ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ রুটে যাতায়াতের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য নাম হলো ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত এই আন্তঃনগর ট্রেনটি যাত্রী সেবায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই ট্রেনে করে তাদের গন্তব্যে যাতায়াত করেন। আপনি যদি ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ বা দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকায় আরামদায়ক ও দ্রুত ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
এই পোষ্টে আমরা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানানোর পাশাপাশি কোন কোন স্টেশনে ট্রেনটি থামে এবং টিকেটের মূল্য কত ? এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করবো।
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ এবং দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করে। এই ট্রেনের একটি বড় সুবিধা হলো এর কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। অর্থাৎ সপ্তাহের সাত দিনই আপনি এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন। ট্রেনটি দীর্ঘ পথে যাত্রী সাধারণের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করে।
নিচে ছকের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী উপস্থাপন করা হয়েছে:
| ট্রেনের রুট | ট্রেনের নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
| ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ | ৭৪৩ | ১৮:১৫ (সন্ধ্যা ৬টা ১৫) | ২৩:৫০ (রাত ১১টা ৫০) | নেই |
| দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা | ৭৪৪ | ০৬:৪০ (সকাল ৬টা ৪০) | ১১:৫৫ (সকাল ১১টা ৫৫) | নেই |
ঢাকা থেকে রওনা দেওয়ার পর রাতে পৌঁছানোর কারণে এই ট্রেনটি চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী ২০২৬
একটি আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস সব স্টেশনে থামে না। নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এটি বিরতি দেয় যাতে যাত্রীরা সহজে উঠতে ও নামতে পারেন। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন পৌঁছানোর সময় নিচে উপস্থাপন করা হয়েছে:
| বিরতি স্টেশনের নাম | ঢাকা থেকে (৭৪৩) পৌঁছানোর সময় | দেওয়ানগঞ্জ থেকে (৭৪৪) পৌঁছানোর সময় |
| ঢাকা (কমলাপুর) | ১৮:১৫ (ছাড়ার সময়) | ১১:৫৫ (পৌঁছানোর সময়) |
| বিমান বন্দর | ১৮:৩৮ | ১১:১৪ |
| জয়দেবপুর | ১৯:০৫ | — |
| গফরগাঁও | ২০:০৭ | ০৯:৫২ |
| ময়মনসিংহ | ২১:১০ | ০৮:৫০ |
| পিয়ারপুর | ২১:৫৩ | ০৮:১৬ |
| নন্দিনা | ২২:১৫ | ০৭:৫৩ |
| জামালপুর | ২২:৩০ | ০৭:৩৫ |
| মেলান্দহ বাজার | ২২:৫০ | ০৭:১৪ |
| ইসলামপুর | ২৩:১১ | ০৬:৫৩ |
| দেওয়ানগঞ্জ বাজার | ২৩:৫০ (পৌঁছানোর সময়) | ০৬:৪০ (ছাড়ার সময়) |
ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে প্রায় ৯ থেকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রীদের সেবা প্রদান করে থাকে।
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
রেলে ভ্রমণের একটি বড় সুবিধা হলো এর সাশ্রয়ী ভাড়া। ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা আসন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এই ট্রেনে সাধারণত শোভন চেয়ার এবং স্নিগ্ধা (এসি) শ্রেণির আসন পাওয়া যায়। তবে আসনভেদে প্রথম সিট বা বার্থের সুবিধা থাকতে পারে।
নিচে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত ভাড়ার তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে:
| আসনের ধরণ | টিকেটের মূল্য (ভ্যাটসহ আনুমানিক) |
| শোভন চেয়ার | ২৫০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি) | ৪৭৮ টাকা |
| সুলভ/শোভন | ১৮৫ টাকা (সর্বনিম্ন) |
উল্লেখ্য যে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়ার পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে অনলাইন বা স্টেশন থেকে সঠিক ভাড়া যাচাই করে নেওয়া ভালো।
আরও জেনে নিনঃ উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ২০২৬
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট কাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আপনি দুইভাবে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন:
- অনলাইন টিকেট বুকিং: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই টিকেট কাটতে পারেন।
- স্টেশন কাউন্টার: সরাসরি রেলস্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে লাইন ধরে টিকেট সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে টিকেট পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় ট্রেন হওয়ার কারণে অনেক সময় টিকেটের সংকট দেখা দেয়, তাই ভ্রমণের অন্তত ৩-৪ দিন আগেই টিকেট কেটে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি কবে?
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। এটি সপ্তাহের প্রতিদিন নিয়মিত চলাচল করে।
ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাতে ট্রেনটির প্রায় ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় লাগে।
ট্রেনে কি খাবারের ব্যবস্থা আছে?
হ্যাঁ, আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় এতে হালকা খাবার বা ক্যাটারিং সার্ভিস সাধারণত পাওয়া যায়। তবে যাত্রীরা চাইলে নিজ দায়িত্বে খাবার বহন করতে পারেন।
অনলাইনে টিকেট কাটার জন্য কি একাউন্ট প্রয়োজন?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে একটি সচল একাউন্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে ভেরিফিকেশন করা বাধ্যতামূলক।
শেষ কথা
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ঢাকা ও দেওয়ানগঞ্জের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এক আস্থার প্রতীক। স্বল্প খরচে এবং দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এই ট্রেনের বিকল্প খুব কমই আছে। আমরা আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পেয়েছেন। আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।






