘুরাঘুরি যেকোনো প্রয়োজনে এই রুটে প্রতিদিন শত শত মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করেন। বর্তমানে এই পথে দুটি ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। একটি আন্তঃনগর ট্রেন মেঘনা এক্সপ্রেস এবং অন্যটি কমিউটার ট্রেন সাগরিকা এক্সপ্রেস। সঠিক সময় ও ভাড়া জানা থাকলে ভ্রমণ অনেক সহজ হয়। তাই চট্রগ্রাম টু চাঁদপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো।
চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের মধ্যে রেল দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। ট্রেন দুটির কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই তাই সপ্তাহের সাত দিনই আপনি এই রুটে ভ্রমণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী ট্রেনের সময়সূচী মাঝে মধ্যে পরিবর্তন হতে পারে।
চট্টগ্রাম টু চাঁদপুর ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
এই রুটে চলাচলকারী ট্রেন দুটির নাম মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস। মেঘনা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে বিকেলে ও সাগরিকা এক্সপ্রেস ছাড়ে সকালে। নিচের ছকে বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলোঃ
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছুটির দিন | চট্টগ্রাম ছাড়ার সময় | চাঁদপুর পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|---|
| মেঘনা এক্সপ্রেস | ৭২৯ | নেই | সন্ধ্যা ৬.০০ টা | রাত ১০.০০ টা |
| সাগরিকা এক্সপ্রেস | ২৯ | নেই | সকাল ৮.০০ টা | দুপুর ১২.৫০ মিনিট |
চট্টগ্রাম টু চাঁদপুর ট্রেনের ভাড়া তালিকা ২০২৬
ট্রেনের ভাড়া নির্ভর করে আপনি কোন শ্রেণীর আসনে ভ্রমণ করছেন তার ওপর। বাংলাদেশ রেলওয়ে এই রুটে শোভন, শোভন চেয়ার, প্রথম শ্রেণী, স্নিগ্ধা ও এসি আসনের ব্যবস্থা রেখেছে। নিচে আসনভেদে বিস্তারিত ভাড়া দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, এই মূল্যের সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট যুক্ত হবে ।
আপনার জন্যঃ ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী
মেঘনা এক্সপ্রেসের ভাড়া
মেঘনা এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় এতে আরামদায়ক আসন ও খাবার পরিবেশনের সুবিধা আছে ।
| আসনের ধরণ | টিকিটের মূল্য (ভ্যাটসহ) |
|---|---|
| শোভন | ১৬৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১৯৫ টাকা |
| প্রথম শ্রেণী (এফ সিট) | ২৯৯ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৩৭৪ টাকা |
| এসি সিট | ৪৪৯ টাকা |
| এসি বার্থ | ৬৭৩ টাকা |
সাগরিকা এক্সপ্রেসের ভাড়া
সাগরিকা এক্সপ্রেস একটি কমিউটার ট্রেন। এতে সাধারণত নন-এসি আসনই বেশি থাকে। এই ট্রেনের ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম ।
| আসনের ধরণ | টিকিটের মূল্য (প্রায়) |
|---|---|
| শোভন | ১৬৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১৯৫ টাকা |
| প্রথম শ্রেণী (এফ সিট) | ২৯৯ টাকা |
ট্রেনের স্টেশন ও যাত্রাবিরতি
চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর পৌঁছাতে মেঘনা এক্সপ্রেস পথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এই স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেনী, হাসানপুর, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, চিতোষী রোড, হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুর কোর্ট। সাগরিকা এক্সপ্রেসও প্রায় একই রুটে চলে, তবে কিছু ক্ষেত্রে স্টেশন সংখ্যা কম থাকতে পারে ।
চট্টগ্রাম টু চাঁদপুর ট্রেনের টিকিট কাটার উপায়
চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের ট্রেনের টিকিট আপনি দুভাবে কাটতে পারেন। প্রথমত, সরাসরি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে। দ্বিতীয়ত, অনলাইনে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং সেবা ব্যবহার করে। অনলাইনে টিকিট কাটতে যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে বুকিং দেওয়া যায়। অনলাইন টিকিট কাটার জন্য সরকারি ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd-এ গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করতে হবে। এরপর যাত্রার তারিখ, স্টেশন ও আসন নির্বাচন করে মোবাইল ব্যাংকিং বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে ।
শেষ কথা
চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর ভ্রমণের জন্য ট্রেনই একটি নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক মাধ্যম। সময়মতো চলাচল ও আরামদায়ক আসনের কারণে যাত্রীরা মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেসকে বেছে নেন। ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া হালনাগাদ থাকলে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা সহজ হয়। উপরের তথ্য অনুযায়ী টিকিট কেটে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করুন। তবে যাত্রা শুরুর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সময়সূচী যাচাই করে নেওয়াটা ভালো অভ্যাস ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
চট্টগ্রাম টু চাঁদপুর ট্রেনের সময়সূচী কেমন?
চট্টগ্রাম টু চাঁদপুর ট্রেনের ভাড়া কত টাকা?
সাগরিকা এক্সপ্রেস কি আন্তঃনগর ট্রেন?
চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম কী?
ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করতে হবে। এরপর যাত্রার স্টেশন ও তারিখ নির্বাচন করে আসন বাছাই করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে কেনা যায় ।






