বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন হলো যমুনা এক্সপ্রেস। ঢাকা থেকে সরিষাবাড়ী ও তারাকান্দিগামী যাত্রীদের জন্য এই ট্রেনটি যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। আপনি যদি ঢাকা থেকে জামালপুর বা তারাকান্দি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাহলে যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা আপনার জন্য খুবই জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা ট্রেনের বর্তমান সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা এবং টিকেট কাটার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি
যমুনা এক্সপ্রেস (Jamuna Express) ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত একটি নির্ভরযোগ্য আন্তঃনগর ট্রেন। এটি মূলত ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে এবং শেষ গন্তব্য হিসেবে জামালপুরের তারাকান্দি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রীদের সুবিধার্থে এই ট্রেনে এসি (AC) এবং নন-এসি উভয় ধরণের আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রেনটি তার দীর্ঘ যাতায়াত পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রীদের ওঠানামার জন্য বিরতি দেয়।
একজন যাত্রীর নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য যমুনা এক্সপ্রেস একটি আদর্শ পছন্দ। এই ট্রেনে নামাজের স্থান, সুপেয় পানি এবং নিরাপত্তার সুব্যবস্থা রয়েছে। যারা দিনের বেলা অফিস বা কাজ শেষ করে বিকেলের দিকে ঢাকা ত্যাগ করতে চান, তাদের জন্য যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা থেকে তারাকান্দি এবং তারাকান্দি থেকে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করে। এই ট্রেনের বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। অর্থাৎ সপ্তাহের সাত দিনই আপনি এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন। যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো যাতে আপনি আপনার ভ্রমণের সময়টি আগে থেকেই ঠিক করে নিতে পারেন।
ঢাকা থেকে তারাকান্দি (ট্রেন নং ৭৪৫)
ঢাকা থেকে তারাকান্দির উদ্দেশ্যে যমুনা এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে (১৬:৪৫) ছেড়ে যায়। এটি তারাকান্দি স্টেশনে পৌঁছায় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে (২২:৫৫)।
তারাকান্দি থেকে ঢাকা (ট্রেন নং ৭৪৬)
আবার ফিরতি পথে তারাকান্দি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি রাত ২টা ০০ মিনিটে (০২:০০) ছেড়ে আসে এবং ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে (০৭:৪৫)।
| রুট | ট্রেনের নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
| ঢাকা টু তারাকান্দি | ৭৪৫ | ১৬:৪৫ | ২২:৫৫ | নেই |
| তারাকান্দি টু ঢাকা | ৭৪৬ | ০২:০০ | ০৭:৪৫ | নেই |
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ঢাকা থেকে তারাকান্দি পৌঁছাতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লাগে। তবে রেললাইন বা সিগন্যালের কারণে সময়ের সামান্য তারতম্য হতে পারে।
জেনে রাখতে পারেনঃ একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
ঢাকা থেকে তারাকান্দি যাওয়ার পথে যমুনা এক্সপ্রেস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটি কয়েক মিনিট অবস্থান করে। নিচে বিরতি স্টেশনের নাম এবং সময়সূচী দেওয়া হলো:
ঢাকা থেকে তারাকান্দি যাওয়ার সময় বিরতি (৭৪৫)
- ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ১৭:১৭।
- জয়দেবপুর জংশন: পৌঁছানোর সময় ১৭:৪৭।
- শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ১৮:১৬।
- গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ১৮:৫৭।
- ময়মনসিংহ জংশন: পৌঁছানোর সময় ২০:০০।
- জামালপুর জংশন: পৌঁছানোর সময় ২১:২০।
- সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ২২:১৫।
তারাকান্দি থেকে ঢাকা আসার সময় বিরতি (৭৪৬)
- সরিষাবাড়ী স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ০২:১৭।
- জামালপুর জংশন: পৌঁছানোর সময় ০৩:১০।
- ময়মনসিংহ জংশন: পৌঁছানোর সময় ০৪:২০।
- গফরগাঁও স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ০৫:১২।
- শ্রীপুর স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ০৫:৪৮।
- জয়দেবপুর জংশন: পৌঁছানোর সময় ০৬:২০।
- ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন: পৌঁছানোর সময় ০৬:৫০।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং বিরতি স্টেশনের এই তালিকাটি যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে নামতে ও উঠতে সাহায্য করবে।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
ট্রেনের টিকিটের মূল্য সাধারণত আসনের ধরণের ওপর নির্ভর করে। যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন থেকে শুরু করে এসি বার্থ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির সিট রয়েছে। বর্তমান রেলওয়ে রেট অনুযায়ী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো (ভাড়ার সাথে ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য হতে পারে):
| আসনের বিভাগ | টিকেটের মূল্য (ভ্যাটসহ আনুমানিক) |
| শোভন | ১৮৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ২২০ টাকা |
| প্রথম সিট | ২৯৫ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ৪৪০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৪২০ টাকা |
| এসি সিট | ৫০৬ টাকা |
| এসি বার্থ | ৭৫৪ টাকা |
এই ভাড়ার তালিকা ঢাকা থেকে তারাকান্দি পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য। আপনি যদি মাঝপথে কোনো স্টেশনে নামেন, তবে ভাড়ার পরিমাণ আরও কম হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই ভাড়া পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে, তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ ভাড়ার হার যাচাই করে নেওয়া ভালো।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট এখন অনেক সহজেই সংগ্রহ করা যায়। আপনি মূলত দুইভাবে টিকেট কাটতে পারেন:
রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী যাত্রার আগে আপনি যেকোনো অনুমোদিত রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। স্টেশনে গিয়ে গন্তব্য এবং আসনের ধরণ বললে তারা আপনাকে টিকেট দিয়ে দেবে।
অনলাইন টিকেট বুকিং
বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ অনলাইনেই ট্রেনের টিকেট কাটতে পছন্দ করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কেনা সম্ভব। অনলাইনে টিকেট কাটার ক্ষেত্রে আপনাকে অগ্রিম রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইন টিকেট পাওয়া যায়।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা
একটি আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে যমুনা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের জন্য আধুনিক অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আরামদায়ক আসন: দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি দূর করতে এই ট্রেনের আসনগুলো বেশ আরামদায়ক।
- খাদ্য সরবরাহ: ট্রেনে হালকা নাস্তা এবং চা-কফির ব্যবস্থা রয়েছে।
- নামাজের ঘর: মুসলিম যাত্রীদের জন্য ট্রেনে নামাজের আলাদা জায়গা বরাদ্দ থাকে।
- নিরাপত্তা: যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশ সর্বদা নিয়োজিত থাকে।
- পরিচ্ছন্নতা: ট্রেনের ভেতর এবং টয়লেটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হয়।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন ভ্রমণের কিছু টিপস
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী আপনার যাত্রা সুন্দর করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
- ট্রেনের যাত্রার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করুন।
- যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনেক সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই স্টেশনে থাকা ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড খেয়াল করুন।
- আপনার ব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় মালপত্রের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।
- টিকেট ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ দণ্ডনীয় অপরাধ, তাই অবশ্যই সঠিক টিকেট সংগ্রহ করে যাতায়াত করুন।
- ট্রেন ছাড়ার সময় জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করবেন না।
প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি কোন কোন দিন চলাচল করে?
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। এটি সপ্তাহের প্রতিদিন ঢাকা থেকে তারাকান্দি এবং তারাকান্দি থেকে ঢাকা রুটে চলাচল করে।
ঢাকা থেকে তারাকান্দি যেতে যমুনা এক্সপ্রেস কত সময় নেয়?
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ঢাকা থেকে তারাকান্দি পৌঁছাতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লাগে।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কি অনলাইনে পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা রেল সেবা অ্যাপের মাধ্যমে যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট অনলাইনে কেনা যায়।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে তারাকান্দি রুটে যমুনা এক্সপ্রেসের সর্বনিম্ন ভাড়া শোভন শ্রেণির জন্য ১৮৫ টাকা।
যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ৭৪৫ এবং ৭৪৬ নম্বর মানে কী?
৭৪৫ নম্বর হলো ঢাকা থেকে তারাকান্দিগামী ট্রেনের নম্বর এবং ৭৪৬ নম্বর হলো তারাকান্দি থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের নম্বর।
শেষ কথা
যমুনা এক্সপ্রেস ঢাকা এবং তারাকান্দি রুটের একটি নির্ভরযোগ্য ট্রেন। যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়ার তালিকা জানা থাকলে আপনার যাত্রা পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। স্বল্প খরচে এবং নিরাপদে পৌঁছাতে এই আন্তঃনগর ট্রেনটি যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেয়েছেন। আপনার রেল ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও নিরাপদ হোক।






