তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন, যা ঢাকা থেকে জামালপুর হয়ে দেওয়ানগঞ্জ বাজার পর্যন্ত চলাচল করে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গ যাতায়াত করেন। আরামদায়ক কোচ, নির্ভরযোগ্য সময়সূচী এবং দ্রুত গতি এই ট্রেনের প্রধান আকর্ষণ। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং পারিবারিক ভ্রমণকারীদের কাছে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন দীর্ঘদিন ধরেই আস্থার নাম।
এই লেখায় তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬, ভাড়া, অনলাইন টিকিট বুকিং পদ্ধতি, ইতিহাস, সুবিধা, স্টপেজ তালিকা এবং প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের বিস্তারিত তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে এবং প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে। ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে সকাল বেলা ছেড়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ে দেওয়ানগঞ্জ বাজার পৌঁছায়।
ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ বাজার সময়সূচী ২০২৬
ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী নিচের ছকে দেওয়া হলোঃ
| স্টেশনের নাম | ট্রেন ছাড়ার সময় |
|---|---|
| কমলাপুর | সকাল ৭:৩০ |
| বিমানবন্দর | সকাল ৭:৫৭ |
| জয়দেবপুর | সকাল ৮:২৬ |
| গফরগাঁও | সকাল ৯:২৮ |
| ময়মনসিংহ | সকাল ১০:২০ |
| পিয়ারপুর | সকাল ১০:৫৫ |
| জামালপুর | সকাল ১১:৩০ |
| মেলান্দহ বাজার | সকাল ১১:৫২ |
| ইসলামপুর বাজার | দুপুর ১২:১৫ |
| দেওয়ানগঞ্জ বাজার | দুপুর ১২:৪০ |
এই সময়সূচী অনুযায়ী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন খুব সহজেই ঢাকা থেকে জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জ অঞ্চলের যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে দেয়।
আরও জেনে নিনঃ সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ঢাকা সময়সূচী ২০২৬
ফিরতি পথে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে বিকেল ৩:০০ টায় ছেড়ে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে রাত ৮:২৫ টায় পৌঁছায়।
| স্টেশনের নাম | ট্রেন ছাড়ার সময় |
|---|---|
| দেওয়ানগঞ্জ বাজার | বিকেল ৩:০০ |
| ইসলামপুর বাজার | বিকেল ৩:২৫ |
| মেলান্দহ বাজার | বিকেল ৩:৪৮ |
| জামালপুর | বিকেল ৪:১০ |
| পিয়ারপুর | বিকেল ৪:৪৫ |
| ময়মনসিংহ | বিকেল ৫:২৫ |
| গফরগাঁও | সন্ধ্যা ৬:২০ |
| জয়দেবপুর | সন্ধ্যা ৭:১০ |
| বিমানবন্দর | রাত ৭:৪৫ |
| কমলাপুর | রাত ৮:২৫ |
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইতিহাস
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন প্রথম চালু হয় ১৯৯৮ সালে। ব্রিটিশ আমলে দেওয়ানগঞ্জ অঞ্চলে চিনিকল স্থাপনের পর বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে চিনিকল বন্ধ হয়ে গেলে এই রুটটি অনেক দিন অব্যবহৃত থাকে। উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনায় এনে এই রুটে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়।
শুরুর দিকে এটি একটি সাধারণ মানের আন্তঃনগর ট্রেন হলেও সময়ের সাথে সাথে কোচ উন্নত করা হয়েছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ান এয়ার ব্রেক কোচ ব্যবহারের ফলে যাত্রা হয়েছে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন উত্তরবঙ্গবাসীর নির্ভরযোগ্য যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়ে থাকে।
প্রধান সুবিধাসমূহ
- দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যাত্রা
- এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের আসন
- পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক কোচ
- নির্ধারিত সময়সূচী মেনে চলাচল
- অনলাইন টিকিট বুকিং সুবিধা
- নির্দিষ্ট পরিমাণ মালামাল বহনের সুযোগ
- দীর্ঘ রুটে তুলনামূলক কম সময়ে পৌঁছানো
এই সুবিধাগুলোর কারণে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন প্রতিদিন যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকে।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া তালিকা
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া শ্রেণিভেদে আলাদা। নিচে ভ্যাটসহ ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো।
| আসনের ধরন | ভাড়া (টাকা) |
|---|---|
| এসি কেবিন | ৭৭০ |
| এসি সিট | ৫২০ |
| প্রথম শ্রেণি | ৪৪০ |
| ফার্স্ট সিট | ২৯৫ |
| শোভন চেয়ার | ২২০ |
ভাড়া তুলনামূলকভাবে সহনীয় হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের কাছে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন বেশ জনপ্রিয়।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের অনলাইন টিকিট বুকিং
বর্তমানে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট খুব সহজেই অনলাইনে বুক করা যায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এরপর যাত্রার তারিখ, আসন শ্রেণি এবং গন্তব্য নির্বাচন করে টিকিট কাটা যায়।
অনলাইন টিকিট কাটার ধাপ
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
- রেজিস্ট্রেশন বা লগইন
- তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন নির্বাচন
- যাত্রার তারিখ ও আসন নির্বাচন
- অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন
এই পদ্ধতিতে ঘরে বসেই নিরাপদে টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন মোট ৯টির বেশি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলো হলো কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ, জামালপুর, মেলান্দহ বাজার, ইসলামপুর বাজার এবং দেওয়ানগঞ্জ বাজার।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন কোনটি
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে। বাকি ছয় দিন নিয়মিত চলাচল করে।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোড কত
ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ রুটের ট্রেন কোড ৭০৭ এবং দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটের ট্রেন কোড ৭০৮।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি কত
এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ অবস্থান কীভাবে জানা যাবে
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল অ্যাপ, ওয়েবসাইট অথবা এসএমএস সেবার মাধ্যমে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানা যায়।
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন কত বছর ধরে চলাচল করছে
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন ১৯৯৮ সাল থেকে চলাচল করছে এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যাত্রীসেবা দিয়ে আসছে।
শেষ কথা
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন। নির্ভরযোগ্য সময়সূচী, সাশ্রয়ী ভাড়া এবং আরামদায়ক যাত্রার কারণে এই ট্রেনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। যারা ঢাকা থেকে জামালপুর বা দেওয়ানগঞ্জ যাতায়াত করতে চান, তাদের জন্য তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন একটি আদর্শ পছন্দ। ভ্রমণের আগে সময়সূচী ও টিকিট তথ্য জেনে নিলে যাত্রা হবে আরও স্বস্তিদায়ক।






