বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানেন কি? বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিশেষ করে রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষদের জন্য আরামদায়ক এবং দ্রুতগতির বাহন হিসেবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম। আপনি যদি উত্তরবঙ্গের এই রুটে নিরাপদ ও বিলাসবহুল ভ্রমণ করতে চান, তবে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও এর সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বনলতা এক্সপ্রেসের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, বিরতি স্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করব।
বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য
বনলতা এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭৯১/৭৯২) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন। এটি মূলত ঢাকা থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত চলাচল করে। ২০১৯ সালে এই ট্রেনটি চালু হওয়ার পর থেকে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক কমেছে। ট্রেনটির নামকরণের পেছনে রয়েছে এক চমৎকার ইতিহাস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নক্ষত্র কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’-এর নামানুসারে এই ট্রেনটির নামকরণ করেন।
এই ট্রেনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় পরিপূর্ণ। যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এতে রয়েছে:
- আধুনিক বায়ো-টয়লেট সুবিধা।
- রিলাইনার চেয়ার যা ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করে।
- পুরো ট্রেনটি ওয়াই-ফাই সংযোগের আওতাভুক্ত।
- প্রতিটি কোচে রয়েছে এলইডি ডিসপ্লে।
- অন্যান্য সাধারণ ট্রেনের তুলনায় এর গতি বেশি এবং সময়ানুবর্তিতা বেশ প্রশংসনীয়।
বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
যারা নিয়মিত ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে যাতায়াত করেন তাদের জন্য বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানাটা খুব জরুরি। এই ট্রেনটি সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে এবং ১দিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌঁছায় ও পুনরায় সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নিচে ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী একটি ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| রুটের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটির দিন |
| ঢাকা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ৭৯১ | দুপুর ০১:৩০ | সন্ধ্যা ০৭:৩০ | শুক্রবার |
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ টু ঢাকা | ৭৯২ | সকাল ০৬:০০ | সকাল ১১:৩০ | শুক্রবার |
সতর্কীকরণ: শুক্রবার বনলতা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিন আপনি এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন। যাত্রার পরিকল্পনার সময় এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন।
যাত্রাপথে বিরতি স্টেশন ও সময়
বনলতা এক্সপ্রেস মূলত একটি বিরতিহীন বা নন-স্টপ ট্রেন হিসেবে পরিচিত হলেও যাত্রীদের সুবিধার জন্য এটি নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে থামে। বিশেষ করে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন এবং রাজশাহী স্টেশনে এর যাত্রাবিরতি রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, ঢাকা থেকে যাওয়ার পথে এটি বিমানবন্দর স্টেশনে থামলেও, আসার পথে সাধারণত সরাসরি কমলাপুর স্টেশনে প্রবেশ করে। নিচে বিরতি স্টেশনের সময়সূচী দেওয়া হলো:
| স্টেশনের নাম | ঢাকা থেকে (৭৯১) ছাড়ার সময় | চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে (৭৯২) ছাড়ার সময় |
| ঢাকা (কমলাপুর) | ১৩:৩০ | ১১:৩০ (পৌঁছায়) |
| ঢাকা বিমানবন্দর | ১৩:৫৩ | — |
| রাজশাহী | ১৮:০৫ | ০৬:৫০ |
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১৯:৩০ (পৌঁছায়) | ০৬:০০ |
রাজশাহী স্টেশনে ট্রেনটি কিছুটা দীর্ঘ সময় বিরতি দেয় কারণ এখানে অনেক যাত্রী ওঠা-নামা করেন এবং ইঞ্জিনের কিছু কারিগরি চেকিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
আরও জানুনঃ মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
বনলতা এক্সপ্রেস টিকেটের মূল্য ও ভাড়ার তালিকা
বিলাসবহুল এবং দ্রুতগামী হওয়ার কারণে বনলতা এক্সপ্রেসের টিকেটের দাম সাধারণ লোকাল বা মেইল ট্রেনের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এর সেবার মানের তুলনায় বনলতা এক্সপ্রেস টিকেটের মূল্য যাত্রীদের কাছে কম বলা যায় । এই ট্রেনে মূলত তিনটি ক্যাটাগরির আসন ব্যবস্থা রয়েছে: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি) এবং এসি সিট।
নিচে ১৫% ভ্যাটসহ টিকেটের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
| আসন বিভাগ (Class) | টিকেটের মূল্য (টাকায়) |
| শোভন চেয়ার (Shovan Chair) | ৫১৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (Snigdha – AC) | ৯৭৮ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ১১৭৩ টাকা |
টিপস: ঈদের সময় বা সরকারি ছুটির দিনগুলোতে টিকেটের প্রচুর চাহিদা থাকে। তাই ঝামেলা এড়াতে ভ্রমণের অন্তত ১০ দিন আগে অনলাইনে বা কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ‘Rail Sheba’ অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারেন।
কেন বনলতা এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করবেন?
ঢাকা টু রাজশাহী রুটে আরও বেশ কিছু ট্রেন চলাচল করে, যেমন সিল্কসিটি বা পদ্মা এক্সপ্রেস। কিন্তু বনলতা এক্সপ্রেস কেন আলাদা?
- সময় সাশ্রয়: বিরতিহীন হওয়ার কারণে এটি কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে এটি মাত্র ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা সময় নেয়।
- নিরাপত্তা: আধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং উন্নত বগিও কোচ থাকার কারণে এতে ভ্রমণ অত্যন্ত নিরাপদ।
- পরিচ্ছন্নতা: বায়ো-টয়লেট এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তদারকির ফলে ট্রেনটি সবসময় পরিষ্কার থাকে।
প্রশ্ন-উত্তর
বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন কোনটি?
বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলো শুক্রবার। এদিন ট্রেনটি চলাচল করে না।
ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে বনলতা এক্সপ্রেসে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে বনলতা এক্সপ্রেসে সাধারণত ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে, যা সড়কপথের চেয়ে অনেক কম।
আমি কি বিমানবন্দর স্টেশন থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের টিকিট কাটতে পারব?
হ্যাঁ, ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে এই ট্রেনের স্টপেজ আছে (যাওয়ার পথে), তাই সেখান থেকেও নির্দিষ্ট কোটার টিকিট পাওয়া সম্ভব। তবে অনলাইনে টিকিট কাটা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
শেষ কথা
উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বনলতা এক্সপ্রেস একটি মাইলফলক বলা যায়। আপনি যদি আরামদায়ক, নিরাপদ ও দ্রুত সময়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাতায়াত করতে চান? তাহলে এই ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। ওপরে দেওয়া বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন। মনে রাখবেন, ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক।






